ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী বিজ্ঞাপণ: ‘স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ো, অণ্যথায় ধরা পড়বেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী বিজ্ঞাপণ: ‘স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ো, অণ্যথায় ধরা পড়বেই’

সাড়াশী অভিযান সত্বেও অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার-প্রক্রিয়ায় আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি সাধিত না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজ্ঞাপণ-প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। ‘স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ো এবং ধরপাকড়ের যন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকো। এক্ষুণি নিজ দেশে চলে যাও, অণ্যথায় আমরা তোমাকে খুঁজে বের করবো এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করবোই। এরপর আর কখনোই তুমি যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে না’-এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি বিজ্ঞাপণ সোমবার প্রচারিত হয়। আর এমন হুশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমের কন্ঠে। যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন দফতর হচ্ছে এই মন্ত্রীর অধীনে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন বিভিন্ন দেশের ৩ লাখের অধিক মানুষ মেক্সিকো-তে অবস্থান করছে এবং তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছেন সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার জন্যে। এছাড়া, আরো কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন চলমান অভিযান থেকে বাঁচার জন্যে ভিন্ন ঠিকানায়-এদের উদ্দেশ্যেই বিজ্ঞাপণ তৈরী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারের অভিযান শুরুর পাশাপাশি নতুন করে যাতে আর কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারে সেজন্যে ট্রাম্পের নির্দেশে মেক্সিকো সীমান্ত বরাবর ৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরফলে সীমান্ত রক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার হার একেবারে কমেছে। ২০২৩ সালে দৈনিক গড়ে ৫ হাজারের অধিক বিদেশী টেক্সাসে ঢুকে পড়েছে। সে সংখ্যা গত জানুয়ারি থেকে কমে ৫০ জনে নেমেছে। এর ফলে সেনা মোতায়েনের কোন সাফল্য দেখছে না ক্ষোদ ট্রাম্প প্রশাসনই। অনেকে মন্তব্য করছেন মার্কিন সৈনিকদের সীমান্ত পাহাড়ার জন্যে অযথা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মেক্সিকো বরাবর ২১০০ মাইল সীমানা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর সিংহভাগই টেক্সাস বরাবর। ডেল রায়ো, ঈগল পাস সহ বেশ কটি এলাকা দিয়ে আগে হাজার হাজার বিদেশী যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেই এসাইলাম প্রার্থনা করেছে। এরপর এদেরকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় অথবা প্যারলে মুক্তি দেয় বাইডেন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশে প্যারলে মুক্তিপ্রাপ্তদের ডেবিট কার্ড দেয়া হয় খাদ্য-সামগ্রি ক্রয়ের জন্যে। পাশাপাশি থাকার ব্যবস্থা করা হয় হোটেল-মোটেলে ‘জামাই আদরে’। এমন ব্যবস্থায় ক্ষোদ সিটিজেনরাও বিরক্ত হয়েছিলেন। আর সে সুযোগেই ডনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন তাড়ানোকে তার নির্বাচনী এজেন্ডায় অন্যতম প্রধান হিসেবে বেচে নেন এবং তার সুফলও পেয়েছেন নভেম্বরের ব্যালট যুদ্ধে। তবে প্রথম মেয়াদের শেষ অর্থ বছর তথা ২০১৯ অর্থ বছর তিনি বহিষ্কার করেছিলেন ২৬৭০০০ অবৈধ অভিবাসী। সে বছর ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের টার্গেট করা হয়েছিল অর্থাৎ দৈনিক গড়ে ২৭০০ জন বহিষ্কার করা উচিত ছিল। কার্যত: তার অর্ধৈকও পূরণ হয়নি। একইদশা বর্তমানের অভিযানেরও। টার্গেট দেয়া হয়েছে দৈনিক কমপক্ষে ১২০০ জন গ্রেফতারের, ২১ জানুয়ারির পর দৈনিক তা দৃশ্যমান হচ্ছে এক হাজারেরও কম। অভিবাসন নিয়ে কর্মরতরা অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি-ধমকির সফলতার প্রশংসা করছেন। কারণ, সীমান্ত রক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে বেআইনীভাবে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার প্রবণতা একেবারেই কমেছে। তেমনি অবস্থায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজ্ঞাপণ-প্রচারণার সুফলও আশা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায়ও বাংলাদেশের অনেক যুবক দালালকে ২৫ লাখ থেকে ২৮ টাকা করে দিয়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে মেক্সিকো-তে অবস্থান করছেন বলে কম্যুনিটি সূত্রে জানা গেছে। তারা দালালের পরামর্শ অনুযায়ী বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার অপেক্ষায় আছেন। অভিবাসন নিয়ে কর্মরত মার্কিন আইনজীবীরা বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন। কারণ, পরিবর্তিত বিধি অনুযায়ী সীমান্ত রক্ষীর হাতে ধরা পড়লে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হচ্ছে না, সরাসরি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে মেক্সিকো-তে। মেক্সিকো সরকারও এমন পরিস্থিতির শিকারদের ঠাঁই দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

 

Facebook Comments Box

Posted ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us