নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন সিনেটে বিরোধী দলীয় নেতা সিনেটর চাক শ্যুমার (ডেমক্র্যাট-নিউইয়র্ক) ২৫ মার্চ প্রদত্ত এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতির জন্য মার্কিন সহায়তা প্রকল্পের মঞ্জুরি স্থগিত করায়। প্রবীন এই রাজনীতিক ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে ইউএসএইডের এসব মঞ্জুরি পুনরায় সক্রিয় করার উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন, এমন একটি ভুলের জন্যে নিদারুণ কষ্টে নিপতিত করবে বাংলাদেশকে, আমেরিকা এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক ও এই অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থকেও ঝুঁকিতে ফেলবে। উল্লেখ্য, গতবছর ইউএসএইড ৩৭১ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে প্রদান করেছে মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং সামাজিক সেবা, দুর্যোগ মোকাবেলার প্রকল্পসহ পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্পে। এমনি অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশসহ গোটাবিশ্বে ইউএসএইডের মঞ্জুরি স্থগিত হয়ে পড়েছে। সিনেটর চাক শ্যুমার বলেছেন, ইউএসএইড’র কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশের আপামার জনসাধারণের ওপর বিরুপ ধারণা তৈরী করেছে, একইসাথে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি-স্বার্থকেও নাজুক অবস্থায় নিপতিত করতে পারে। বাংলাদেশকে নানাভাবেই সহায়তা দেয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশটির মানবিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অভিপ্রায়ে।
সিনেটর চাক শ্যুমার বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী আমেরিকানরা অত্যন্ত মর্যাদাবান ও ক্রমবর্দ্ধমান একটি জনগোষ্ঠি হিসেবে পরিচিত। ইউএসএইডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে কাজ করছে বহু বছর যাবত। মানবিক সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইউএসএইডের সহায়তা অপরিসীম অবদান রেখে আসছে। সাম্প্রতিক বন্যাসহ বিভিন্ন সময়ের সংকট-দুর্যোগে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে পড়া এলাকার স্বার্থে এই অর্থ সহায়তার গুরুত্ব অপরিসীম।
জীবন রক্ষাকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন আকস্মিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশের মত বহুদেশের সামাজিক, মানবিক ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে নেয়া হয়েছে। এজন্যে আমি প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি অবিলম্বে ইউএসএইডের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর জন্যে, এবং বাংলাদেশের জন্যে মঞ্জুরিকৃত অর্থের ছাড় দেয়া হউক। মূলকথা হচ্ছে, বাংলাদেশকে আমরা যে সহায়তা দিচ্ছি তা উভয়ের জন্যে মঙ্গলকর, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীরা যেমন ঐসব উন্নয়ন প্রকল্পের ছোঁয়া পাচ্ছেন, তেমনি বাংলাদেশেও আমেরিকার স্বার্থকে সমুন্নত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
সিনেটরের অফিস আরো জানিয়েছে, ইউএসএইডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত নানা প্রকল্পের সুফল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও রাখছিল। এভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মধ্যদিয়ে দেশটি তার নিজের এগিয়ে চলার অভিপ্রায়ে নিজেরাই সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা গ্রহণের পথ পাচ্ছিল। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায়সমূহ দূর করার পথে দিপ্ত প্রত্যয়ে হাঁটার সুযোগ লাভেও সক্ষম হচ্ছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউএসএইডের মাধ্যমে বাংলাদেশ মোট ৩৭১ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এরমধ্যে মানবিক সহায়তা খাতে-১৬০.৫ মিলিয়ন ডলার, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে-৪৮.৬৯ মিলিয়ন ডলার, অর্থণৈতিক উন্নয়নে ৬২.২৯ মিলিয়ন ডলার, শিক্ষা.সমাজসেবায় ২৭.৬ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ৮৫.১১ হাজার ডলার প্রদান করা হয়।
উদ্ভ’ত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জেবিবিএর সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান, বাংলাদেশী আমেরিকান সোসাইটির সেক্রেটারি আমিন মেহেদি, বাংলাদেশী আমেরিকান কম্যুনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ এন মজুমদার পৃথক পৃথকভাবে বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে সিনেটর চাক শ্যুমারের যে আহবান আমরাও তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি। এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুরোধ জানাচ্ছি অবিলম্বে বাংলাদেশে চলমান ইউএসএইডের প্রকল্পগুলো থেকে তহবিল সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত রদ করার জন্যে। অন্যথায় বাংলাদেশের বিরাটসংখ্যক মানুষ অবর্ননীয় দুর্দশায় নিপতিত হবে।
Posted ৮:২২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর