অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ছবি সংগৃহীত
রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন সচারচর বিদেশ সফরে যেতে চান না। এর প্রধান কারণ হলো নিরাপত্তা। যে কোন বিশ্বনেতার চেয়ে তাঁর নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেশি। এজন্য যেই দেশে সফরে যান শুধু সেখানকারই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আশ্বাস নেই ক্রেমলিনের, ব্যাপক নিজস্ব নিরাপত্তা প্রস্তুতিও থাকে দেশটির।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নামছেন ভারত ও রাশিয়ার অভিজাত কমান্ডোরা; ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রোন, স্নাইপার, জ্যামার এবং এআই পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি। পুতিনের আসন্ন ভারত সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে এক অভূতপূর্ব পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে পুতিনের।
জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রুশ প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা পরিষেবার উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মীরা, ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের শীর্ষ কমান্ডোরা এবং ভারতের স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ শুরু করেছেন। বলতে গেলে তাদের রাতদিন এখন হারাম।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যাপক মোতায়েন
পুতিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে চার ডজনেরও বেশি শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মী আগে থেকেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন। দিল্লি পুলিশ এবং ভারতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে এই রুশ কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টের কনভয় যে রাস্তা দিয়ে যাবে, তার প্রতিটি রুট ‘স্যানিটাইজ’ করছেন।
অর্থাৎ, সব ধরনের ঝুঁকিমুক্ত করতে যা যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন তার সবই করছেন তারা। পুতিনের যাত্রা পথের প্রতিটি অলি-গলি এবং দালানের সব ধরনের গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সব ধরনের অবকাঠামোর ম্যাপ এবং খুঁটিনাটি তথ্য দিতে হচ্ছে দিল্লির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের।
পুতিনের অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় সক্রিয় হয়ে উঠবে। বাইরের স্তরে থাকবে দিল্লি পুলিশ ও এনএসজি, আর ভেতরের নিরাপত্তা স্তর সামলাবেন রুশ প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতিতে ভারতের এসপিজি কমান্ডোরা ভেতরের নিরাপত্তা বলয়ে যুক্ত হবেন।
পুতিনের কনভয়কে সব সময় নজরে রাখতে বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করা হবে, যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এছাড়াও, রুটে মোতায়েন করা হবে একাধিক স্নাইপার। নিরাপত্তা নজরদারিতে জ্যামার, এআই পর্যবেক্ষণ এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরার মতো বিপুল সংখ্যক প্রযুক্তি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
কর্মব্যস্ত এই সফরে পুতিনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে অবতরণের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন। পরের দিন, শুক্রবার সকালে তাঁকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানানো হবে।
এরপর তিনি রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। পরে তিনি হায়দারাবাদ হাউসে শীর্ষ সম্মেলনে এবং ভারত মণ্ডপমে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। দিনের শেষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় ভোজেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন।
পুতিনের থাকার হোটেলটিও সম্পূর্ণরূপে ‘ঝুঁকিমুক্ত’ করা হয়েছে। রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁর নির্ধারিত এবং সম্ভাব্য সবগন্তব্যে পরিদর্শন ও তল্লাশি চালাচ্ছেন।
পুতিনের বিশেষ লিমুজিন ‘অরাস সেনাট’
পুতিনের নিরাপত্তার অন্যতম আকর্ষণ হলো তাঁর অতি সুরক্ষিত বিলাসবহুল লিমুজিন ‘অরাস সেনাট’। চাকা লাগানো দুর্গ- নামে পরিচিত এই গাড়িটি বিশেষভাবে মস্কো থেকে ভারতে আনা হচ্ছে। রুশ সরকার কর্তৃক নির্মিত উচ্চ-সুরক্ষিত এবং বিলাসবহুল যানবাহনের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে এটি চালু হয়। চলতি বছরের শুরুতে চীনে সাংহাই সম্মেলনে পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে এই সেনাটেই চড়েছিলেন।
Posted ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর