নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শনিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
সচেতন প্রবাসীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা ‘একাত্তরের প্রহরি’র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে : আমরা একাত্তরের প্রহরীর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্যহীন, এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধহীন একদল সেনা কর্মকর্তা, একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর ও তাদের আন্তকর্জাতিক মিত্র জঙ্গবাদীরা বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষদের তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করে ধোঁকা দিয়ে বেআইনি, অরাজনৈতিক, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও জবরদস্তিমূলক পন্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। তাদের সাথে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন দরীদ্র মানুষের রক্তচোষা অমানবিক সুদ ব্যবসায়ী, আদালত কর্তৃক একাধিক মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ড: ইউনুস। তারা নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক নাগরিক ও মানবাধিকার রহিত করেছে। এছাড়াও অগণতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের জাতীয় সংবিধান সংশোধনেরও উদ্যোগ নিয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমিক আপামর জনতার জন্য ছিল আরেকটি শোকাবহ কালো দিন। এই দিন পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অনলাইনে দেওয়া ভাষণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের মদদপুষ্ট দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অসংখ্য স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে দ্বিতীয় বারের মতো আক্রমণ করেছে। তাদেরই হাতে ইতোপূর্বে অগ্নিদগ্ধ এই বাড়িটির অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই ধারায় তারা বাংলাদেশের সর্বত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সকল স্মৃতিস্তম্ভ, ফলক ধ্বংস করে দিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারীদের বাড়িঘর ধ্বংস করে উল্লাস করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তাদের এই কর্মকান্ডে পাকিস্তানেও বিশেষ উল্লাস প্রকাশ করতে সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে, যার থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের চলমান ঘটনাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভেঙে ফেলার দৃশ্য যখন সরাসরি বাংলাদেশের অনলাইনে প্রচার করা হচ্ছিল, সারা দেশের এবং বহির্বিশ্বের অসংখ্য বাংলাদেশিদের সাথে আমরা নিউইয়র্কের একাত্তরের প্রহরী গভীর বেদনা ও পরিতাপের সাথে প্রত্যক্ষ করেছি। বিষয়টিকে আমাদের দেশের অস্তিত্বের জন্য একটি অশনি সংকেত বলে মনে হয়েছে। এই ঘটনাটি পুরো বাংলাদেশকে একাত্তরের সেই দুর্বিষহ যুদ্ধের দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। একাত্তরের নয় মাস পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের সাথে দেশীয় ঘাতক দালাল রাজাকাররা যেভাবে সাধারণ মানুষদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, অত্যাচার নির্যাতন করেছিল, হুবহু একই কাজটি বর্তমান দখলদার সরকারের আমলে সংঘটিত হচ্ছে। একাত্তরে যে পরিস্থিতিতে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল মানুষ প্রাণপণ যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, বাংলাদেশে এখন তেমন একটি পরিস্থিতি বিরাজমান আছে।
বাংলাদেশে বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে আমরা একাত্তরের প্রহরী মনে করি যে, দেশকে বর্তমান সরকারের অধীনতা, তথা পাকিস্তানি বলয় থেকে মুক্ত করতে হলে স্বাধীনতা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ সকল সচেতন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আমাদের প্রত্যাশা, চলমান ঘটনাবলিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সর্বত্র দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিরা আলাপ-আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে অচিরেই ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং সকল ক্ষুদ্র স্বার্থ, অনৈক্য, দলাদলি ও বিভেদ ভুলে গিয়ে তিরিশলক্ষ প্রাণ ও দুইলক্ষ ধর্ষিতা মা-বোনদের নির্যাতনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আদর্শকে অবিকৃতভাবে অক্ষুন্ন রাখতে প্রাণপণে সচেষ্ট হবেন। আমরা একাত্তরের প্রহরী দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছি যে, উপরোক্ত প্রত্যাশা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন ও কুটনৈতিক চাপ সৃষ্টিসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সাহায্য সহায়তা প্রদান করতে সদা প্রস্তুত থাকবো।
Posted ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর