বাড়ি ক্রয়ের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৫০ বছর

ট্রাম্পের প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানালেন ব্যাংকার আকিব হোসাইন

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

ট্রাম্পের প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানালেন ব্যাংকার আকিব হোসাইন

ব্যাংকার আকিব হোসাইন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বাড়ি ক্রয়ের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরফলে মাসিক কিস্তির পরিমাণ কমলেও সুদের পরিমাণ বাড়বে। তবুও এ ব্যবস্থায় স্বল্প আয়ের অনেক মানুষের বাড়ি ক্রয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে মনে করছেন সহজ শর্তে ঋণ প্রদানে বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জনকারি বাংলাদেশী-আমেরিকান ব্যাঙ্কার আকিব হোসাইন। নিউইয়র্কে মেডোব্রুক ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল-ম্যানেজার আকিব হোসাইন বললেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবটি অনেকের জন্যেই সুখকর হলেও অধিক বয়েসীদের জন্যে নিরাপদ নয়। কারণ অনেকেই তো আরো ৫০ বছর না-ও বাঁচতে পারেন কিংবা কর্মক্ষম থাকতে পারেন। তাহলে ঐ ঋণের দায় কে নেবে? কে পোহাবে ঝক্কি-ঝামেলা। আকিব বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা ৪০ বছর মেয়াদি ঋণের কার্যক্রম শুরু করেছি। মাসিক কিস্তির পরিমাণ কম হওয়ায় কেউ কেউ স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুরো অর্থ পরিশোধ করছেন। আকিব বলেন, উচ্চ মূল্যের বাড়ি ক্রয়ে মাসিক কিস্তির পরিমাণ যদি কম পাওয়া যায় তাহলে সেটিকে অনেকে লুফে নিতে কার্পণ্য করবেন না। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবনাটি ইতিমধ্যেই অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসায়ী হলেও এ প্রস্তাবনায় তার মহত্ব্য ফুটে উঠেছে। অন্তত: এমন প্রস্তাবে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন বলে মনে করছি। আকিব হোসাইন উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের মত আমরাও স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়ি ক্রয়ের প্রত্যাশা পূরণে সকল শর্তকে শিথিল করেছি। এরফলে সহজ-সরল প্রবাসীরা ভীড় করছেন অফিসে।

চলমান পরিস্থিতির আলোকে আকিব বলেন, এখোন টাকার ভেল্যু অনেক বেশী। স্টক মার্কেট ডাউন। খাদ্য-সামগ্রির মূল্য প্রতিদিনই বাড়ছে। ৫০০ ডলার নিয়ে বাজারে গেলে বুঝতেই পারি না কীভাবে খরচ হলো। মধ্যিখানে ডলারের দাম কমেছিল। বিশেষ করে করোনার পর নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় ক্রেতারা প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাড়ির দাম বাড়িয়েছিলেন। অন্তত: দু’বছর মানুষ পাগলের মত খরচ করেছেন। যার ব্যবসা ছিল না তিনিও অনূদান/মঞ্জুরি নিয়েছেন। জীবনেও কাজ করেননি, এমন প্রবাসীরাও বেকার ভাতা ড্র করেছেন। এই অর্থ বাজারকে অস্থির করেছিল। এখোন সে অবস্থা নেই। এখোন সকলেই ডলারের গুরুত্ব অনুধাবন করছেন।

বাড়ির দামেও কী এহেন অস্থিরতার প্রভাব পড়ে? জবাবে আকিব হোসাইন বললেন, গত চার বছর ধরেই বাড়ির দাম বেড়েছে। হোমকেয়ারের কারণে অনেকেই বাড়ি ক্রয়ে সক্ষম হয়েছেন। তবে এখোন কিছুটা স্থিতি এসেছে। যদিও দাম কমেনি। অনেকে বলাবলি করছেন যে বাড়ির দাম কমবে। কিন্তু বাস্তবে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তবে বৃদ্ধির প্রবণতা নেই বললেই চলে। এজন্যে যারা একান্তভাবেই বাড়ির মালিক হতে চেয়েছেন তারা এখনো মার্কেটে আছেন এবং ক্রয় করছেন। সুদের হার স্থিতাবস্থায় থাকলেও আমাদের মেডোব্রুক তুলনামূলকভাবে কম সুদেই ঋণ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে বলতে পারেন আমরা চ্যাম্পিয়ন। আকিব হোসাইন জানালেন, যদি কেউ মনে করেন যে, সুদের হার বেশী দিচ্ছেন, তাহলে তারা রিফাইন্যান্স করতে পারেন। সে সুযোগতো রয়েছেই।

আকিব হোসাইন জানান, চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে আমি ৮২টি বাড়ি ক্রয়ের জন্যে ঋণ দিয়েছি। যার পরিমাণ ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশী। যারা আমার অফিসে আসেন তারা সর্বোচ্চ সহায়তা পাচ্ছেন। এছাড়া আমরা ক্রেতাগণকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে আসছি বলে কম্যুনিটির অন্যতম একটি ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে মেডোব্রুকের এই শাখা। স্প্যানিশ এবং কিছু ইটালিয়ানও রয়েছেন আমার ক্লায়েন্টের মধ্যে। তবে বাংলাদেশীরা রয়েছেন শীর্ষে। জ্যামাইকা এবং ব্রঙ্কসে সবচেয়ে বেশী বাড়ি বিক্রি হচ্ছে এখোন। ব্রুকলীনে প্রপার্টির দাম এখনো অনেক বেশী হওয়ায় কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে। ইস্ট নিউইয়র্ক, ওজোনপার্ক সাইডে কিছু বাড়ির দাম এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকায় তা বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু মানুষ ব্রুকলীন থেকে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বাড়ি ক্রয় করছেন। সেখানে তুলনামূলকভাবে ভালো বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে অনেক কমদামে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সাথে ব্রুকলীন, ম্যানহাটানের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো সহজ করা হচ্ছে। তার আগেই তুলনামূলকভাবে কমদামে বাড়ি ক্রয়ে আগ্রহীরা ব্রুকলীন থেকে সেখানে পাড়ি জমাচ্ছেন।

মৃদুভাষী আকিব উল্লেখ করেন, গত বছর ৭৫টি বাড়ি ক্রয়ের ঋণ দিয়েছি। প্রত্যেক ক্রেতাই সন্তুষ্ট ছিলেন অন্য ব্যাংকের চেয়ে আমরা কম সুদে ঋণ দেয়ায়।

কুইন্সের জ্যামাইকায় হিলসাইড সংলগ্ন ১৩৯-২৭ কুইন্স বুলেভার্ডে নতুন অফিসে এ সংবাদদাতার সাথে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় গত বছর ব্যাংকের ‘টপ প্রডিউসার এওয়ার্ড’ প্রাপ্ত আকিব হোসাইন উল্লেখ করলেন, সততা-নিষ্ঠা-বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করায় প্রতিদিনই নতুন মানুষের আগমন ঘটছে। এজন্যে আমরা সবসময় ব্যস্ত রয়েছি। সাধ্যমত চেষ্টা করছি স্বপ্নের দেশে বাড়ির মালিক হতে আগ্রহী প্রবাসীগণকে সুপরামর্শ দিতে। এছাড়া, আমরা প্রি-এ্যাপ্রুভ্যালও প্রদান করি আগ্রহী ক্রেতাকে। যারা এ সেক্টরে বিনিয়োগ করতে চান তারাও পরামর্শ নিচ্ছেন অফিসে এসে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us