আবুল কাশেম
প্রিন্ট
শনিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সভায় বক্তব্য রাখছেন গিয়াস আহমেদ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির আলোচনা সভায় বক্তারা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবক্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তারা শ্রদ্ধা জানান পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ সকল সৈনিককেও।
নিউইয়র্ক সিটির নবান্ন পার্টি হলে হোস্ট সংগঠনের সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি সাইদুর রহমান সাঈদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, তদানিন্তন মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। টানা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর যুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার সোয়া ৩ বছরের মাথায়ই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যার মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করেছিলেন। কিন্তু বাংলার গণতান্ত্রিক মানুষ সেই স্বৈরশাসনকে মেনে নেয়নি। আবারো মেজর জেনারেল (একাত্তরের সেই মেজর) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাকশালের পতন ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটানো হয় পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্যদিয়ে। আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, এখোন যারা নির্বাচন বানচাল করবার চক্রান্ত করছে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। তিনি বলেন এবার পুজা না আসলে জামাতের আসল চেহারা কেউ বুঝতে পারতো না । ওরা ধর্ম ব্যাবসায়ী। ওরা ক্ষমতার জন্য ধর্ম পরিবর্তন করতেও দ্বিধাবোধ করে না। ধর্ম অবমাননার জন্য জামাতের নিবন্ধন বাতিল করবার জন্য আহবান জানান বিএনপির এই বর্ষিয়ান নেতা।
সমাবেশের ‘গেস্ট অব অনর’ ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অপর সদস্য গিয়াস আহমেদ। তিনি বলেন, বিএনপিই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে জাতির সকল দুর্যোগময় মুহূর্তে ’৭১ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ১৯৭১ সনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন যখন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা না দিয়েই আত্বসমর্পণ করেছিলেন। ১৯৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর সিপাহি জনতা হাতে হাত রেখে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বন্দি দশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। তিনি বাকশালের একনায়কতন্ত্র থেকে ’৭১ এর চেতনায় বহুদলীয় গনতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। আবার দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৯ বছর আন্দোলন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। গিয়াস আহমেদ তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অবিস্মরণীয় নেতৃত্বের আলোকপাত করে বলেন, তার যোগ্য উত্তরসূরির নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সুদূর এই প্রবাসেও গত ১৭ বছর অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনেও প্রবাসীদের অবদান খাটো করে দেখার অবকাশ থাকতে পারে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসেই বাংলাদেশ নামক ভ’খন্ডটির পুনর্জন্ম ঘটেছে। এরপর আবারো আওয়ামী দু:শাসনের কবল মুক্ত করতে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার এম এ খালেক ক্ষুব্ধচিত্তে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ এবং তারেক রহমানের সমন্বয়ে আমেরিকা প্রবাসীগণ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যে বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছেন, তার মূল্যায়ন হবে বলে আমরা আশা করছি। আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষিত নেতাদের কয়েকজন মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কাউকে না দেয়ায় আমরা কষ্ট পেয়েছি। যুক্তরাজ্য বিএনপির ৩ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আশা করছি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত: ৬ জনকে দেয়া হবে। তাহলে ভবিষ্যতে
এনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আমেরিকা প্রবাসীরা আরো উৎসাহিত হবেন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, জসীমউদ্দিন ভিপি, আরিফুর রহমান, রইসউদ্দিন প্রমুখ।
==
==
===========
Posted ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর