অবৈধ অভিবাসীকে কাজ দেয়ায় কন্সট্রাকশন কোম্পানীর মালিক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

অবৈধ অভিবাসীকে কাজ দেয়ায় কন্সট্রাকশন কোম্পানীর মালিক গ্রেফতার

গ্রেফতারকৃতদের ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়। ছবি-সংগ্রহ।

নিউইয়র্ক, মিশিগান, নর্থ ক্যারলিনা এবং ওহাইয়ো স্টেটে কর্মরত ‘ওরডোনা প্লাম্বিং’ নামক একটি কন্সট্রাকশন কোম্পানীর মালিক-দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয় ২৪৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে কাজে নিয়োগের জন্যে। মঙ্গলবার ময়েসেস ওরডোনা-রায়োজ (৩৬) এবং র‌্যাকুয়েল ওরডোনা-রায়োজ (৩০) দম্পতিকে গ্রেফতারের পর মিশিগান ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছিল। ২ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক ফেডারেল কোর্টে হাজিরার নোটিশ-সহ তাদেরকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয় বলে বিচার বিভাগ জানিয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই দম্পতি তাদের স্যানিটেশন-কন্সট্রাকশন কোম্পানীতে ২৫৩ জন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলেন-যার মধ্যে মাত্র ৬ জন ছিলেন বৈধ অভিবাসী। এসব শ্রমিকের প্রায় সকলেই মেক্সিকোর নাগরিক এবং তাদেরকে ন্যায্য পারিশ্রমিকও প্রদান করা হয়নি। এই কোম্পানী এবং কর্মরত শ্রমিকদের সোস্যাল মিডিয়া যাচাইয়ের মাধ্যমে ৪ স্টেটব্যাপী অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা হয় এবং প্রায় সকলকেই গ্রেফতারের পরই মালিক-দম্পতিকে আটক করা হয়েছিল। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মামলায় এই দম্পতি দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড এবং অবৈধ অভিবাসীকে কাজে নিয়োগের জন্যে মাথাপিছু ৩ হাজার ডলার করে মোট ৭ লাখ ৪১ হাজার ডলার জরিমানা গুণতে হবে। মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপরোক্ত সময়ে (২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট) এই দম্পতি প্রায় ৭৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন শ্রম-আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অর্থাৎ বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী তারা শ্রমিকের মজুরি প্রদান করেননি। আয়কৃত অর্থের ওপর নির্দিষ্ট হারে ট্যাক্স প্রদানও করেননি। এই দম্পতির বিরুদ্ধে আদম পাচার, আদমদের পাসপোর্ট আটক এবং জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে দায়েরকৃত মামলায়। এসব শ্রমিকেরা কর্মস্থল এবং কোম্পানীর ভাড়া করা বাসস্থানের বাইরে যাতে না যান সে বাধ্যবাধকতাও ছিল। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ও বহিষ্কারের চলমান অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে জোরদার করা হয়েছে ডেমক্র্যাট-শাসিত স্টেটসমূহে। মিশিগান, নিউইয়র্ক তেমনি স্টেট হওয়ায় যত্রতত্র হানা দিচ্ছে আইসের (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট ) এজেন্টরা। এরফলে রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারিতে বেচা-কেনা কমেছে। লোকালয়ে আনাগোনাও নেই বললে অত্যুক্তি হবে না। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকার রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকানের পাশাপাশি কাপড় ও অলঙ্কারের দোকান ১৯ নভেম্বর বুধবার পরিভ্রমণকালে জানা যায় যে, আগের বছরের একইসময়ের তুলনায় এবার গ্রাহকের আগমণ কমেছে ৭০%। এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে। ব্যবসায়ীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকেন সকাল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ। উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশী তথা দক্ষিণ এশিয়ানদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ‘জ্যাকসন হাইটস’র বাংলাদেশী ব্যবসায়ীগণের সংগঠন ‘জেবিবিএ’র সভাপতি ড. মাহাবুবুর রহমান টুকু এ সময় জানালেন, শুধু কাগজপত্রহীন/ওয়ার্ক পারমিটহীনরাই নন, গ্রীণকার্ডধারীরাও চলাফেরা সীমিত করেছেন আইসের আনা-গোনায়। ড. টুকু জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম যে খরচ সেটিও উঠছে না কয়েক মাস থেকে। এভাবে একধরনের হতাশায় নিপতিত সকল ব্যবসায়ী।

 

Facebook Comments Box

Posted ৯:২০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us