নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ছবি সংগৃহীত
‘আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী’রা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বার্ষিক অবদান রাখছেন ৪৩.৮ বিলিয়ন ডলার। শুধু তাই নয় শিক্ষা, খুচরা-স্টোর, সেবামূলক সেক্টর তথা হোটেল-রেস্টুরেন্ট-ক্লিনিক/লাইব্রেরীতে কর্মসংস্থানেও অবদান রাখছেন ৩৭৮১৭৫ শিক্ষার্থী। অভিবাসীগণের গতি-প্রকৃতি নিয়ে কর্মরত ‘বাউন্ডলেস ইমিগ্রেশন’ নামক একটি সংস্থা আরো জানায় যে, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষা বর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীগণের অবদান আগের অর্থ বছরের চেয়ে বেড়েছে ৯.৫%। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নয়া নীতি কার্যকর হলে বিশ্বের সেরা মেধাবি শিক্ষার্থীর আগমণে ভাটা পড়বে এবং প্রকারান্তরে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে উন্নতির শীর্ষে আরোহনের যে ঐতিহ্য যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে তা থেকেও চরমভাবে বঞ্চিত হবার আশংকা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জিয়াও ওয়াং।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে এ যাবত যে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে তারমধ্যে ৪ হাজার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে ইসরাইলের বর্বরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন অথবা অংশগ্রহণ করার। অপর দুই হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল দোকানে চুরি, ছিনতাই অথবা মারপিটে লিপ্ত হওয়া কিংবা শিক্ষাঙ্গনের পরিবর্তে হোটেল-রেস্টুরেন্টে কাজ করার। আর হামাস-সহ অঅন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী (যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায়) চক্রের সমর্থক হিসেবে ৩০০ শিক্ষার্থীর ভিসা কেড়ে নেয়া হয়েছে।
‘বাউন্ডলেস ইমিগ্রেশন’র তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ/ভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৮০ হাজার। ২০২৩ সালের চেয়ে তা ৫.৩% বেশী।
জিয়াও ওয়াং জানান, বিশ্বের মেধাসম্পন্নরা যদি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের বর্তমান রীতি অনুযায়ী ভিসা না পায় তাহলে তারা ছুটবেন কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য-সহ বিভিন্ন দেশে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আগতদের ৭০% হলেন এশিয়ান। এরমধ্যে ৪২২৩৩৫ জন ভারতীয় এবং ৩২৯৫৪১ জন হলেন চীনা। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী’ ভিসায় আগতদের ৪৭.৫% ছিলেন ভারত ও চীনের। আমেরিকার মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পর যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন কর্পোরেশনে চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসতির সুযোগ পাচ্ছেন এসব শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া নীতির পরিপ্রেক্ষিতে তা হুমকির সম্মুখীন হতে চলছে। গবেষণায়ও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে জিয়াও ওয়াং-এর আশংকা। জানা গেছে, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৪৫৫৪ জন ‘অপশনাল প্র্যাক্টিকেল ট্রেনিং প্রোগ্রাম’ (ওপিটিপি)’র আওতায় ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন। এরমধ্যে ‘স্টেম’ (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যাথমেটিক্স)’র আওতায় রয়েছেন ৯৫৩৮৪ জন। এরা কাজ করছেন অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা এবং আপেলের মত কর্পোরেশনে। কাজের মাধ্যমে বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শনকারিরা এসব কোম্পানীর স্পন্সরেই গ্রীণকার্ড পাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে সিটিজেনশিপ নিচ্ছেন। অর্থাৎ সেরা মেধাবিগণের মেধার বিনিয়োগ ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো উন্নতি প্রদানে। এমন বাস্তবতাকে অস্বীকার করার অর্থ হবে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে চলার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরীর সামিল-মন্তব্য অর্থনীতি ও ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞগণের। উল্লেখ্য, এফ-১, এম-১ এবং জে-১ ভিসা (নন-ইমিগ্র্যান্ট) কার্যক্রমের তদারকি করে থাকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অনুমোদনে ইউএসসিআইএস। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা ইস্যু করে। গত ২৭ আগস্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক ফেডারেল রেজিস্টারে শিক্ষা ভিসা সম্পর্কিত পরিকল্পনায় ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী মনোভাবের কথা রয়েছে অর্থাৎ স্টুডেন্ট ভিসাতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের নীতির পরিপূরক নয় কিংবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গৃহিত নানা পদক্ষেপের সাথে একমত নয়-এমন রাষ্ট্রসমূহের শিক্ষার্থীরা ভিসা থেকে বঞ্চিত হবেন। চীন এবং ভারতের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক খুবই উত্তপ্ত হওয়ার প্রভাব পড়বে ভিসার ক্ষেত্রে তা বলার অপেক্ষা রাখে না বলে গুঞ্জন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। এর অবস্থায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীগণের অবদানও থমকে দাঁড়াবে।
.
Posted ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর