নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জামিনে মুক্তির পর মঙ্গলবার অপরাহ্নে ব্রুকলীন ফেডারেল কোর্ট ত্যাগ করেন আতিকুল ইসলাম। ছবি-সংগ্রহ।
ইমিগ্রেশনের নিউইয়র্কস্থ অফিসের পরিচালক সেজে এক নারীর সাথে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে অনৈতিক ফায়দা হাসিলে সক্ষম না হওয়ায় ঐ নারীর পরিবারের সকল সদস্যকে অবিলম্বে আইস (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট) অফিসে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন নিউইয়র্ক পুলিশের সার্জেন্ট আতিকুল ইসলাম (২৯)। বাংলাদেশী এই পুলিশ অফিসার আতিকুলকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর ব্রুকলীন ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হলে মাননীয় জজ টেরাইন মার্কেল তাকে ২৫ হাজার ডলার বন্ডে জামিন প্রদান করেছেন। একইসাথে তার অস্ত্র পুলিশের কাছে সমর্পণ এবং ঐ নারীর আশে-পাশে না যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সময় মাননীয় আদালতকে সরকারী আইনজীবী আরো জানান যে, সিলেটের সন্তান আতিকুলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাসপেনশনেই থাকতে হবে। জানা গেছে, সিলেটের সন্তান আতিকুল ২০১৮ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যোগদান করেন এবং সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি হয় ২০২৩ সালে। তিনি বার্ষিক এক লাখ ৫৫ হাজার ডলার পাচ্ছেন।
মামলার বিবরণে আরো জানা গেছে, সোস্যাল মিডিয়ায় ঐ নারীর সাথে আতিকের সম্পর্ক হয় এ বছরের ২৯ মার্চ। কুইন্সে সাক্ষাতের সময় আতিক নিজের নাম ‘জেমস ডব্ল্ওি এন্ডারসন’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। সে সময় আতিক ঐ নারীর কাছে নিজের অনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যর্থ হয়ে ১৫ এপ্রিল পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইস অফিসে হাজিরার নির্দেশ দেন। অভিবাসীদের গ্রেফতার আর বহিষ্কারের অভিযানে সন্ত্রস্ত কম্যুনিটির সদস্য হিসেবে নারীটি নিজেকে অসহায় ভাবলেও নিউইয়র্ক পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। এরপরই পুলিশের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ব্যুরো (উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সংস্থা) আতিকের ব্যাপারে সজাগ হয় এবং তাকে এই ভ’য়া পরিচয়ের জন্যে অভিযুক্ত করে। জানা গেছে, এহেন ভ’য়া পরিচয় প্রদানকালে আতিক কর্মরত কিংবা পুলিশের পোশাকে ছিলেন না। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে আতিকের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদন্ড হতে পারে। তবে আতিক নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আতিকের আইনজীবী জন আর্লিয়া জানান যে, তার মক্কেল এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমানে সচেষ্ট হবেন।
আতিকের গ্রেফতারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো যখোন অবৈধ ও গুরুতর অপরাধী অভিবাসীদেরকে গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেয়া আইসের অফিসারদের মুখোশ পড়ার বিরুদ্ধে এফবিআই নির্দেশ জারি করেছে। মুখোশের আড়ালে দুর্বৃত্তরাও আইসের এজেন্ট সেজে কাগজপত্রহীন অসহায় অভিবাসীদের হয়রানি ও হেনস্তার বেশ কটি ঘটনা উদঘাটিত হবার পরই এফবিআই সকলকে মুখোশহীন এবং নিজের পরিচয় উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার গতি-প্রকৃতির স্বার্থে সরকারী আইনজীবী ঐ নারীর পরিচয় গোপন রেখেছে। তবে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, কাগজপত্রহীন নারীটি বাংলাদেশী নন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে বাস করেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বেশ কয়েকশত বাংলাদেশী-আমেরিকান অফিসার রয়েছেন যারা অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনি অবস্থায় আতিকের এহেন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ ফেডারেল আদালত পর্যন্ত পৌঁছায় প্রবাসীরা হতবাক। বিশেষ করে ইমিগ্রেশনের ইস্যুকে দুর্বলতা ভেবে অন্যায় সুবিধা হাসিলের পন্থা অবলম্বনের মানসিকতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে।
Posted ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর