আমরা সকলের জন্যেই ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করি:জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মামলা-বাণিজ্য’ সম্পর্কে স্টেট ডিপার্টমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

আমরা সকলের জন্যেই ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করি:জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মামলা-বাণিজ্য’ সম্পর্কে স্টেট ডিপার্টমেন্ট

ফাইল ছবি


বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময়ে নিহতদের ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলায় আসামীর তালিকা নিয়ে ব্যাপক ‘মামলা-বাণিজ্য’র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই-আগস্টে যারা বাংলাদেশেই ছিলেন না তেমন ব্যবসায়ী-শিল্পপতি-রাজনীতিকদেরকেও হত্যা মামলার আসামী করা হচ্ছে। আন্দোলনের সময় দুর্ঘটনা কিংবা আগে থেকেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদেরকেও ঐ আন্দোলনের ভিকটিম হিসেবে উল্লেখ করে মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। কথিত হত্যা মামলার তদন্ত ছাড়াই হাজারো বাংলাদেশীকে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামীর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি এবং বাদ দেয়ার ‘বাণিজ্য’ও চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আসামীর তালিকা থেকে নাম কাটতে মোটা অংকের টাকার ছড়াছড়ি চলছে। এমন ভৌমিক মামলায় আসামীর তালিকায় সিনিয়র সাংবাদিক-সম্পাদক-শিল্পপতি-ব্যবসায়ীর পাশাপাশি অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরকেও দেখা যাচ্ছে। এরফলে বৈষম্য মুক্ত, ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়ার স্লোগানে যে অভ্যুত্থান হয়েছে তা চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে চলছে বলে সুদূর এ প্রবাসেও মতামত ব্যক্ত করা হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কোন পর্যবেক্ষণ আছে কিনা তা এনওয়াই ভয়েস’র পক্ষ থেকে জানতে চাইলে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র লিখিতাকারে জানিয়েছেন যে, আইনের শাসন এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকগণের স্বাধীনতা অটুট রাখা নিয়েও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কথিত হত্যা মামলায় আসামীর তালিকায় শিল্পপতি-ব্যবসায়ী-সাংবাদিক-সম্পাদকগণের নাম থাকা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, এসব বিদ্যমান আইনে বাংলাদেশকেই সমাধান করতে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এনওয়াই ভয়েস’র পাঠানো প্রশ্ন ও তার উত্তর এখানে সবিস্তারে উল্লেখ করা হলো।
প্রশ্ন : গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় জটিল রোগে অথবা দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদেরকেও সে সময়ে ক্ষমতায় থাকা পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের গুলিতে নিহত হবার মিথ্যা অভিযোগে শতশত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিক (প্রথম আলো)’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাজানো হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষ-বাণিজ্য চলছে বলেও উদঘাটিত হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্টের দুলাল রবিদাসের মৃত্যু হয়েছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) কারণে। গত বছরের ২৭ জুলাই তাঁর মৃত্যুর এ কারণ উল্লেখ করে সনদ দিয়েছে স্থানীয় একটি হাসপাতাল। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রবিদাস নিহত হয়েছেন এমন অভিযোগ এনে ২৯ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। আসামি করা হয় ৭৬৮ জনকে। এ মামলা নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে চাঁদাবাজি ও পূর্ব শত্রুতার জেরে হয়রানির অভিযোগসহ নানা অনিয়ম সামনে এসেছে। যে অভিযোগে মামলাটি হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন দুলাল রবিদাসের স্বজনেরাই। ঘটনার সময়, হত্যাকান্ডের বর্ণনা, আসামির তালিকা-সবই ভূয়া। দুলাল রবিদাসের মতো সাজানো ঘটনার পাশাপাশি কোথাও সত্য ঘটনার মামলাতেও এ রকম অনেককে জড়িয়ে ‘মামলা-বাণিজ্য’ হচ্ছে। মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস, ভুলবশত: আসামি করা হয়েছে মর্মে হলফনামা দিয়ে ও পুলিশ প্রতিবেদনে নির্দোষ দেখানোর প্রতিশ্রুতিসহ নানাভাবে এই বাণিজ্য করার অভিযোগ যেমন আছে, আবার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েও কাউকে কাউকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৪৯৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৫৯৯টি। এসব মামলায় ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক ও সম্পাদক।এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোন পর্যবেক্ষণ আছে কি?

উত্তর: দুর্নীতি মোকাবেলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহিত পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা সকলের জন্যেই ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়াকেও উৎসাহিত করি। উল্লিখিত (দুলাল রবিদাস) মামলাসমূহের ব্যাপারে আমাদের কোন মন্তব্য নেই।

প্রশ্ন : ২০ এপ্রিল আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে ৪০৮ জনের বিরুদ্ধে। এরমধ্যেও সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক রয়েছেন ২৫ জন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করে আসছে যে সাংবাদিকদেরকে হেনস্থার উদ্দেশ্যে আর কোন মামলা দায়ের করা হবে না। এই মামলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধরা গ্রুপ’র চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এমডি সায়েম সোবহান আনভির এবং পরিচালক সাদাৎ সোবহান তানভিরের নামও রয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোন অভিমত আছে কি?

উত্তর: এসব বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বাংলাদেশকেই সমাধান করতে হবে। সাংবাদিকগণের মৌলিক স্বাধীনতাসহ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। আমরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালিন সরকারসহ আমাদের সকল অংশিজনের সাথে সেই সমর্থনের যোগাযোগটি রক্ষা করে থাকি। অন্তর্বর্তীকালিন সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহিত পদক্ষেপকেও স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতে নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রচনায় অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের কার্যক্রমের সাথে আমরা জড়িত থাকবো।
প্রশ্ন : থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনের পর বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনে ফেরত নেওয়ার ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এলেও দেওয়া হয়নি স্পষ্ট রূপরেখা। নিজ ভূখন্ডে ফিরতে মরিয়া হলেও খাদ্য ও বাসস্থানের নিরাপত্তা ছাড়া রোহিঙ্গারা আদৌ ফিরবে কি না, সে বিষয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু বলতে গেলে এখন জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের আবাসস্থলের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ করছে আরাকান আর্মি। কিন্তু সরকার আলোচনা করছে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে। এহেন অবস্থায় উদ্ভ’ত পরিস্থিতির অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কোন পরিকল্পনা আছে কি?

উত্তর : রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্যে নতুন করে ৭৩ মিলিয়ন ডলারের জীবন রক্ষাকারি মানবিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নতুন তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির অংশিদারিত্বে বাংলাদেশে এক মিলিয়নেরও অধিক রোহিঙ্গা শরনার্থীর মধ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা দিয়ে যাবে। আমরা রোহিঙ্গাদের বার্মায় (মিয়ানমার) স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনকে সমর্থন করি। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরনার্থীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য অংশিজনদের সাথে কাজ করছে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us