নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ডিসিপিডব্লিউপি
মাসে দু’বার ফেডারেল ভবনে হাজিরা দিতে হয়-এমন অবস্থায় দিনাতিপাতকারি একটি চক্র ইমিগ্রেশনের পরামর্শ সহ নানাবিধ আইনী সহায়তার টোপ দিয়ে অনেক প্রবাসীকে সর্বশান্ত করেছে। ফেডারেল ক্রিমিনাল হিসেবে দন্ডিত হবার পর আইনের মারপ্যাচে প্যারলে মুক্ত আরেকটি চিহ্নিত চক্র অবৈধভাবে বসবাসরতদের পাশে দাঁড়ানোর নানা সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সহজ-সরল প্রবাসীদের পকেট হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকে লিগ্যাল এডভাইসের নামে এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে আবেদন প্রস্তুত করার নামে, এমনকি ইমিগ্রেশন কোর্ট কিংবা এসাইলাম অফিসারদের সাথে সম্পর্কের কথা বলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এটর্নী না হয়েও কেউ কেউ নিজেকে এটর্নী পরিচয়ে ভীতসন্ত্রস্ত কাগজপত্রহীনদের কষ্টার্জিত অর্থ লুটে নিচ্ছে। অঙ্গিকার অনুযায়ী কোন সুফল না আসার ব্যাপারে ঐসব চক্রকে প্রশ্ন করলে উল্টো হুমকি দেয়া হয় যে, বেশী বাড়াবাড়ি করলে আইসের কাছে রিপোর্ট করা হবে। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাগজপত্রহীন অসহায় অভিবাসীগণকে সেবা প্রদানের নামে কেউ যাতে প্রতারিত করতে না পারে সেজন্যে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে পাশ হওয়া দুটি বিল (ইন্ট্রোডাকশন-২৫ এ এবং ৯৮০-এ) ১ আগস্ট আইনে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী ষাড়াশি অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে লাখ লাখ কাগজপত্রহীন মানুষেরা নতুন করে যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সে অভিপ্রায়ে কঠোর নজরদারি এবং প্রতারক চক্রকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান কল্পে এই বিল উত্থাপন করেছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’ত কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ। এরফলে কেউ যদি প্রতারণা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে জরিমানাসহ দন্ডের প্রক্রিয়া অবলম্বন করা নিশ্চিত হলো। এবং নয়া এই বিধি সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করার জন্যে সর্বত্র প্রচারণা চালানো হবে এখোন থেকে। জাল-জালিয়াতিতে লিপ্তদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে সকলে যেন সোচ্চার হয়-সে আহবান জানানো হয়েছে সিটির পক্ষ থেকে।
জানা গেছে, মেয়র অফিসের ইমিগ্রেশন সাপোর্ট হটলাইন থেকে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব নিউ আমেরিকান’র হটলাইনে অভিবাসনের আইনী পরামর্শের নামে প্রতারণার ৬৪টি ঘটনা জানানো হয় গত বছরের জানুয়ারির পর। এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ‘দ্য ডিপার্টমেন্ট অব কঞ্জ্যুমার এ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন’র মাঠ পর্যায়ের এজেন্টরা ৭৫০টি প্রতিষ্ঠানে তদন্ত চালিয়েছে। এরমধ্যে ৮০টিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।
সিটি কাউন্সিলের স্পিকার আদ্রিয়েনা এডামস এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নানা পদক্ষেপে আমাদের অভিবাসী সমাজ যখোন সন্ত্রস্ত, তেমন অবস্থায় সকল নাগরিকের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে আমরা পিছপা হবো না। এই নয়া আইনের বলে অভিবাসনের আইনী সেবা প্রদানের আড়ালে যারা প্রতারণা করছে তাদেরকে শাস্তির আনা সহজ হলো। সময়ের প্রয়োজনে এমন একটি বিল পাশে যথাযথ ভ’মিকা রাখার জন্যে কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ এবং জুলি ওনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইন্টোডাকশন ২০৫-এ এখোন ২০২৫ সালের ৯৭ নম্বর বিধি হিসেবে পরিচিত হবে। সিটির সংশ্লিষ্ট দফতর এখোন অধিকতর ক্ষমতা পেল এহেন প্রতারণামূলক আচরণ প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনা তৈরীর জন্যে। গণমাধ্যমে প্রচারণার অর্থ-সহায়তাও পাবে ‘দ্য ডিপার্টমেন্ট অব কঞ্জ্যুমার এ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন’।
Posted ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর