বঙ্গবন্ধু বইমেলা সফল করতে ‘একাত্তরের প্রহরী’র আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
সোমবার, ১২ মে ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু বইমেলা সফল করতে ‘একাত্তরের প্রহরী’র আহ্বান

ফাইল ছবি

নিউইয়র্কে আসন্ন ‘বঙ্গবন্ধু বইমেলা’ সফল করে তুলতে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সামাজিক এ্যাক্টিভিস্ট মোর্চা ‘একাত্তরের প্রহরী’। এক বিবৃতিতে এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নিউইয়র্কে মুক্তধারা বইমেলা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী’ একটি সভা আয়োজন করেছিল। সে সভায় নিউইয়র্ক ও সংলগ্ন এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটির আয়োজনে আগামী ২৪ ও ২৫ মে ‘বঙ্গবন্ধু বইমেলা ২০২৫’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সে অনুযায়ী এই মেলার আহ্বায়ক হিসেবে একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড নুরুন্নবীর নামটি গৃহীত হয়।

১১ মে পাঠানো এ বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু বইমেলার প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে নিউইয়র্কে মুক্তধারা বইমেলা অনুষ্ঠিত হবার কথা। সম্প্রতি এই বইমেলার কর্মসূচি ও আমন্ত্রিত অতিথি তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকা ও কর্মসূচি বইমেলা অনুরাগীদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সাথে সাথেই বইমেলার কর্মসূচি ও অতিথি তালিকার ব্যাপারে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এজন্যে মুক্তধারা বইমেলা আয়োজক সংগঠনের প্রধান ড. নুরুন্নবী পদত্যাগ করেছেন, কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক-সংগঠক তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ও বইমেলা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। স্বতস্ফুর্তভাবে ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্কের বইমেলার মূল আদর্শ-উদ্দেশ্য অনুসরণে আরেকটি বইমেলা আয়োজনের।’

আরো বলা হয়েছে, ‘এর আগে বইমেলা নিয়ে ভেতরে ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল বইমেলা আয়োজক কমিটির সভায়। মতবিরোধের বিষয় ছিলো বইমেলা (ক) ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-অনুসৃত পুরনো নীতিতে চলবে, না-কি (খ) বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন সরকারের নীতি, দৃষ্টিভঙ্গী ও আদর্শে চলবে। এহেন বিতর্ক নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে একাধিক সভা ও মতবিনিময়ের পর চেয়ারম্যান ড. নুরুন্নবীর কাছে যখন প্রতীয়মান হয়েছিল যে, বইমেলাটি বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী ও আদর্শকে প্রচ্ছন্নভাবে সমর্থন করে আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এ কারণে তিনি পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। ড নবীর এই ঘোষণার ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পত্রিকান্তরে ও সোশ্যাল মিডিয়াতে বইমেলা অনুরাগীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কমিউনিটির ক্ষোভ প্রশমনের জন্য সাথে সাথে বইমেলা আয়োজক সংগঠনের প্রভাবশালী সদস্যগণ ড নবীকে আশ্বস্ত করেন যে, বইমেলা পুরনো ধারাতেই চলবে, এবং অতিথি তালিকা থেকে কর্মসূচি, সব কিছুতেই সেটা প্রতিফলিত হবে। ফলে ড নবী বইমেলা ২০২৫ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল থাকেন, যদিও এ সিদ্ধান্তে কমিটির অপর দুজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত কর্মসূচি ও অতিথি তালিকা প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে যে, বইমেলা আয়োজক কমিটির যারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একজোট হয়েছিলেন, তারা বইমেলা অনুরাগীদের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য ড নবীকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কমিটিতে পুনর্বহাল করেছিলেন। তারা তাদের ষড়যন্ত্রে অটল থেকে কমিটি থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাবিরোধী বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের অন্ধ অনুসরণকারী পদত্যাগকারী দুজনকে পুনর্বহালসহ একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের নিয়ে কর্মসূচি তৈরি করেছে। অতিথি তালিকায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদেরকে অবহেলা করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উপর প্রভাব আছে, সাদাত হোসাইন নামের এক সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী অযোগ্য ও অখ্যাত লেখককে বইমেলার উদ্বোধক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এই সাদাত হোসাইন চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট সন্ত্রাসের পক্ষে সক্রিয়ভাবে রাজপথে মাইক হাতে নেমে দখলদার ইউনুসের গভীর ষড়যন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি এখনও অব্যাহতভাবে অবৈধ ইউনুস সরকারের সমর্থনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্যদের এহেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ড.নুরুন্নবী অবশেষে তার পদত্যাগ চূড়ান্ত করেছেন এবং মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকার অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক-সংগঠক বইমেলার কর্মসূচি থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সকল সৃষ্টিশীল লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী’ একটি সভা আয়োজন করেছিল। সভায় নিউইয়র্কের লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দেওয়া অভিমতের আলোকে একটি বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সমসাময়িক কালে যখন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিকে বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলতে উদ্যত হয়েছে পাকিস্তানি আলবদর-রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষক ইউনুস সরকার, তখন নিউইয়র্কের এবারের বইমেলার নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু বইমেলা-২০২৫’ বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একাত্তরের প্রহরীর সাথে এই বইমেলা আয়োজনে অংশ নেবেন উত্তর আমেরিকার সকল সৃষ্টিশীল লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মী ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তি ও সংগঠন।

এই মেলায় যারা জাতির পিতার অবমাননায় বঙ্গবন্ধুর বাসবভন ও যাদুঘর ৩২ নম্বর ধানমন্ডি ধ্বংসে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননায় উল্লাস করেছে কিংবা প্রতিবাদ না করে নিরব থেকেছে, জয় বাংলা স্লোগানে যাদের গাত্রদাহ হয়, যারা খুনি, ধর্ষণকারী, শিক্ষক অবমাননাকারী এবং সাম্প্রদায়িকতাবাদী ও জঙ্গীবাদীদের প্রশ্রয় দেয় এবং যারা মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে পরাশক্তির কাছে বিক্রি করে, মানুষের আর্থিক দৈন্যতাকে পুঁজি করে সুদ ব্যবসায়ী ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সমর্থন করে, এই বইমেলাতে তাদের কোনো স্থান থাকবেনা।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, একাত্তরের প্রহরীর আয়োজনে আরেকটি বইমেলা আয়োজনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে অসংখ্য লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মীগণ একাত্তরের প্রহরীকে অভিনন্দিত করেছেন। একাধিক পুস্তক প্রকাশক সময়স্বল্পতার কারণে সীমিত পরিসরে হলেও বইমেলায় তাদের স্টল দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অনেক শিল্প, সাহিত্য ও কমিউনিটি সংগঠন বইমেলায় অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

মাত্র দু সপ্তাহের প্রস্তুতিতে দুদিনব্যাপী একটি বইমেলা আয়োজন খুব সহজ কাজ নয়। এ কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১২ মে ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us