গ্রীনকার্ডধারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ১৯ দেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিতের পর যুুক্তরাষ্ট্রে এসাইলাম আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণও স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ

গ্রীনকার্ডধারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ১৯ দেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিতের পর যুুক্তরাষ্ট্রে এসাইলাম আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণও স্থগিত

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সেনার ওপর গুলির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ দেশের নাগরিকের মার্কিন ভিসা ইস্যু বন্ধের নির্দেশের পাশাপাশি নানা প্রক্রিয়ায় গ্রীনকার্ড প্রাপ্তদের ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ জারির একদিন পর ২৮ নভেম্বর শুক্রবার আরেক নির্দেশে সকল ধরনের আশ্রয় প্রার্থীর (এসাইলি) ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিষয়ক পরিচালক (ইউএসসিআইএস) জোসেফ এদলো এ কথা জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে জোসেফ এদলো বলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ‘আমরা নিশ্চিত হতে পারবো যে প্রত্যেক বিদেশি যথাসম্ভব সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা যাচাই বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে এসেছেন’। এমন পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ হাজারের অধিক বাংলাদেশীর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রত্যাশা থমকে দাঁড়ালো বলে অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী এবং কম্যুনিটিভিত্তিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানা গেছে। উল্লেখ্য, নিজ দেশে রাজনৈতিক মতভেদ, ধর্মীয় অথবা বর্ণ-বিদ্বেষের ভিকটিম হওয়া ২৫ লাখের অধিক মানুষের আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন ঝুলে ছিল এবং সেগুলো এখোন অনিশ্চিত হয়ে পড়লো অনির্দিষ্টকালের জন্যে। ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখার এ পর্যায়ে অনেক অভিবাসীকে আইসের (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের হাতে ধরা পড়ার আশংকা চরমে উঠলো বলে আইনজীবীরা মনে করছেন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের গ্রেফতার ও বহিষ্কারের সাড়াশি অভিযান শুরু করেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গিকার ছিল শুধুমাত্র ‘গুরুতর অপরাধী’ অবৈধদের গ্রেফতারের পর বহিষ্কার করার। কিন্তু কার্যত: গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে ঢালাওভাবে। এমনি একটি টালমাটাল অবস্থার মধ্যেই ২৬ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজের সন্নিকটে টহলরত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনা সদস্যগুলিবিদ্ধ হন এবং এরমধ্যে একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর মারা গেছেন। এরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে’ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে বন্ধে’র কথা জানান এবং তার কয়েক ঘণ্টা পরই এদলো আশ্রয় প্রার্থীদের নিয়ে নতুন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। হোয়াইট হাউসের কাছে ওই হামলার জন্য এক আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ ল্যাকানওয়াল (২৯) কে দায়ী করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগসহ গুরুতর অনেকগুলো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাহমানউল্লাহ আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। তালেবান আফগানের প্রশাসনিক ক্ষমতা দখলের পর মার্কিন সেনারা ফিরে আসায় রহমানউল্লাহর মত ৭৬ হাজার আফগানের নিরাপত্তা-নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে ২০২১ সালে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ ব্যবস্থা করেন মানবিক কারণে। সেই সূত্রে রহমানউল্লাহ ২০২২ সালে এসাইলামের আবেদন করেছিলেন এবং চলতি বছর অর্থাৎ ট্রাম্পের প্রশাসন তার আবেদন মঞ্জুর করেছে। রহমানউল্লাহ গ্রীণকার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন। এরইমধ্যে মার্কিন সেনাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ৩ হাজার মাইলের অধিক পথ গাড়ি চালিয়ে সিয়াটল থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে এসেছিলেন বলে তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। নিশানা করেই ন্যাশনাল গার্ডের দুই অফিসারের প্রতি গুলিবর্ষণ করেছিলেন।
ইউএসসিআইএস’র কর্মকর্তাদেরকে দেওয়া সর্বশেষ এই নির্দেশনায় বলা হয়, তারা যেন সব দেশ থেকে আসা আশ্রয় প্রার্থীদের আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বাতিলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়। “সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘরে যখন পৌঁছাবেন, তখন থামবেন এবং সেখানেই রেখে দেবেন,” বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

ব্যক্তি বিশেষের অপকর্মের দায় সমগ্র জনগোষ্ঠির ওপর চাপানোর এই নির্দেশনা চ্যালেঞ্জের হুমকি দেয়া হয়েছে মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত সংস্থার পক্ষ থেকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র গড়ে উঠেছে অভিবাসীগণের রক্ত-মাংস আর কঠোর শ্রমে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেও রয়েছে সে স্বীকৃতি। তাই প্রচলিত রীত অনুযায়ী নিজ দেশে চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে অসহায় মানুষেরা সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এবং যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় গ্রীণকার্ডের পথ বেয়ে সিটিজেনশিপও নিয়েছেন অনেক মানুষ। তারা নিজের মেধা আর শ্রমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সেরা একটি রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us