মামুলি অপরাধে লিপ্ত অভিবাসীদেরকেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের বিল পাশ কংগ্রেসে

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মামুলি অপরাধে লিপ্ত অভিবাসীদেরকেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের বিল পাশ কংগ্রেসে

মামুলি অপরাধে জড়িত কাগজপত্রহীন অভিবাসীদেরকেও গ্রেফতার করে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার একটি বিল মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হয়েছে। ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই কাগজপত্রহীন অর্থাৎ অবৈধ অভিবাসীদেরকে ঢালাওভাবে গ্রেফতারের যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র গুরুতর অপরাধে লিপ্তদের কথা রয়েছে। সর্বশেষ এই বিলে গুরুতর অপরাধীদের সাথে মামুলি অপরাধে লিপ্তদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হলো। অর্থাৎ বাস-রেলে বিনা টিকিটে ভ্রমণের চেষ্টা, স্টোরে ছোট খাটো জিনিষ এবং বাড়ি-ঘর থেকে চুরির সময় ধরা পড়া, পকেট কাটা অথবা কাউকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া, ট্রাফিক আইন লংঘনের জন্যে জরিমানা প্রদানকারিরাও ট্রাম্পের ঐ ষাড়াশি অভিযানের আওতায় এলো। আর এই বিলে রিপাবলিকান পার্টির সাথে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ৪৮ জন কংগ্রেসম্যানও ভোট দিয়েছেন। অর্থ্ৎা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুধু রিপাবলিকানরাই নন, অনেক ডেমক্র্যাটও রয়েছেন। বিলটি পাশ হয়েছে ২৬৪-১৫৯ ভোটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গত নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের ভোটে আপামর আমেরিকানের আগ্রহে ভাটা পড়ায় সামনের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও তার ঢেউ লাগতে পারে। এজন্যে অভিবাসী ইস্যুতে ভোটারের মন রক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসন বিরোধী এই বিলে উপরোক্ত ডেমক্র্যাটরা ভোট দিয়েছেন। আরো জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের সীমানা ওপেন করায় গত চার বছরে ২২ লাখের অধিক বিদেশী ঢুকেছে আমেরিকায় এবং তাদের অনেকেই নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকায় গ্রেফতারও হচ্ছে। টেক্সাস, আরিজোনা স্টেটে ঐসব অবৈধ অভিবাসীদের স্থান সংক’লান না হওয়ায় বাসে ভরে নিউইয়র্ক, বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, শিকাগো এবং লসএঞ্জেলেস সিটিতে অনেক বিদেশীকে পাঠানো হয়েছে। এরফলে এসব সিটির আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে খেটে খাওয়া মানুষেরাও বিব্রত। কারণ, বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারিদেরকে সরকারী খরচে হোটেল-মোটেলে রাখা হচ্ছে। খাদ্য ক্রয়ের জন্যে ডেবিট কার্ড প্রদান করা হয়েছে বাইডেনের নির্দেশে।

বাস্তবতার আলোকে পেনসিলভেনিয়ার ডেমক্র্যাট ইউএস সিনেটর জন ফেটারম্যান মঙ্গলবার গণমাধ্যমে বলেছেন, অবৈধভাবে বসবাসরতরা সামাজিক শান্তি বিনষ্টের কারণ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ট্যাক্স প্রদানকারিদের ওপর চাপ ফেলছে। তাই ওদের গ্রেফতার করে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার বিকল্প নেই। ইউএস সিনেটে রিপাবলিকানরা ৫৩ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এই বিল পাশে প্রয়োজন ৬০ ভোটের। তাই অন্তত: ৭ জন ডেমক্র্যাট সিনেটরকে রিপাবলিকানদের পাশে দাঁড়াতে হবে। ইতিমধ্যেই পেনসিলভেনিয়ার এই সিনেটর প্রকাশ্যে নিজের মতামত ব্যক্ত করার পর আরিজোনার সিনেটর রুবেন গ্যালেগো এবং মিশিগানের সিনেটর ইলিসা স্লটকিনও নড়েচড়ে উঠেছেন। অবশিষ্ট ৪ জনকেও রিপাবলিকানরা পেয়ে যাবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)’র পক্ষে মামুলি অপরাধে লিপ্তদের গ্রেফতার ও বহিষ্কারের ক্ষমতা নেই। এ তথ্য জানিয়েছেন জর্জিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্স। তিনি উত্থাপন করেছিলেন সর্বশেষ বিলটি। বিল পাশের পর গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেসম্যান কলিন্স বলেন, অপরাধে লিপ্তদের সমাজ থেকে সরাতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে অবৈধভাবে বাস করেও অপরাধে লিপ্তদের বিরুদ্ধে। অপরদিকে ওয়াশিংটনের কংগ্রেসওম্যান (ডেমক্র্যাট) প্রমিলা জয়পাল এই বিলের সমালোচনাকালে বলেছেন, এটি আইনে পরিণত হলে অনেক নিরপরাধ অভিবাসীও গ্রেফতারের আশংকা রয়েছে। প্রতিটি মানুষেরই অধিকার রয়েছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে সকল প্রক্রিয়া অবলম্বনের। কিন্তু পাশ হওয়া বিলটি সিনেটের অনুমোদন পেলে কাগজপত্রহীনরা ভয়ংকর ভীতিতে নিপতিত হবে। যা আমেরিকার নীতি-নৈতিকতার সাথে যায় না।

সামাজিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তকে নিñিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনা তথা দক্ষিণের সাড়ে ৫০০ মাইল সীমানায় দেয়াল নির্মাণের অঙ্গিকার রয়েছে ট্রাম্পের। বেআইনীভাবে একজন বিদেশীও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না-এমন একটি ব্যবস্থায় আগ্রহী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্ভন্তরে যেসব অবৈধ অভিবাসী রয়েছে তাদেরকেও নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার সুদূর প্রসারি পরিকল্পনার কথা ইতিমধ্যেই তিনি ঘোষণা করেছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us