এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম
প্রিন্ট
শনিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ডিটেনশেন সেন্টার থেকে মুক্তির পর কন্যা রিয়ার সাথে মাসুমা খান। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
টানা ৩১দিন পর ক্যালিফোর্নিয়া ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৫ নভেম্বর মুক্তি পেলেন বাংলাদেশী মাসুমা খান (৬৪)। স্বামী ইশতিয়াক খান কর্তৃক অভিবাসনের মর্যাদা সমন্বয়ের (স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্ট) জন্যে করা আবেদনের পর লসএঞ্জেলেসস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে পূর্ব নির্দ্ধারিত তারিখে (৬ অক্টোবর) হাজিরা দিতে গেলে ওৎপেতে থাকা আইসের (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা মাসুমা খানকে আটক করে শতাধিক মাইল দূর ক্যালিফোর্নিয়া সিটি ডিটেনশন সেন্টারে রেখেছিল। এহেন আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মাসুমা খানকে মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন এলাকার কংগ্রেসওম্যান জুডি চু এবং ইউএস সিনেটর এডাম শেফ। একইসাথে মাসুমা খানের কন্যা এটর্নী রিয়া খানও ইমিগ্রেশন কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। এছাড়া লসএঞ্জেলেসভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক’র পক্ষ থেকেও জটিল রোগে আক্রান্ত মাসুমা খানের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে ফ্রেসনো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট মাসুমা খানকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। ১৪ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজিরার জন্যে বলা হয়েছে। একইসাথে মাননীয় আদালত আইস-সহ ইমিগ্রেশনের সকল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে ‘স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্ট’র আবেদনের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসুমা খানকে হয়রানি/গ্রেফতার না করার জনে।
মাসুমা খানের মুক্তির পর এটর্নী রিয়া খান এ সংবাদদাতাকে ক্ষোভের সাথে জানান, লসএঞ্জেলেস সিটিতে বসবাসরত বাংলাদেশী একটি দুষ্টচক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন মা। তারা মোটা অংকের অর্থ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন গ্রীণকার্ডের সবকিছু করে দেয়ার। সেটি ১৯৯৭ সালের কথা। সে সময় মা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ট্যুরিস্ট ভিসায়। ঐ দুর্বৃত্ত চক্রটির নিষ্ঠুর প্রতারণার শিকার হয়েছেন আমার সহজ-সরল মা। রিয়া খান এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন এবং একইসাথে কর্র্তৃপক্ষ সমীপে নিবেদন করেছেন অবিলম্বে বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে ওদেরকে শাস্তির জন্যে।
জানা গেছে, ঐ চক্রটি মাসুমা খানের নাম পাল্টিয়ে ‘নূরজাহান’ নামে এসাইলামের আবেদন করেছিল ওদের ঠিকানায়। এবং মাসুমা খানকে বলা হয়েছিল যে, সবকিছু রীতি অনুযায়ী হয়ে যাবে। এরফলে মাসুমা খান ইউএস সিআইএস’র কোন নোটিশ কিংবা তার সেই ভ’য়া নামে করা আবেদন যে নাকচ হয়েছে সেটিও জানতে সক্ষম হননি। এরমধ্যেই তার স্বামী (যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন) ইশতিয়াক খান তার জন্যে ‘স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্ট’র আবেদন করেন ২০২০ সালে। এই আবেদনের পর মাসুমা খান জানতে পারেন যে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি হয়েছে অনেক আগে। এরপর তারা ঐ বহিস্কারাদেশ উঠিয়ে নিতে দু’দফা আবেদন করেছিলেন । দু’বারই নাকচ করা হলেও পরবর্তিতে মাসুমা খানের সাথে ঐ দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তপনার তথ্য বিশ্বাস করে ইউএসসিআইএস (যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস )মাসুমা খানের স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্টের ব্যাপারটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। অর্থাৎ সেই আপিল আবেদন পেন্ডিং রয়েছে এবং সে অনুযায়ী বছরে অন্তত: একবার করে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে হাজিরার প্রক্রিয়ায় ছিলেন এবং গত ৬ অক্টোবর হাজিরা দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চলমান ‘অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার’ কর্মসূচির ভিকটিম হয়েছিলেন তিনি।
মাসুমা খান ন্যায় বিচার চেয়েছেন এবং এহেন দু:সহ অবস্থা থেকে রক্ষার জন্যে যারা সচেষ্ট ছিলেন তাদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। মাসুমা খানের এহেন পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত সংবাদ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমেও এসেছে বেশ কয়েক দফায়।
Posted ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর