নিউইয়র্ক প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ‘প্রবাসীদের ভোটাধিকার’ শীর্ষক সেমিনার

আনিসুর রহমান   প্রিন্ট
শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিউইয়র্ক প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ‘প্রবাসীদের ভোটাধিকার’ শীর্ষক সেমিনার

সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন কন্সাল জেনারেল মোজাম্মেল হক। পাশে সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি মমিন মজুমদার। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

নিউইয়র্কে ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় ‘প্রবাসীদের ভোটাধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারের বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে আন্তরিকতার সংকট বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করা হয়। ‘দেই দিচ্ছি’ বলে বিগত সকল সরকারের মত প্রবাসীরা এই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও অবহেলিত হয়ে থাকবেন-এটা কারো কাম্য ছিল না। কারণ, বিগত দেড় দশকে এই প্রবাসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন বেগবান ছিল। প্রবাসীদের নানা কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সাথে দেন-দরবারের ঘটনাবলি বাংলাদেশের মানুষকে উজ্জীবত রেখেছে-এটা ভুলে গেলে চলবে না।

সময়ের প্রয়োজনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেমিনারের আয়োজন করেছিল ‘নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’। সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সেক্রেটারি মমিন মজুমদার। কম্যুনিটির সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারি ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন সেমিনারে। গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের মূল বিষয়ের ওপর বক্তব্যকালে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, যে দেশের নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও সার্বভৌম থাকে তাহলে সে দেশে করাপশন হওয়ার আশংকা খুবই কম। যে দলই ক্ষমতায় আসুক তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করতে পারবে না। কারণ, ৫ বছর পর আবারো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় ভোটাররা কখনোই দুর্নীতিবাজদের ম্যান্ডেট দেবেন না।

সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

এটর্নী মঈন আরো বলেন, ভোটাধিকারের পূর্বশর্ত হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র না থাকলে তো ভোটাধিকারের কোন প্রয়োজন নেই। আমরা বিগত সরকারের আমলে দেখেছি ভোটের কোন প্রয়োজন ছিল না। এখোন যে সরকার ক্ষমতায় আসছে, তাদের কাছে আমাদের জোর দাবি যে আমাদের ভোটাধিকার দিতে হবে। ভোটাধিকার কিন্তু আছে। তবে প্রবাস থেকে কীভাবে দেবেন? খুবই কমপ্লিকেটেড, কারণ বাংলাদেশ এমন দেশ নয়——, , আমেরিকার মত উন্নত দেশেও অনলাইনে আমরা ভোট দিতে পারি না। তাই বাংলাদেশে অনলাইনে ভোট দেবেন? সেটি অনেক দূরের কথা। আমেরিকায় ডাক যোগে আমরা ভোট দিয়ে থাকি। ব্যালট সংগ্রহ করে ডাকযোগেই তা নির্বাচন কমিশনে ফেরৎ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এজন্যে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগে। আমরা যারা আমেরিকায় আছি তাদের বাংলাদেশ থেকে কিংবা কন্স্যুলেট অফিস থেকে ব্যালট সংগ্রহের পর ডাকেযোগে তা বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কতসময় লাগবে-সেটি বিবেচনায় রাখা জরুরী। তাই অবান্তর প্রসঙ্গেও অবতারণার চেয়ে বাস্তবভিত্তিক পন্থার কথা ভাবা উচিত।

সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন গিয়াস আহমেদ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

এটর্নী মঈন কন্সাল জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো উল্লেখ করেন, আমরা যারা বিদেশে রয়েছি এবং বাংলাদেশের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছি, তারা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও সুযোগ পাই। আন্তর্জাতিক এই বিধিটির সংবাদ যেন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে পৌছানো হয়। ভোটাধিকার দেবেন কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার থাকবে না, রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কোন প্রবাসীই অংশ নিতে পারবেন না-এটা স্ববিরোধি, এটাকে মেনে নেয়া যায় না।

এ সময় কম্যুনিটি লিডার গিয়াস আহমেদ বলেন, গত ১৬ বছর আমরা এই নিউইয়র্ক তথা আমেরিকায় লাগাতার আন্দোলনে সরব ছিলাম। বাংলাদেশের মানুষের যখোন কথা বলার অধিকার ছিল না, সে সময়ে প্রবাসীদের ভূমিকা খাটো করে দেখার অবকাশ থাকতে পারে না। সে আলোকে আমরা এখনো আবেদন জানাচ্ছি সংস্কারের সত্যিকারের দায়িত্বটি সম্পাদনের জন্যেই প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এছাড়া, জাতীয় সংসদেও প্রবাসীদের জন্যে কোটা সরক্ষণ করার বিধি তৈরী করা হোক।

সেমিনারে দোয়া-মোনাজাত। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মোজাম্মেল হক বলেন, সেমিনারের বক্তব্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ সমীপে পেশ করা হবে।
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, ড. শওকত আলী, সাবেক এমপি এম এ শাহীন, ডা ওয়াজেদ এ খান, আবু তাহের, মোহাম্মদ আলী, আহসান হাবিব, মাহমুদ খান তাসের, আব্দুর সবুর, মুহম্মদ এন মজুমদার, শামসুদ্দিন আজাদ, পোল খান, ফখরুল আলম প্রমুখ।

Facebook Comments Box

Posted ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us