বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
‘যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না’, ‘ডেমক্র্যাসি নট ডিক্টেটরশিপ’, ‘আমাদের দেশ কোন দিকে যাচ্ছে’, ‘ডিওজিইকে চাকরিচ্যুত করুন’, ‘মাস্ককে মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে দিন’, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই’, ‘রাজতন্ত্র মানি না-মানবো না’, ‘মাস্ককে বিতাড়িত করুন’ ইত্যাদি স্লোগানে গোটা আমেরিকা প্রকম্পিত হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ এপ্রিল শনিবার এ বিক্ষোভ হয়। ৫০টি স্টেটে প্রায় ১ হাজার ২০০ বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক দিনে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।
ওয়াশিংটনের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। হালকা বৃষ্টিও ছিল। এরই মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ওয়াশিংটনের কানেটিকাট অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভকারীদের লাইন শহরের ন্যাশনাল মল এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়েছিল। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ট্রাম্পের গণবিরোধী কর্মকান্ডের নিন্দা আর প্রতিবাদ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যায় নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, টেক্সাস, মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, শিকাগো, বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, কানেকটিকাট, নিউজার্সি, আরিজোনা, মিনেসোটা, আলাবামা, ওরেগণ, ক্যানসাস, ক্যান্টাকি, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, দেলওয়ারে, ওহাইয়ো, আইওয়া, সিয়াটল, নর্থ ক্যারলিনা, সাউথ ক্যারলিনা, উইসকনসিন, নিউ হ্যামশায়ার, রোড আইল্যান্ড, সানফ্রান্সিসকো প্রভৃতি স্থানে লাখ লাখ আমেরিকান ‘হ্যান্ডস অফ’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলোন মাস্ককে কড়া বার্তা দিলেন। এর আগে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারিতে প্রথম মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন বিশাল প্রতিবাদে ফেটে উঠেছিলেন মহিলারা। এরপর জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে সারা আমেরিকায় ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন দেখেছেন আমেরিকানরা। ৫ এপ্রিল শনিবারের এই ‘হ্যান্ডস অফ’ কর্মসূচি আগের সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে বলে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন মিডিয়া উল্লেখ করে। কারণ, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে শুধু অভিবাসী সমাজই নয় খেটে খাওয়া আমেরিকানের সকলেই আক্রান্ত। ইলোন মাস্কের পরামর্শে ফেডারেল অফিসের কয়েক লাখ কর্মচারিতে ছাটাইয়ের ঘটনায় হতভম্ব সাধারণ নাগরিকেরাও। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের কী হতে পারে, তা ভেবে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ছি।’
বিক্ষোভের নাম দেওয়া হয় ‘হ্যান্ডস অফ’। এর একটি অর্থ হতে পারে,‘আমাদের নিজের মতো চলতে দাও’। বিক্ষোভে দেড় শটির মতো গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে। সেগুলোর একটি ‘ইনডিভিজিবল’। গোষ্ঠীটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন গণমাধ্যমে বলেন, বিশাল এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে তাঁরা ট্রাম্প, ইলন মাস্ক, রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ও তাঁদের মিত্রদের পরিষ্কার বার্তা পাঠালেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় বসার পর নতুন গঠন করা সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব দেন বিলিয়োনেয়ার ইলন মাস্ককে। এরপর থেকে মাস্কের দল কেন্দ্রীয় সরকারের ২৩ লাখ কর্মচারীর মধ্যে ২ লাখের বেশি পদ শূন্য করেছে। শুক্রবারও মেরিল্যান্ড স্টেটের বাল্টিমোর শহরের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন শত শত মানুষ। সংস্থাটি ডিওজিইর বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
নিউইয়র্কে ‘হ্যান্ডস অফ’ কর্মসূচিতে ট্রাম্প-মাস্ক-এর নিন্দা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
সম্প্রতি সংস্থাটির সাত হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউজের সন্নিকটে ন্যাশনাল মলের বিক্ষোভ-সমাবেশে কথা বলেছেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির কয়েকজন কংগ্রেসম্যান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে আমেরিকানদের জিম্মি করেছেন ট্রাম্প ও মাস্ক। এহেন অবস্থাকে চলতে দেয়া যায় না, দেয়া হবে না।
নিউইয়র্কে ‘হ্যান্ডস অফ’ কর্মসূচিতে ট্রাম্প-মাস্ক-এর নিন্দা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
২০ জানুয়ারিতের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প একের পর এক নির্বাহী আদেশের বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে শুরু করেন। বিরোধীদের জন্য ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপের বিষয়ে নিজেদের অসন্তোষ জানানোর সুযোগ হয়ে এসেছে এই ‘হ্যান্ডস অফ!’ প্রতিবাদ।
Posted ৮:০০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর