সাম্য-হত্যার মোটিভ উদঘাটনের দাবিতে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
শনিবার, ১৭ মে ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১:২২ অপরাহ্ণ

সাম্য-হত্যার মোটিভ উদঘাটনের দাবিতে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের বিক্ষোভ

নিউইয়র্কে ছাত্রদলের বিক্ষোভে বক্তব্য দিচ্ছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যার মোটিভ উদঘাটন এবং ঘাতক-চক্র গ্রেফতারে সীমাহীন উদাসীনতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ১৬ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় সুমন খানের সঞ্চালনায় এ বিক্ষোভ-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনে বহু রক্তপাতের পর ৮ আগস্টে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আপামার জনতার প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক হত্যার অবসান ঘটবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সাড়ে ৮ মাসেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। জনজীবনের নিরাপত্তা আসেনি।

সমাবেশে অন্যতম বিশেষ অতিথি হিসেবে যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার চিরবিদায়ের পর আমরা সকলে আশা করেছিলাম বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। সন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ তারা উপহার দিতে সক্ষম হবেন। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজ সকলের মধ্যেই সন্দেহের উদ্রেক ঘটেছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকান্ডে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমরা আবারো আহবান জানাচ্ছি অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ছাড়া বিরাজমান সংকট আর সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব হবে না। এম এ বাতিন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তাই তো সাম্যের মত শান্তিকামী ছাত্রনেতারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

নিউইয়র্কে বিক্ষোভে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জনি। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জনি অভিযোগ করেন, বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা ফ্রন্ট লাইনে ছিলেন, ছাত্রদলের তেমন নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে। জনি ক্ষুব্ধচিত্তে আরো বলেন, ছাত্র শিবির হচ্ছে ছাত্রদলের অরেক পুরনো শত্রু। ওরা আমাদের অনেক ছাত্রনেতাকে হত্যা করেছে। ছাত্রলীগে ঢুকেছিল ওরা, সেই মিছিল থেকে গুলি করে ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মীর প্রাষ কেড়ে নিয়েছে বিগত বছরগুলোর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের সময়। জনি উল্লেখ করেন, এটা দিবালোকের মত সত্য যে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিবিরের কাউকে দেখা যায়নি। সাম্য হত্যার নেপথ্যে যারা মদদ দিয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলনে সকল অন্যায় ভেসে যাবে।

এতে আরো বক্তব্য দেন জাসাসের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার সায়েম রহমান, বিএনপি নেত্রী নীরা রাব্বানী, দেওয়ান কাউসার, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি পরিষদের সভাপতি শাহাদৎ হোসেন রাজু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার রাতে ছুরিকাঘাতে খুন হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায়।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us