অবৈধদের বিরুদ্ধে নয়াবিধি: ধরা পড়লেই জরিমানা ৫ হাজার ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

অবৈধদের বিরুদ্ধে নয়াবিধি: ধরা পড়লেই জরিমানা ৫ হাজার ডলার

সীমান্ত রক্ষীদের তৎপরতা। ছবি-সংগ্রহ।

অবৈধ অভিবাসন নির্মূলের অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার করে জরিমানার বিধি চালু করলো। মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রমের পরই ধরা পড়া অবৈধ অভিবাসীসহ ইতিপূর্বে অবৈধভাবে আসার পর যারা বৈধতা পায়নি-তারাও এ জরিমানার আওতায় রয়েছে বলে শুক্রবার মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনীর প্রধান মাইকেল ব্ল্যাঙ্কস নিজের সোস্যাল মিডিয়ায় এক ঘোষণায় উল্লেখ করেছেন। আর এ জরিমানা কার্যকর হবে ১৪ বছর থেকে উর্দ্ধ বয়েসী সকলের ক্ষেত্রেই। উল্লেখ্য, জরিমানার এই বিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গত জুনে কংগ্রেসে পাশ হওয়া ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এ। আরো উল্লেখ্য, অনেক আগের আইনে কেউ যদি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের অঙ্গিকার করেও পরবর্তীতে ত্যাগ না করেন তাহলে যতদিন অবৈধভাবে বাস করেন তার জন্যে খেসারত দিতে হয় দৈনিক ৫০০ ডলার হারে। সেই পুরনো বিধিটি ইদানিং অনেকের জন্যে প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে দৈনিক জরিমানার পরিমাণ ৯৯৮ ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে মুদ্রাস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে। ট্রাম্প প্রশাসন জরিমানার বিধিসমূহ যথাযথভাবে কার্যকর করার যুক্তি হিসেবে বলছে যে, সামনের চার বছর অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ও বহিষ্কারের জন্যে ১৭০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। সেই তহবিল সংগ্রহ করতে এই বিধি প্রয়োগের বিকল্প নেই। ‘দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্ণাল’ গত আগস্টে সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে, দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ২১৫০০ জনের বিরুদ্ধে ৬.১ বিলিয়ন ডলারের জরিমানার নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। একইসময়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট দাবি করে যে, মাথাপিছু এক হাজার ডলার করে প্রণোদনার ঘোষণার পর ১৯ লাখের মত অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। এছাড়া গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে। আরো ৫ লাখ ৭৯ হাজার জন বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার হয়েছে এবং তাদেরকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার প্রবণতা অনেক কমেছে।

.এতদসত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী মনোভাবে ন্যূনতম পরিবর্তন আসেনি। তা আরো বেপরোয়া হয়েছে ২৬ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে টহলরত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনা সদস্যকে নিশানা করে গুলি চালানোর পর। গুলিবিদ্ধ একজন পরবর্তীতে মারা গেছেন। অপরজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর গুলিবর্ষণকারি দুর্বৃত্তটি হচ্ছে আফগানিস্তানের নাগরিক রহমানউল্লাহ (২৯)। তিনি তালেবান নিধনে মার্কিন বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। তালেবানের উত্থান ঘটায় মার্কিন বাহিনী আফগান ত্যাগের পর রহমানউল্লাহর মত বেশ কয়েক হাজার আফগান সহযোগীকে রিফ্যুজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয় ২০২১ সালে। এরপর রহমান উল্লাহ ২০২৪ সালে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে চলতি বছর অর্থাৎ ট্রাম্পের এই আমলে তা মঞ্জুর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, অভিবাসন-বিরোধী অভিযান চলাকালেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্যে আবেদনেসর ফি ধার্য করা হয়েছে। আগে তা লাগতো না। একইভাবে আবেদনটি পেন্ডিং থাকাবস্থায় ওয়ার্ক পারমিটের জন্যেও ফি ধার্য করা হয়েছে। এভাবে কঠিন একটি পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনীভাবে আসার প্রবণতা হ্রাসের অভিপ্রায়ে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের চলতি আমলে এ যাবত ৯৭ জন ইমিগ্রেশন জজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে তেমন উদ্যোগ না থাকায় অভিবাসনের আইনী প্রক্রিয়াতে ধীরগতি চরমে উঠেছে। পারিবারিক কোটায় আবেদনের পর অনেকের অপেক্ষার প্রহর ১৮ বছর অতিবাহিত হচ্ছে কিন্তু তারা ভিসার জন্যে ইন্টারভিউর তারিখ পাচ্ছেন না। অর্থাৎ গোটা আমেরিকায় ইমিগ্র্যান্ট কম্যুনিটিতে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা চরমে উঠেছে। কাগজপত্রহীন মানুষের পাশাপাশি গ্রীণকার্ডধারীরাও স্বস্তিতে নেই। প্রতিপদে তটস্থ থাকতে হবে ইমিগ্রেশন পুলিশের হানা দেয়ার আতংকে। এ অবস্থায় ইমিগ্রেশনে অভিজ্ঞ এটর্নীরা পরামর্শ দিয়েছেন সকলকে গ্রীণকার্ড অথবা বৈধতার ডক্যুমেন্ট সবসময় সাথে রাখতে। যাদের বৈধতার আবেদন পেন্ডিং রয়েছে তারা যেন নিজ এটর্নীর সেলফোন নম্বরও সাথে রাখেন-এ পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us