নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে নেয়া হয়। ছবি-সংগ্রহ।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নাম-নিশানা মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মুহাম্মদ ইউনূসের লেলিয়ে দেয়া জঙ্গি তথা কথিত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সন্ত্রাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখা। ২৮ অগাস্ট সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় একটি পার্টি হলে এই সংগঠনের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে বলেন, এখনো কী কারো জানা বাকি আছে যে, কেন তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছেন? ড. মোমেন বলেন, কিন্তু বাঙালিরা বীরের জাতি, কখনো তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে বাংলাদেশকে চলতে দেবে না। ‘মঞ্চ-৭১’র মত লাখো মঞ্চের আবির্ভাব ঘটবে দেশ-প্রবাস সর্বত্র।
ড. মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ দিপ্ত প্রত্যয়ে অনেক দূর এগিয়েছিল। মুহম্মদ ইউনূসের মত স্বার্থপর লোকজনের ষড়যন্ত্রে আবারো বাংলাদেশকে ভিখারির রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন ভীতিকর অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষায় একাত্তরের ন্যায় আন্তর্জাতিক জনমত সুসংহত করতে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। এটা সময়ের দাবি।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে এ সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফজলুল হক, ভাইস প্রেসিডেন্ট আফসার আলী, যুগ্ম সম্পাদক আকাশ খান, কম্যুনিকেশন্স ডাইরেক্টর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার প্রমুখ। এ সময় বক্তারা উল্লেখ করেন, গত প্রায় ১৩ মাসের জঘন্য হিং¯্রতায় বাংলাদেশ ক্ষত-বিক্ষত। মানবতা বিপন্ন। গুটিকতক সন্ত্রাসী ছাড়া বাংলাদেশের কেউই নিরাপদ নন। আইনের শাসন এখোন সন্ত্রাসীদের ইচ্ছায় পরিচালিত হচ্ছে। তার নগ্ন উদাহরণ হচ্ছে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ‘মঞ্চ-৭১’র সভায় জঙ্গিদের হামলার পরও ইউনূসের পুলিশ এসে এই সভার আয়োজকসহ অংশগ্রহণকারিগণকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। হামলাকারিরা সদম্ভে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গতবছর জুলাই-আগস্টে কথিত জঙ্গি হামলার পর মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের মদদে বাংলাদেশে গত এক বছর যে বর্বরতা চলেছে তার সমন্বয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। পুস্তিকাটি জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউজ, কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থায় প্রদানের কর্ম-কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এসময়। উল্লেখ্য, তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত পুস্তিকাটির সম্পাদনা ও ধারাবিবরণী লিখেছেন ড. এ কে এ মোমেন। এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করলো বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র শাখা।
যে কারণে লতিফ সিদ্দিকী ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি
শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতের কাছে তার জামিনের জন্য আবেদন করেননি।
শুক্রবার সকালে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে, এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান। মামলার শুনানিতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী তার জামিনের প্রার্থনার জন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি বলে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ জানিয়েছেন।
সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, “লতিফ সিদ্দিকীর জামিনের প্রার্থনা জন্য করতে যখন তার কাছে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে যাই, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে। তখন তিনি বলেন, যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিন চাইব না।
“যতবার স্বাক্ষর করতে যাই, ততবারই তিনি এ কথা বলেন, এ কারণে তিনি জামিনের প্রার্থনা করেননি।” উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হক লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন। অপর আসামিরা হলেন- মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো.আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন (৫৫), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খান (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০), মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।
এদিন সকালে আসামিদের সিএমএম আদালতে আনার পর হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের এজলাসে তোলা হয়। এসময় তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় তোলার পরও আসামিদের পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখা গেছে।
শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন) পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “ভয়াবহ অবস্থা। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলি।” তখন পুলিশ সদস্যরা তাদের জ্যাকেট খুলে দেন। কাঠগড়ায় সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন লতিফ সিদ্দিকী। এসময় তাকে হাস্যজ্জ্বোল দেখা যায়। পানি পান করেন। মাঝে মধ্যে মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক এজলাসে ওঠেন।
এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনজীবীরা আসামিদের স্বাক্ষর নিতে চান। লতিফ সিদ্দিকী বাদে অপর অধিকাংশ আসামিই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। লতিফ সিদ্দিকীর কাছে সাইফুল ইসলাম সাইফ স্বাক্ষর নিতে যাওয়ার পর তিনি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি।
কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকরা লতিফ সিদ্দিকীর কাছে তার কিছু বলার আছে কী না জানতে চাইলে তিনি মাথা নাড়িয়ে ‘না’ করে দেন।
পরে তাকেসহ অন্যদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
“সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
যা ঘটেছিল
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আলোচনা অনুষ্ঠানে হট্টগোলের মধ্যে ‘মব হামলার’ শিকার হওয়ার পর পুলিশ হেফাজাতে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে এই ১৪ জনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে শাহবাগ থানায় মামলা করার তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
এদিন দুপুরে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। এ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। বৃহস্পতিবারের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেনের। তবে তিনি আসার আগেই সেখানে একদল ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করে। তাদের হামলায় আহত হন অনেকে।
দুপুরের ওই ঘটনার পর ডিআরইউ থেকে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম পান্নাসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনতে মিন্টো রোডে এবং কিছু ব্যক্তিকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর আসে। তবে পুলিশ তাদের কারও নাম জানায়নি। রাত ১০টা অবধি তাদের আটক করার বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।
রাত সাড়ে ১০টার পরে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল। এর কিছু সময় পর তিনি মামলা হওয়ার তথ্য দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর কথা বলেন।
ডিআরইউতে গোলটেবিল বৈঠকে হট্টগোল শুরুর পর ‘মব’ তৈরি করে হামলার মুখে অতিথিসহ অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তখন পুলিশ জানিয়েছিল, মব হামলার মুখে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর আগে সেখানে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন গিয়ে উপস্থিত লোকজনদের ঘেরাও করেন।
Posted ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর