Blog

  • ছাত্রলীগের ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়েলস ইউকের আলোচনা সভা

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছাত্রলীগ ওয়েলস ইউকের পক্ষ থেকে ৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার বৃটেনের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ শহরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

    ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রাক্তন ছাত্রনেতা এম এ মালিকের সভাপতিত্বে এবং ওয়েলস যুবলীগ সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা ভিপি সেলিম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়েলস ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়েলস আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, ওয়েলস যুবলীগের সাবেক সভাপতি জয়নাল আহমদ শিবুল, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল ওয়াহিদ বাবুল, ওয়েলস যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আবুল কালাম মুমিন, ওয়েলস যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা সাজেল আহমেদ, ওয়েলস ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুল হক মনসুর ও সাসাধারণ সম্পাদক শাহজাহান তালুকদার শাওন প্রমুখ। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মকিস মনসুর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ রচনায় অনবদ্য অবদান রাখা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মোৎসর্গকারী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে পাহাড়সম বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যে সকল নেতাকর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে সংগঠনের প্রতি গভীর আবেগ ও ভালোবাসা থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করেছে তাদেরকে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সুদীর্ঘ ৭৭ বছর বয়সের ছাত্রলীগের ইতিহাস ঐতিহ্য কোন দুর্বৃত্তদের কাছে জিম্মি হতে পারেনা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমাদের শিকড়, আমাদের অহংকার,আমাদের আত্মপরিচয়।

    এম এ মালিক বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণের চিন্তা-চেতনার বাতিঘরে প্রজ্জ্বলিত দীপশিখা। অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস ও তার নেতৃত্বে পরিচালিত দেশবিরোধী অপশক্তি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপর দমন-পীড়ন ও হামলা চালিয়ে তা নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু এই অশুভ দানবীয় শক্তি জানেনা যে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অসম সাহসিকতা, বীরত্ব ও অকুতোভয় রক্তের স্রোতধারার উত্তরাধিকার বহনকারী সংগঠন। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। দেশপ্রেম ও লড়াই-সাংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এক, অদ্বিতীয় ও অপ্রতিরোধ্য।
    সাবেক ছাত্রনেতা ভিপি সেলিম আহমদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগের ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলা, বাঙালি, স্বাধীনতা এবং স্বাধিকার আন্দোলনে লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস; কলমের জোড়ে কখনো ইতিহাস মুছে ফেলা যায়না!

    জাতির ক্রান্তিলগ্নে সময়ের তাগিদে গড়ে উঠা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানেই ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ মানেই ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ মানেই ১৯৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন, ছাত্রলীগ মানেই ১৯৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান, ছাত্রলীগ মানেই ১৯৭০ এর নিবার্চন, ছাত্রলীগ মানেই ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা, ছাত্রলীগ মানেই ১৯৯০ এর গণআন্দোলন, ছাত্রলীগ মানেই মুক্তি, ছাত্রলীগ মানেই শক্তি, ছাত্রলীগ মানেই শিক্ষা, ছাত্রলীগ মানেই শান্তি’, ছাত্রলীগ মানেই প্রগতি। এই সংগঠন কোটিকোটি মানুষের আবেগ অনুভূতি।

    ছবির ক্যাপশন-ইউকে ছাত্রলীগ

    বৃটেনের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ শহওে ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
    ==============

     

    Facebook Comments Box
  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব? একদিনে দাবানল আরেকদিকে তুষারঝড়, লণ্ড ভণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবন

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব? একদিনে দাবানল আরেকদিকে তুষারঝড়, লণ্ড ভণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবন

    মধ্য আটলান্টিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়ংকর একটি তুষার-ঝড়ের চারদিনব্যাপী তান্ডবের রেশ কাটার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে আরো বিপজ্জনক আকারে ধেয়ে আসছে শীতকালিন ঝড়-যা শনিবার পর্যন্ত মধ্য ও দক্ষিণের ২০টিরও অধিক স্টেটে সবচেয়ে বেশী তুষারপাত ঘটাবে বলে মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং এর তান্ডব শুরু হবে বুধবার রাত (বাংলাদেশ সময় বৃহস্প্রতিবার সকাল) থেকে। উল্লেখ্য, এই তান্ডবের ভিকটিম হওয়া স্টেটসমূহে সচরাচর খুব কম সময়েই শৈত প্রবাহিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব দৃশ্যমান হবে এই তান্ডবের মধ্যদিয়ে-মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

    আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, নয়া তুষারঝড়ের কবলে পড়ে সেসব এলাকার জনজীবন লন্ডভন্ড হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে নর্দার্ন এবং ওয়েষ্টার্ন টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা, ক্যানসাস, কলরাডো, নর্দার্ন লুইজিয়ানা, আরকানসাস, আলাবামা, মিসিসিপি,জর্জিয়া, টেনেসী, কেন্টাকি, ক্যারলিনা এবং মিজৌরি। এসব এলাকায় শুক্রবার পর্যন্ত বেশ কয়েক ইঞ্চি করে তুষারপাতের আশংকা রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সাথে সাথে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। আবারো স্কুল-কলেজ-অফিস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। থমকে দাঁড়াতে পারে ব্যবসা-বাণিজ্য। এখাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা যখোন হিমশীতল পরিস্থিতির মধ্যে নিদারুণ একটি সমস্যায় নিপতিত, ঠিক তেমনি সময়ে শিল্প, বাণিজ্য ও আর্থিক কর্মকান্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র লসঅ্যাঞ্জেলেস ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে। বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে ইতোমধ্যেই ১২০০ একরের কেশি এলাকা পুড়ে গেছে বলে মঙ্গলবার জানা গেছে। এছাড়া আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে বহু বাড়িঘর ও গাড়িও। পরিস্থিতি বিবেচনায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩ হাজার ভবন আগুনের হুমকির মুখে রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।

    মঙ্গলবার জানা গেছে, ১০ একর থেকে শুরু হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১২০০ একরের বেশি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস সিটির ঐ এলঅকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দমকল বাহিনীর চিফ ক্রিস্টিন ক্রাউলি বলেছেন, ৩০ হাজারেরও বেশি লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ১৩ হাজার ভবন আগুনে পুড়ে যাওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে। দাবানলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্যাসিফিক প্যালিসেডেস এলাকায় আগুন জ্বলছে এবং বাসিন্দারা আগুন থেকে বাঁচতে তাদের গাড়ী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং ঘণ্টায় ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার) গতির দমকা বাতাস এবং অবিশ্বাস্যভাবে শুষ্ক অবস্থার কারণে আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চল এখোন অত্যন্ত সুষ্ক। গত ৮ মাসে মাত্র কোয়ার্টার ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। খরায় পুড়ছে কৃষ্টি জমি এবং বনাঞ্চল। এরফলে দাবানলের মত বিস্তৃত হচ্ছে আগুনের লেলিহান শিখা।

    Facebook Comments Box
  • বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে নিউইয়র্কে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ ও প্যারেডের সিদ্ধান্ত

    বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে নিউইয়র্কে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ ও প্যারেডের সিদ্ধান্ত

    নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচিনতম এবং সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির প্রথম মাসিক সভায় বহুল প্রত্যাশিত কম্যুনিটি সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কস অঞ্চলে ৩ লাখের অধিক প্রবাসী থাকলেও আজ অবধি নিজস্ব একটি কম্যুনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা পায়নি। গত দেড় দশক থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অভাব পূরণের অঙ্গিকার করা হয়। কিন্তু সেই অঙ্গিকার পূরণে আন্তরিক কোন উদ্যোগ কেউই নেননি। একইভাবে, বিরাট এই জনগোষ্ঠির অবস্থান বহুজাতিক সমাজে দৃশ্যমান করতে ‘বাংলাদেশ প্যারেড’ আয়োজনেও সক্ষম হয়নি বৃহৎ সংগঠনের দাবিদার এই সোসাইটি। তেমন ব্যর্থতা ঘুচাতে চায় বাংলাদেশ সোসাইটির নয়া কমিটি। এবং এটি হচ্ছে সময়ের দাবি।
    ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তক গৃহিত হয়েছে। এর অন্যতম বাংলাদেশ সেন্টার/বাংলাদেশ ভবন ক্রয় করা। এই প্রকল্পটি কুইন্স এলাকায় বাস্তবায়নের বিষয়ে উপস্থিত সকলে মতামত দেন। এছাড়া বর্তমান কার্যকরী পরিষদ এই প্রকল্পটি অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে চান বলেও সকলে উল্লেখ করেন। আর এই প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহের অভিপ্রায়ে প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করে ‘বিশেষ ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠান’ করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। ভবন ক্রয়ের পর সেখানে কম্যুনিটি সেন্টার নির্মাণে সিটি প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা গ্রহণেও কার্পণ্য করা হবে না বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।

    নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন এলমহার্স্টে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পরিচলনায় সভায় অন‍্যানে‍্যর মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি- মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি-কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সাধারণ সম্পাদক- আবুল কালাম ভুইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- অনিক রাজ, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- রিজু মোহাম্মদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক- জামিল আনসারী, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ হাসান (জিলানী), কার্যকরি সদস্য- হারুন চেয়ারম্যান, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, মুনসুর আহমদ ও হাছান খান।

    প্রয়াত সকল সদস্য-কর্মকর্তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী কমিটির প্রথম সভায়। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী কর্তৃক পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু সভায় সংগঠনের প্রয়াত সকল সাবেক কর্মকর্তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। সকলকে ইংরেজী নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরুতেই দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। এরপর একে একে কার্যকরী কমিটির সকল কর্মকর্তা সংগঠনের আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।
    এ সময় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান একুশে ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে সম্মিলিতভাবে দিবসটি পালন করার জন্যে হবে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন দেওয়ানকে আহবায়ক, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খানকে সদস্য সচিব এবং কার্যকরী সদস্য জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে প্রধান সমন্বয়কারি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য-কর্মকর্তারা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কামরুল, যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ হাসান (জিলানী) ও সমন্বয়কারী হাছান খান। এছাড়া স্মরণিকা উপ-কমিটি, সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি ও কার্যকরী পরিষদের অন্য কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সম্মিলিত এই উদযাপনকে সফল করতে শিগগিরই প্রবাসের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আঞ্চলিক, ক্রীড়া, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন, কবিতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে এবং প্রতিবছরের ন্যায় ‘অক্ষর’ নামে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হবে।

    পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল আগামী ৯ মার্চ রোববার নিউইয়র্কের জয়া পার্টি হলে আয়োজনের বিষয়েও সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুলকে আহবায়ক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারীকে সদস্য সচিব এবং মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারীকে প্রধান সমন্বয়কারী করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য কর্মকর্তারা হলেন মফিজুল ইসলাম ভুইয়া (রুমি) যুগ্ম আহবায়ক, আশ্রাব আলী খান লিটন যুগ্ম সদস্য সচিব, মুনসুর আহমদ সমন্বয়কারী। এছাড়াও কার্যকরী পরিষদের অন্য কর্মকর্তাদের সদস্য হিসাবে রাখা হয়।

    এছাড়াও নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সিটির আরো দুটি সহ বরোসহ বাংলাদেশী অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় পৃথকভাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়। কার্যকরী পরিষদের পরবর্তী সভায় তা পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

    বাংলাদেশের কৃষ্টি, কালচার ও সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
    বাংলাদেশ সোসাইটি কর্তৃক পরিচালিত বাংলা স্কুলকে আরো যুগোপযোগী করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। একই সাথে সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাংলা স্কুলের আরো কয়েকটি শাখা খোলার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় এই সভায়। স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয় সবকিছু পর্যালোচনা করে আগামী কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ে রিপোর্ট পেশ করতে।

    বাংলাদেশের সোসাইটির বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিং কর্তৃক বাংলাদেশ সোসাইটির ভবনের উপর মোটা অংকের আরোপিত জরিমানা পরিশোধের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বিষয়টি সুরাহা করতে সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    ছবির ক্যাপশন-১ সোসাইটি মিটিং
    বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী কমিটির প্রথম সভায় দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    ছবির ক্যাপশন-২ সোসাইটি মিটিং
    প্রয়াত সকল সদস্য-কর্মকর্তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী কমিটির প্রথম সভায়। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

     

    Facebook Comments Box
  • কানাডাকে ৫১তম স্টেট, পানামা খাল ও গ্রীণল্যান্ডের দখল এবং ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নয় ‘গালফ অব আমেরিকা’: আসলে কী করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

    কানাডাকে ৫১তম স্টেট, পানামা খাল ও গ্রীণল্যান্ডের দখল এবং ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নয় ‘গালফ অব আমেরিকা’: আসলে কী করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

    জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পানামা খালের পুনর্দখল এবং গ্রীণল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে চান নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এজন্যে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগেও দ্বিধা করবেন না। মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক গত নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়কে সার্টিফাই করার পরদিন ৭ জানুয়ারি ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবনে আহূত সংবাদ সম্মেলনে ডনাল্ড ট্রাম্প একইসাথে ‘গাল্্ফ অব মেক্সিকো’র নাম পাল্টে ‘গাল্্ফ অব আমেরিকা’ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। শুধু তাই নয়, আগে থেকেই বলে আসা কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম স্টেটে পরিণত করার কথাও জোর দিয়ে বলেছেন। অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিলেন। এরফলে নিকট প্রতিবেশীই শুধু নয়, ইউরোপের সাথেও বিদ্যমান সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটলের আশংকা করছেন ঝানু কুটনীতিকরা। সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন যে, পানামা খালের পুনর্দখলে এবং গ্রীণল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কিনা। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এক্ষুণি সে ব্যাপারে কোন অঙ্গিকার ব্যক্ত করতে চাচ্ছি না। তবে কিছু করতে হলে হয়তো সে ধরনের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। কারণ, পানামা খালটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে খুবই প্রয়োজন। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেই গ্রীণল্যান্ডকে আমাদের খুবই প্রয়োজন।

    ট্রাম্প যখোন সংবাদ সম্মেলনে গ্রীণল্যান্ডকে দখলে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করেন ঠিক সে সময়েই তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র গ্রীণল্যান্ড সফর করছিলেন। উল্লেখ্য, আর্কটিক এবং আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম অ-মহাদেশীয় একটিম দ্বীপ হচ্ছে গ্রীণল্যান্ড। বরফ আচ্ছাদিত এই দ্বীপের জনসংখ্যা মাত্র ৪৫ হাজার। ৬০০ বছরেরও অধিক সময় যাবত একটি ডেনমার্কের অংশ এবং বিশাল খনিজ সম্পদে ভরপুর। এই দ্বীপের মধ্যদিয়ে রাশিয়া ও চীনের সামরিক জাহাজ চলাচল করে বলেই যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করতে পারছে না। মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অবলম্বন হতে পারবে দখলে নিতে পারলে। আরো উল্লেখ্য, এই দ্বীপের বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই স্বাধীন হবার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছেন। অপরদিকে, ট্রাম্প বলেছেন, ‘দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেনমার্ক। তবে আইনগত অধিকার ডেনমার্কের আদৌ আছে কিনা সেটিও জানেন না দ্বীপের বাসিন্দারা। যদিও তা থাকে, তবুও সেটি ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সেটির নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।’ উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রথম টার্মেই অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকেই গ্রীণল্যান্ডের দখল নেয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করে আসছেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট আইজেনাওয়ার যেভাবে আলাস্কা-কে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টেট হিসেবে দখলে নিয়েছেন, একইপন্থা অবলম্বনে আগ্রহী ট্রাম্প। তবে কানাডাকে ৫১তম স্টেটে পরিণত করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগে আগ্রহী নন ট্রাম্প-এটা উল্লেখ করেছেন। কানাডাকে অর্থনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানী করলে ২৫% হারে ট্যাক্স গুণতে হবে-এটি আগেই উল্লেখ করেছেন। করোনা পরবর্তী সংকট থেকে কানাডাকে ঘুরে দাঁড়াতে যথাযথ নেতৃত্ব প্রদানে ব্যর্থতার দায় নিয়ে ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীত্ব এবং দলীয় প্রধান থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো। এরপর ট্রাম্প আরো জোরালোভাবে কানাডা নিয়ে তুচ্ছ্বতাচ্ছ্বিল্য মন্তব্য করলেন-যা সুধীজনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও ট্রাম্প হয়তো তার প্রতিহিংসাপরায়নতাকেই প্রাধান্য দিয়ে যাবেন। কারণ, প্রথম মেয়াদে জাস্টিন ট্রুডো ট্রাম্পের অনেক কাজকর্মেরই সমালোচনা করেছেন।

    এদিকে, পানামা খাল হচ্ছে মধ্য আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম জলপথ যা আটলান্টিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে। এটি বৈশ্বিক শিপিংয়ের জন্য সামুদ্রিক ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। এই খালটিকে ১৯১৪ সালে যোগাযোগের অবলম্বনে পরিণত করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তা পানামার ইস্তমাসের মধ্যদিয়ে ৫০ মাইল বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্র এই খালের নিয়ন্ত্রণ ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পানামাকে হস্তান্তর করে। হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পন্ন হয়। সময়ের ব্যবধানে এই খালটিকে চীন ব্যবহার করছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তি দেখাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেছেন, পানামা খাল আমাদের দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। অথচ এটি চীন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। যদিও আমরা সেটি নির্মাণ করে পানামাকে দিয়েছি, চীনকে দেইনি। পানামা সেই উপকারের অপব্যবহার করছে বলে ট্রাম্প বলেছেন।
    ট্রাম্প দাবি করেন, এখোন যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ। সেজন্যেই ‘মেক্সিকো উপসাগর’কে ‘আমেরিকা উপসাগর’ হিসেবে নামকরণ করতে হবে। কারণ, এই সাগরের সুন্দর একটি বলয় রয়েছে। নামকরণটিও হবে অত্যন্ত সুন্দর।
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’এ প্রদত্ত মন্তব্যে প্রগতিশীল রাজনীতিকরা উল্লেখ করেছেন, ডেনমার্কের দ্বীপ গ্রীণল্যান্ড এবং পানামা খালের দখল নেয়ার অভিপ্রায় প্রকাশের মধ্যদিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত বোকামি করেছেন এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক’টনীতিতে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক অবস্থা তৈরী করবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মিটে ফ্রেডারিক্সন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, সেই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করবে। বিশেষ করে রাশিয়ার বিপরীতে। গ্রীণল্যান্ডের প্রিমিয়ার মুতে বি এগেডে লিখেছেন, গ্রীণল্যান্ডের মালিক হচ্ছেন সেখানকার অধিবাসীরা। আমাদের ভবিষ্যত এবং স্বাধীনতার লড়াইয়ের ব্যাপারটিও আমাদেরই। তাই গ্রীণল্যান্ডের মালিকানা অথবা নেতৃত্বের ব্যাপারটি নির্দ্ধারিত হবে আমাদের মত নাগরিকের দ্বারাই।

    প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের ঘোষণার মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ কানাডাকে আবারো পুরনো প্রস্তাবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন,‘কানাডার জনগণ চান তাদের দেশ যেন আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে ওঠে। কানাডাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে বিরাট বাণিজ্য ঘাটতি এবং ভর্তুকি দেয়া দরকার তা আমেরিকা আর সহ্য করতে পারে না। জাস্টিন ট্রুডো এটি জানেন এবং সেই জন্যই তিনি পদত্যাগ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত হয় তাহলে সেখানে কোনো শুল্ক থাকবে না, কর অনেকটাই কমে যাবে এবং তারা রাশিয়ান ও চীনা জাহাজের হুমকি থেকে সম্পূর্ণরুপে নিরাপদ থাকবে। একসঙ্গে এটা একটি মহান জাতি হবে॥’ উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম স্টেটের গভনর হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও ট্রুডো সে প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন।
    ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছিল, কানাডা সীমান্ত থেকে অবৈধ মাদক ও অভিবাসীদের পাঠানো বন্ধ না করলে কানাডার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অংশ করে নেয়ার ‘ধারণাটি দারুণ’ এবং কানাডার অনেক নাগরিক সেটি চান বলেও দাবি করেছেন নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে, ১৮ ডিসেম্বর নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ উত্তর দিতে পারে না যে, কেন আমরা কানাডাকে বছরে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি ভর্তুকি দেই? অনেক কানাডিয়ান চান কানাডা (যুক্তরাষ্ট্রের) ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাক। এটি কর ও সামরিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে অনেক খরচ বাঁচাবে। আমি মনে করি, এটি একটি দারুণ ধারণা। ৫১তম অঙ্গরাজ্য?

    আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অভিজ্ঞজনেরা মনে করছেন, গ্রীণল্যান্ডের দখল নেয়ার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরী হয়েছে। গ্রীণল্যান্ডের পর ট্রাম্প অন্য কোন মানচিত্রে দৃষ্টি প্রসারিত করতে পারেন বলেও কানাঘুষা শুরু হয়েছে। কারণ, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ন্যাটোর অস্তিত্বকে গুরুত্ব দিতে চাননি। এমনকি সম্পর্কচ্ছেদের হুমকিতে কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিলেন।
    স্মরণ করা যেতে পারে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের অঙ্গিকার করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মেজাজে যুদ্ধ বন্ধের মনোভাব প্রকাশ পাওয়া দূরের কথা, নতুন যুদ্ধ শুরুর আভাসই পাওয়া গেছে। যদিও তিনি এখোন দাবি করছেন যে, প্রথম মেয়াদে আইসিসকে পরাজিত করেছিলেন। প্রথম মেয়াদে অনেক কিছুই করতে সক্ষম হননি পরিবর্তিত ভ’-রাজনৈতিক ল্যান্ডস্ক্যাপের কারণে। তবে নতুন করে কোন যুদ্ধ শুরু করেননি। গত চার বছরে প্রেসিডেন্ট বাইডেন দেশে দেশে যুদ্ধ লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প এবং বলেন, জ্বলন্ত একটি বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ক্ষমতায় ফিরছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন প্রশাসন সাজাবেন বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

     

    Facebook Comments Box
  • মা-ছেলের পুনর্মিলন

    মা-ছেলের পুনর্মিলন

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পৌঁছেছেন। বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে তিনি হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও পুত্রবধূ জোবায়দা রহমান তাকে স্বাগত জানান। মা-ছেলের এই আবেগঘন মুহূর্তটি দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর তাদের পুনর্মিলনের একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং এরপর তিনি আর বিদেশ সফর করেননি। এই সময়ের মধ্যে তার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি। বিমানবন্দরে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার। খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে এবং সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

    বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর খালেদা জিয়া ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডন ক্লিনিকে যাবেন। তার গুলশানের বাসা থেকে বিমানবন্দরের পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি একাধিক দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সাল থেকে কারাবন্দি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

    Facebook Comments Box
  • শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে ভারত

    শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে ভারত

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে ভারত। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বুধবার (৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

    খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান ৭৭ বছর বয়সী হাসিনা। ওইদিন হিন্দন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন তিনি। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে দিল্লির একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

    নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৩ ডিসেম্বর একটি অস্বাক্ষরিত কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনার পাসপোর্টও বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    এ অবস্থায় হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারতে থাকার সুবিধার্থে সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে সূত্রগুলো স্পষ্টভাবে বলেছে, ভারতে শরণার্থীদের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন না থাকার কারণে হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না।

    খবরে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জড়িত। এ ধরনের পদক্ষেপে সাধারণত মন্ত্রণালয়টির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। স্থানীয় বিদেশি নিবন্ধন অফিসের (এফআরআরও) মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    Facebook Comments Box
  • লন্ডনের পথে খালেদা জিয়া

    লন্ডনের পথে খালেদা জিয়া

    উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের পথে রওনা হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাত পৌনে ১২ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী এয়ার এম্বুলেন্স যাত্রা শুরু করে। রাত ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর বিমানবন্দরে প্রবেশ করে।

    মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৩ মিনিটে গুলশানে বাসভবন ফিরোজা থেকে রওনা দেয় গাড়ি বহর। উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে রাত ১০টায় কাতারের আমীরের পাঠানো বিশেষ এয়ার এম্বুলেন্সে করে ঢাকা ছাড়ার কথা থাকলেও নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে বিমানবন্দর পৌঁছাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন। তারা খালেদা জিয়ার নামে নানা স্লোগান দেন। কাতারের আমীরের পাঠানো বিশেষ এয়ার এম্বুলেন্সে করে

    লন্ডন পৌঁছেই বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি হবেন। পরবর্তীতে লন্ডন ক্লিনিক সুপারিশ করলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি হসপিটালে নেয়া হতে পারে।

    ওদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিকাল থেকেই তার বাসভবন ও আশপাশে বিএনপির এবং এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। তার বাসভবন থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। তাদেরকে খালেদা জিয়ার নামে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

    সন্ধ্যায় ফিরোজায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানান। সৌজন্যে: মানবজমিন

    Facebook Comments Box
  • ভয়াবহ তুষারঝড়ে ৬ স্টেটে জরুরি অবস্থা, ১০ লাখ বাংলাদেশিসহ ৬ কোটি আমেরিকান বিপদে

    ভয়াবহ তুষারঝড়ে ৬ স্টেটে জরুরি অবস্থা, ১০ লাখ বাংলাদেশিসহ ৬ কোটি আমেরিকান বিপদে

    তুষার আর ঝড়ের কবলে লন্ডভন্ড হয়েছে নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, ম্যাসেচুসেটস, ইলিনয়সহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ স্টেটের জনজীবন। ভয়ংকর এবং হিমশীতল আবহাওয়ার কারণে সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ ১০ হাজারের মত ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত হচ্ছে রোববার থেকে। দূর পাল্লার ট্রেন এবং বাস চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্যানসাস, কেন্টাকি, আরকানস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ভার্জিনিয়া, মিজৌরিতে পুরোপুরি এবং নিউজার্সির কিছু অংশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়া এলাকার ১০ লাখের অধিক বাংলাদেশীসহ ৬ কোটি আমেরিকান শনিবার রাত থেকেই এক ধরনের গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন। এসব স্থানের অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল সোমবার। মঙ্গলবারও কোন কোন এলাকার অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন লাখের অধিক বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে মিজৌরি থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত এলাকায়।

    সোমবার রাতে জাতীয় আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে ৬ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হয়েছে। ওয়াইওমিংয়ের একটি পর্বতে হিমবাহের মধ্য এক স্কি চালকের মৃত্যু হয়েছে। বরফে ঢাকা সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় আরো অনেকে আহত হয়েছেন। মিজৌরির সড়ক-মহাসড়কে ১৭০০ গাড়ি আটকা পড়েছে। ভার্জিনিয়া, ইন্ডিয়ানা, ক্যানসাস, কেন্টাকি, নেব্রাস্কা স্টেটে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে মহাসড়কের যানজটের অবসান ঘটানোর জন্যে। সবচেয়ে বেশী নাজুক অবস্থায় নিপতিত হয়েছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ। সোমবার রাত পর্যন্ত এক ফুটের অধিক তুষারপাত হয়েছে ডিসিতে। রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট সোমবার অপরাহ্ন থেকেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    এমন চরম বৈরী আবহাওয়া তৈরি হয়েছে উত্তর মেরু অঞ্চলের ঘূর্ণিবাত্যার কারণে। এই ঘূর্ণিবাত্যা চরম শীতল বাতাসের একটি এলাকা যেটি আর্কটিক মহাসাগরের চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেখান থেকেই হিমশীতল আবহাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে নেমে আসছে আর তাতে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং তা মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত জনজীবনকে বিপন্ন করতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর।

    Facebook Comments Box
  • বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউস ‘সিগনেচার কালেকশন’ এখন নিউইয়র্কেও

    বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউস ‘সিগনেচার কালেকশন’ এখন নিউইয়র্কেও

    যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউস “সিগনেচার কালেকশন”র শাখা নিউইয়র্কে চালু হলো ৫ জানুয়ারী। এটি বাংলাদেশের বাইরে তাদের প্রথম আউটলেট ও প্রদর্শনী কেন্দ্র।
    বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতিতে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউর সন্নিকটে (৯০-০৩ মেরিক বুলেভার্ড) আউটলেটটির উদ্বোধন করেন “সিগনেচার কালেকশন” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ফারজানা ইসলাম রুমকি। কেক কেটে উদযাপনের সূচনা করেন তিনি।

    মনোরমভাবে সজ্জিত এই শাখা উদ্বোধন উপলক্ষে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টের সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের দেশী-বিদেশী পোশাক, মূলত: সালোয়ার-কামিজ এবং শাড়ী ক্রয় করেন আগতরা। ডিসকাউন্টের এই সুযোগ আরো কদিন পাবেন ক্রেতারা। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে “সিগনেচার কালেকশন” আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি আউটলেট খুলেছে। এর চারটি ঢাকায় এবং একটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

    উদ্বোধনীর সময় সিগনেচার কালেকশনে’র সিইও রুমকি বলেন, বিদেশের মাটিতে প্রথম আউটলেট খুলতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, বিশেষ করে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই নিউইয়র্কে, এবং বাংলাদেশি পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে তারা এই শাখা খুলেছেন।

    রুমকি বলেন, আমেরিকায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত অন্যান্য সিটির পাশাপাশি অন্য দেশেও আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে এবং বিদেশে তাদের সাড়ে ৮ লাখ অনলাইন ফলোয়ার রয়েছেন, যারা প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিচ্ছেন।

    Facebook Comments Box
  • যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    জাতীয় পার্টির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১ জানুয়ারি বুধবার যুক্তরাষ্ট্র শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি মোহাম্মদ এ বার ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠান পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়।

    বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা তোফায়েল চৌধুরী, সহ সভাপতি নূর ইসলাম বর্ষন, এডভোকেট আব্দুল হাই কাইয়ুম, জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক এবিএম খায়রুল আলম, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক রুবেল আহমেদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এস এন এস রুবেল, হাসমত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান।

    এ সময় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রনায়ক মরহুম এসএম এরশাদ এবং সাবেক স্বৈরশাসক হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    Facebook Comments Box
  • মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতির পিঠা উৎসব ১৬ ফেব্রুয়ারি

    মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতির পিঠা উৎসব ১৬ ফেব্রুয়ারি

    মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে পিঠা উৎসব ও নতুন কমিটির অভিষেক উৎসবের প্রস্ততি সভা হয় ৫ জানুয়ারী রোববার। নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় হিলসাইডে এক রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাজ্জাদ হোসেন বিশ্বাস সেলিম। সঞ্চালনা করেন সাধারন সম্পাধক সজিব চৌধুরী। সার্বিক উপসহাপনায় ছিলেন লুৎফর রহমান যোবায়ের ।

    পিঠা উৎসবের আহব্বায়ক নূরজাহান ভূইয়া ঋতু ও সদস্য সচিব লিটন সামগ্রিক প্রস্তুতির তথ্য জানিয়ে গতবারের চেয়ে আরো ব্যাপকভাবে সফল করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ প্রধান উপদেষ্টা আদিল মোহাম্মদ, উপদেষ্টা হাফিজুর রহমান পিন্টু, সাংবাদিক আনিসুর রহমান , আলতাফ হোসেন গাজী, নুরল আমিন মুকুল, জসিম উদ্দিন, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রউফ রাসেল। কল্যান সমিতির নেতৃবৃন্দের এ অনুষ্ঠানে ছিলেন সুমন, দেওয়ান রউফ, পারভেজ সোলাইমান, বারেক, মাহিদুল ইসলাম, ফারহানা মবিন, মোহাম্মদ রহমান বাদল, মিনারা দেওয়ান, মতিউর রহমান, আলাউদ্দিন, মনিরুজ্জামান, কান্তা মিমি, দেওয়ান হাফিজুর রহমান প্রমুখ। এ সময় বিস্তারিত আলোচনা শেষে কুইন্স প্যালেসে আসছে ১৬ ফেব্রুয়ারি পিঠা উৎসব এবং নতুন কমিটির অভিষেক উৎসবের সিদ্ধান্ত হয়।

    Facebook Comments Box
  • যুক্তরাজ্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সভাপতি সৈয়দ এনাম, সেক্রেটারি জুয়েল

    যুক্তরাজ্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সভাপতি সৈয়দ এনাম, সেক্রেটারি জুয়েল

    লন্ডনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সন্মেলনে সৈয়দ এনাম ইসলামকে সভাপতি, জুয়েল রাজকে সাধারণ সম্পাদক ও এনামুল হক এনামকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে সংগঠনের ২০২৫ সালের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
    ৪ জানুয়ারী অনুুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রথম পর্বে বিগত কমিটির সভাপতি সৈয়দ আনাস পাশার স্বাগত বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদক মুনিরা পারভীন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে গত বছরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। আর্থিক বিবরনী তুলে ধরেন এনামুল হক। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মাহমুদ এ রউফ, ও হামিদ মোহাম্মদ, সহ সভাপতি হরমুজ আলী ও কেন্দ্রীয় নেতা আনসার আহমেদ উল্লাহ, সহ সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, জামাল আহমেদ খান, মকিস মনসুর , নাজমা হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল রাজ, শাহ মুস্তাফিজুর রহমান বেলাল, নির্বাহী সদস্য নূরউদ্দীন আহমেদ, জেসমিন চৌধুরী।

    হরমুজ আলী তার বক্তব্যে বলেন, বিগত ১৫ বছরের আন্দোলন আর বর্তমানের আন্দোলন সম্পূর্ণ ভীন্ন। এবারের যুদ্ধটা আলাদা, তাই এমন নেতৃত্ব নিয়ে আসতে হবে যারা এই যুদ্ধটা স্বপ্রণোদিত হয়ে নেতৃত্ব দেবেন। জেসমিন চৌধুরী বলেন, আমাদের ৭১ চেতনা বলেন কিংবা ১৯৭২ এর সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস থেকেই আমি সংশ্লিষ্ট হয়েছিলাম। এখন সময় নতুন প্রজন্মকে আমাদের সাথে শরিক করতে হবে। নতুন কমিটি আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে। সহ সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন হাসান বলেন, আমরা জানি কেন বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি হয়েছে, আমরা জানি, বাংলাদেশ থেকে ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ এই সব মুছে দিতে চাইছে।

    উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি এম এ রউফ বলেন, যুদ্ধ করে একবার বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি, এরপরে কেন আমরা আবার যুদ্ধ করব? আগে আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা আবু মূসা হাসান বলেন, আমাদের কে হাল ছেড়ে দিলে হবে না। আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন। মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনক, সংবিধান সবই বিপন্ন । শুধু আত্মসমালোচনা করলে হবে না। নতুন করে আমাদের ভাবতে হবে। এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে। যারা নতুন নেতৃত্বে আসবে তারা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিকে বড় পরিসরে নেতৃত্ব দিবে । শাহ মুস্তাফিজুর রহমান বেলাল বলেন, আমরা তো যুদ্ধেই আছি , এবার যেন আমরা শত্রু মিত্র চিনতে ভুল না করি।
    দ্বিতীয় পর্বে আগের কমিটি কমিটি বিলুপ্ত করে, সর্বসন্মতিক্রমে সৈয়দ এনাম ইসলামকে সভাপতি, জুয়েল রাজকে সাধারণ সম্পাদক ও এনামুল হক এনামকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

    Facebook Comments Box
  • ‘নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’র আহ্বায়ক রোকেয়া হায়দার

    ‘নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’র আহ্বায়ক রোকেয়া হায়দার

    নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা-২০২৫ এর আহ্বায়ক মনোনীত হয়েছেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার। ২৪ থেকে ২৭ মে চার দিনব্যাপী এ বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে।

    ২৭ ডিসেম্বর মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কার্যকরী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আহ্বায়ক মনোনীত হওয়ার পর রোকেয়া হায়দার ২০২৫ সালের এই উৎসব এবং মেলা সুষ্ঠু ও সফলভাবে উদযাপন করতে সকলের সহায়তা কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান হাসান ফেরদৌস। আরও উল্লেখ্য, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা রোকেয়া হায়দার ২০১৫ সালে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    Facebook Comments Box
  • আমেরিকায় এই প্রথম নিউইয়র্ক সিটিতে যানজট হ্রাসের টোল ৯ ডলার করে

    আমেরিকায় এই প্রথম নিউইয়র্ক সিটিতে যানজট হ্রাসের টোল ৯ ডলার করে

    নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে ব্যস্ততম এলাকায় যানবাহনের ভীড় কমানোর অভিপ্রায়ে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ ডলার করে ফি (টোল)ধার্য করা হয়েছে। কর্মদিবসে সকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে বাইরে থেকে কোন গাড়ি ম্যানহাটানের ৬০ স্ট্রিটে ঢুকলেই গণতে হবে এই টোল। এই সময়সীমার বাইরে অর্থাৎ পিকআওয়ারের পরে এবং রাতের জন্যে যানবাহনকে দিতে হবে ২.২৫ ডলার করে। এই কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘কঞ্জেশেন রিলিফ জোন’। ৬০ স্ট্রিট থেকে ডাউন টাউনে ঢুকলেই নয়া এই টোলের কার্যকারিতা নিয়ে আইন-আদালতে গেছেন ট্যাক্সি ড্রাইভাররা। কিন্তু রায় এসেছে এমটিএ (মেট্রপলিটন ট্র্যাঞ্জিট অথরিটি)’র পক্ষে। নিউজার্সির একটি আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও মাননীয় আদালত বলেছেন যে, আপিল পেন্ডিং থাকলেও এমটিএর টোল আরোপের বিধি রোববার থেকেই কার্যকরী হবে। এমটিএ সূত্রে বলা হয়েছে, ই-জি পাসহীন গাড়ির জন্যে টোলের পরিমাণ আরো বেশী। এমটিএ চেয়ারম্যান ও সিইও জান্নো লাইবার বলেন, নগরে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে এবং নিরাপদ সড়ক দেখার পাশাপাশি যানজট হ্রাস ও পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুততর করার অভিপ্রায়েই ঐতিহাসিক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে আর কোন সিটিতেই এমন ব্যবস্থা নেই। আরো উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্তের কারণে দৈনিক গড়ে ৮০ হাজারেরও কম গাড়ি কঞ্জেশন রিলিফ জোনে ঢুকবে।

    নতুন এই বিধি অনুযায়ী যারা ট্যাক্সি অথবা গ্রীণ ক্যাব কিংবা ব্ল্যাক কার ব্যবহার করবেন তাদেরকে ঐ জোনে ( ৬০ স্ট্রিট সাউথ থেকে ব্যাটারি পার্ক পর্যন্ত) ভ্রমণের জন্যে অতিরিক্ত ৭৫ সেন্ট করে দিতে হবে। উবার এবং লিফটের জন্যে প্রতি ট্রিপে লাগবে অতিরিক্ত দেড় ডলার করে। জানা গেছে, প্যাসেঞ্জার কারকে দিনে একবার মাত্র ৯ ডলার করে চার্জ করা হবে। নির্দ্ধারিত জোনে প্রবেশ পথে স্থাপিত ক্যামেরা গাড়ির নম্বর প্লেটের ছবি উঠিয়ে টোল আদায় করবে।
    এরফলে এই সিটির বাস-সাবওয়ে ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নে ১৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে জনজরিপে এই কর্মসূচি জনপ্রিয়তা পায়নি। সিটি মেয়র এরিক এডামস কিংবা স্টেট গভর্ণর ক্যাথি হোকুলও নয়া এই ব্যবস্থায় সাঁয় দিতে চাননি। নিজ নিজ নির্বাচনের ভোটে এর প্রভাব পড়ার আশংকা থেকে স্টেট গভর্ণর গত জুনে তা স্থগিতের আদেশ দিয়েছিলেন। তবে নভেম্বরে এসে তিনি টোলের পরিমাণ ৪০% কমিয়ে ১৫ ডলার থেকে ৯ ডলারে ধার্য্যরে পক্ষে মত দেন। তবে তা ২০২৮ সালে বেড়ে ১২ ডলার এবং ২০৩১ সালে ১৫ ডলার হবে। এই কর্মসূচির প্রথম তিন বছরে বার্ষিক ৫০০ মিলিয়ন ডলার করে আয় হবে। পরবর্তিতে বর্ধিত টোল চালু হলে তা ৭০০ মিলিয়ন ডলার করে হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্যাসেঞ্জার গাড়ির জন্যে ৯ ডলার টোল হলেও ছোট ট্রাক-১৪ ডলার, বড় ট্রাক-২১.৬০ ডলার, মটর সাইকেল-৪.৫০ ডলার, ট্যাক্সি ড্রাইভারের জন্যে প্রতি ট্রিপে-৭৫ সেন্ট, উবার/লিফটসহ অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি ১.৫০ ডলার করে লাগবে।

    Facebook Comments Box
  • ‘আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে বাংলাদেশ হবে আফগানিস্তান’

    ‘আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে বাংলাদেশ হবে আফগানিস্তান’

    ‘ড. ইউনূস সরকারের প্রথম ১০০ দিন’ উপলক্ষে প্রকাশিত একটি গ্রন্থের পর্যালোচনা এবং সামনের দিনগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় সম্পর্কে নিউইয়র্কে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো ৫ জানুয়ারি রোববার অপরাহ্নে। স্মরণকালের ভয়াবহতম ঠান্ডা সত্বেও কিছু প্রবাসীসহ বিপুলসংখ্যক আমেরিকানের সমাগমে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রথম ১০০দিনের অভিজ্ঞতাকে অনেকেই দু:খজনক হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটায় জনমনে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবুও তারা আশাবাদি যে, বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনে গঠিত সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। পরবর্তী একশত দিনের এ প্রত্যাশা বাংলাদেশ নিয়ে ভাবনারত প্রবাসী ও আমেরিকান বন্ধুদের।
    আলোচনায় অংশ নিয়ে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. দ্বীজেন ভট্টাচার্য বলেন, ইউএস কংগ্রেস, জাতিসংঘ মহাসচিবকে ফোন করতে হবে যাতে সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। তা না হলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। ড. দ্বীজেন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি শতশত মানুষ হত্যা করেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনে ওরা চ্যাম্পিয়ন ছিল। আদিবাসী সম্প্রদায়ের ৬ শতাধিক মানুষকে হত্যার জন্যে বিএনপিকে দায়ী করে ১৭ কংগ্রেসম্যান সে সময় প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে চিঠি দিয়েছিলেন। এরপরও ২০০৮ সালের কেয়ারটেকার সরকার বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছিল। তিনি জোরদিয়ে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী ব্যবস্থায় বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে যে বাংলাদেশে ইসলামিক জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। এজন্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিধনের ঘটনা বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না।

    নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এম এ বাতেন বলেন, বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের পর্যায়ে নিতে চাচ্ছে অনেকে। এ ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। দুর্নীতি যারা করেছেন তাদের বিচার হউক। কিন্তু এখোন সাবেক সরকারের সকলকেই গ্রেফতার-নির্যাতনের ভিকটিম হতে হচ্ছে। এরফলে জনমনে আতংক বিরাজ করছে।

    ‘ইউনূস সরকারের প্রথম একশত দিন’ গ্রন্থের আলোচনা-সমাবেশে সুধীর একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    শিক্ষাবিদ, লেখক-গবেষক এবং মানবাধিকার সংগঠক ড. জিতেন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার অঙ্গিকারে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই চেতনাকে ধুলিসাত করতে দেয়া যাবে না। কিন্তু মুহম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদে এমন লোকজনের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে যারা বাংলাদেশের চেতনার পরিপন্থি কর্মকান্ডে নিয়োজিত হয়েছেন। তারা সামনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছে। এজন্যেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে চাচ্ছে না।

    গ্রন্থটির লেখক নিউইয়র্কের কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ বলেন, ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের মূল চেতনাকে ধুলিসাতের ষড়যন্ত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসকে একটি মহল দাবার গুটিতে পরিণত করেছে। ওরা ধর্মীয় জঙ্গি গোষ্ঠির প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করার দু:সাহস দেখাচ্ছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের কথা স্মরণ করেই সকলকে সজাগ থাকতে হবে সামনের দিনগুলোতে যাতে বাংলাদেশের মূল চেতনা কেউ ধ্বংস করতে না পারে।

    নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলওম্যান জোহনা কারমোনা বলেন, চলতি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মধ্যদিয়েই উন্নয়ন পরিক্রমা অব্যাহত রাখা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে যদি ইসলামিক জঙ্গির উত্থান ঘটে, আফগানিস্তানের মত অবস্থা তৈরী হয় তাহলে বাংলাদেশ আবারো থমকে দাঁড়াতে বাধ্য। এ আলোচনার সঞ্চালনা করেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের সরকারী বাসভবন ‘গ্র্যাসী ম্যানশন’র নির্বাহী পরিচালক এটর্নী রোন্ধা বিন্দা।

    ‘ইউনূস সরকারের প্রথম একশত দিন’ গ্রন্থের আলোচনা-সমাবেশে সুধীর একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    এ সমাবেশে অংশগ্রহণকারিরা ড. দীলিপ নাথের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যভিত্তিক গ্রন্থটি প্রকাশের জন্যে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাবার পর কথিত আন্দোলনকারিরা রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতার দায় চাপানোর জন্যে ভারত-বিদ্বেষী কথকতা বলছেন বলে সমাবেশে অংশগ্রহণকারিরা উল্লেখ করেছেন। এ অবস্থার অবসানে দ্রুততম সময়ে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। একইসাথে ড. দীলিপ নাথের লেখা ‘রাইজিং ফ্রম দ্য অ্যাশেষ’ নামক আরেকটি গ্রন্থের ওপরও আলোচনা করেন বিদগ্ধজনেরা। সেখানে আলোচনা করেছেন অন্যান্যের মধ্যে মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ড. সচি দস্তিদার। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের করুণ অবস্থা এবং দেশ ছেড়ে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়তে বাধ্য হচ্ছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরাও-এমন অভিমত পোষণ করা হচ্ছে। এহেন অবস্থার অবসানে দরকার ধর্মীয় সম্প্রীতিকে জোরদার করা। কিন্তু কোন সরকারই এ ব্যাপারে মনোযোগী হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করা হয়। বিশিষ্ট প্রবাসীদের মধ্যে আরো ছিলেন ড. প্রদীপ কর, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, সরাফ সরকার, রুপকুমার ভৌমিক, ভজন সরকার, ইমদাদ চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, রোকেয়া খাতুন, উৎপল চৌধুরী, বিষ্ণু দে প্রমুখ।

    Facebook Comments Box