ভুয়া কর্মচারির নামে পিপিপি লোন আত্মসাতের চার্জশিট খালেদ সেলিমের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ০১ আগস্ট ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫২ অপরাহ্ণ

ভুয়া কর্মচারির নামে পিপিপি লোন আত্মসাতের চার্জশিট খালেদ সেলিমের বিরুদ্ধে

ভুয়া নাম-ঠিকানায় লক্ষাধিক ডলারের পিপিপি লোন আত্মসাৎ এবং নির্বাচনে প্রার্থীতার নামে প্রতারণা-জালিয়াতির মামলায় নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে বসবাসরত খালেদ সেলিম (৫৩)এর বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। ৩১ জুলাই ব্রুকলীন ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক গঞ্জালেজকে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে করোনাকালিন অর্থ-সহায়তাকে প্রতারণার অবলম্বনে পরিণত করার চাঞ্চল্যকর মামলার তথ্য অবহিত করেন স্টেটট এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস। খালেদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতারণা ও চুরির ৬০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখে ব্রুকলীন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজিরার শর্তে খালেদকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলেও জানান ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক। তিনি আরো জানান, আমেরিকান হিউম্যান রাইটস নামক একটি সংস্থার কর্মচারিদের বকেয়া বেতন প্রদানের জন্যে খালেদ ২০২১ সালের ১৫ মার্চ পিপিপি লোন ড্র করেন এক লাখ ৪ হাজার ১৬৬ ডলারের। এরপর তিনি সেই ঋণ মওকুফের আবেদন করেছিলেন এই বলে যে, লোনের সমুদয় অর্থ যথারীতি তার কর্মচারিদের বকেয়ার সাথে সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এমন আবেদনের ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্তে উদঘাটিত হয় যে, উল্লিখিত ব্যক্তিরা কখনোই আমেরিকান হিউম্যান রাইটস নামক সংস্থাটির কর্মচারি ছিলেন না। এমনকি ঐ সংস্থার সাথে তারা কেউ পরিচিতও নন।

এছাড়া, খালেদ সেলিম ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল ৫৯০০ পাতার একটি আবেদন সাবমিট করেন নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনে। ইউএস সিনেটে ডেমক্র্যাটিক পার্টির নমিনেশনের আবেদন ছিল এটি। সিনেটে প্রবীন ডেমক্র্যাট চাক শুমারের বিরুদ্ধে লড়তে চেয়েছিলেন খালেদ। খালেদেও নিয়োজিত ৩ ব্যক্তি ২০ দিনে ৩০ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানানো হয়। তদন্তে ঐ তিনজন জানান যে, কখনোই তারা খালেদের জন্যে কারো সাক্ষর সংগ্রহ করেননি। কথিত স্বাক্ষরকারিগণের নাম-ঠিকানা সবটাই ছিল জালিয়াতি। এজন্যে খালেদেও নাম উঠেনি ব্যালটে।

এমন প্রতারণা আর জালিয়াতি প্রসঙ্গে এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস বলেন, আমাদের গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর নিউইয়র্কবাসীর আস্থা থাকা উচিত যে তা কখনোই প্রতারকদের দ্বারা অবদমিত হতে পারে না। খালেদ সেলিম তেমন ব্যবস্থাপনাকে আন্ডামাইন্ড করে প্রতারণা-জালিয়াতির মাধ্যমে আখের গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ তাকে আমরা বিচারে সোপর্দ করলাম। আমি আশা করছি এই স্টেটে পিপিপি লোন আত্মসাৎ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সাথে প্রতারণা করে কেউই রেহাই পাবে না।

এই মামলার তদন্ত করেছেন সহকারি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এডাম লিভোব, সহকারি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী লোরা নিউবোয়ের, সহকারি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী মিশেল স্পানাকোস এবং প্যাট্রিসিয়া ম্যাকনীল।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রঙ্কস এবং ম্যানহাটানের শতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন ভুয়া সংস্থা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারির তালিকা দিয়ে বিপুল অংকের পিপিপি লোন ড্র করেছেন বলে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে স্টেট এটর্ণী জেনারেল, ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীসহ গোয়েন্দারা মাঠে রয়েছেন। অনেকের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের নোটিশ দেয়া হয়েছে। আইআরএস-ও কাজ করছে একই অভিযোগে। কারণ, জাল ডব্লিউ-২ সাবমিটেও দ্বিধা করেনি অভিযুক্তরা। অন্যের গোপন তথ্য চুরি করে পিপিপি লোন ড্র’র মাধ্যমে হঠাৎ করে বিপুল অর্থ হাতে পেয়ে কেউ কেউ ‘ধরাকে সরাজ্ঞান’ করছেন এবং আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত এসব লোকজনের দাপটে সহজ-সরল প্রবাসীরাও হতভম্ব। এছাড়া, ১ ডলার চাঁদা সংগৃহিত হলে বোর্ড অব ইলেকশন থেকে ৮ ডলারের প্রণোদনা মেলে-অর্থ রোজগারের এই সহজ ব্যবস্থাকেও অনেকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রিয়তা একেবারেই নেই, আর্থিক সঙ্গতিও নেই-এমন কতিপয় লোক সিটি ও স্টেটের নির্বাচনের নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

Facebook Comments Box

Posted ১২:৫২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০১ আগস্ট ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us