এজাজ আহম্মেদ
প্রিন্ট
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
সংগৃহীত ছবি
দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেফতার হয়েছেন। রবিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন ইউএইর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়। বর্তমানে তিনি দেশটির পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথি, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলের কাছে আবেদন পাঠানো হয়। পরে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং তার ভিত্তিতে ইউএই কর্তৃপক্ষকে তাকে গ্রেফতারের অনুরোধ জানানো হয়।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেফতারের ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাগুলোতে পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
Posted ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর