আইসের গ্রেফতার আতংকে প্রবাসীরাও, রেস্টুরেন্ট-দোকান পাট ক্রেতাশূন্য

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি   প্রিন্ট
শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

আইসের গ্রেফতার আতংকে প্রবাসীরাও, রেস্টুরেন্ট-দোকান পাট ক্রেতাশূন্য

নিউইয়র্ক সিটির ক্যানেল স্ট্রিটে আইসের অভিযান। ছবি-সংগ্রহ।

লসএঞ্জেলেস, শিকাগো, বস্টনের পর নিউইয়র্ক সিটিতেও অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার ম্যানহাটানের চায়না টাউনে আইস (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা ৯ অবৈধ অভিবাসীর সাথে চার সিটিজেনকেও গ্রেফতারের ঘটনায় সমগ্র সিটিতে আতংক বিস্তৃত হয়েছে। ‘গ্রেফতারকৃত অবৈধদের মধ্যে মাত্র ৩ জনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও ৬ জন একেবারেই নিস্পাপ’-বলেছেন এই এলাকার কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যান। ক্ষুব্ধচিত্তে তিনি বলেন, জীবিকার তাগিদে এরা ক্যানেল স্টিট তথা চায়না টাউনের রাস্তায় ঘুরে অথবা দাড়িয়ে থেকে ইমিট্রেশন সামগ্রি অথবা পারফিউম বিক্রি করতেন। তারা সকলেই আফ্রিকা থেকে এসেছেন নিরাপদ জীবন-যাপনের অভিপ্রায়ে।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্কের কয়েকজন পুলিশ অফিসার নিয়ে অলি-গলি প্রদক্ষিণ করেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বেশ কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানের পর সিটির অভিবাসী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, টাইমস স্কোয়ার, পার্কচেস্টার, ওজোনপার্ক, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকা জনশুন্য হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভয়ে কেউ বাসার বাইরে যেতে চাচ্ছেন না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নাকাল অবস্থা। বিশেষ করে বাংলাদেশী বাণিজ্যিক পাড়া হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটস, হিলসাইড, ওজোনপার্ক এলাকার রেস্টুরেন্ট, স্বর্ণ-কাপড়ের দোকান, রেস্টুরেন্টসমূহে ক্রেতার আগমণ একেবারেই কমেছে। আইসের আতংক গ্রাস করেছে নতুন করে। এ অবস্থার অবসানে মানুষের মধ্যে সাহস সঞ্চারের অভিপ্রায়ে কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এবং ইমিগ্রেশন বিষয়ক এটর্নী মঈন চৌধুরীকে অভিনব একটি পন্থা অবলম্বন করতেম দেখা গেল জ্যাকসন হাইটসের অলি-গলিতে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অর্ধ ডজন অফিসারকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন দোকান এবং বাংলাদেশ স্ট্রীট পরিভ্রমণ করেন এটর্নী মঈন। তিনি আশে পাশের লোকজনকে অভয় দেন যে, পুলিশ দেখে ভয় পাবার কিছু নেই। কারণ, নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীর কোন সদস্য কখনোই ইমিগ্রেশনের স্ট্যাটাসের কারণে কাউকে আটক দূরের কথা জিজ্ঞাসাবাদও করেন না। এটর্নী মঈন আরো উল্লেখ করেন, সিটি মেয়র এরিক এডামসও এ কথা গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। তাই যাদের গ্রীনকার্ড আছে, ওয়ার্ক পারমিট আছে, যারা সিটিজেন তারা যেন সংশ্লিষ্ট আইডি/ডক্যুমেন্ট সাথে রাখেন বাইরে বের হবার সময়।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্কের কয়েকজন পুলিশ অফিসার নিয়ে অলি-গলি প্রদক্ষিণ করেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

জ্যাকসন হাইটসে পরিচিত ব্যবসায়ীগণের অন্যতম ড. মাহাবুবুর রহমান টুকু বলেন, আইসের তৎপরতায় বৈধ অভিবাসীরাও আতংকে নিপতিত হয়েছেন। যা আগে কখনো দেখিনি। এ ধরনের পরিস্থিতির পরিসমাপ্তি না ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনেতিক অবস্থারও অবনতি ঘটতে বাধ্য। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণকে আরো সোচ্চার হতে হবে ট্রাম্পের গণ-বিরোধী এবং অ-আমেরিকান নীতি রুখে দিতে।

গ্রেফতার আতংক অব্যাহত থাকার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নয়া নির্দেশ জারি করেছেন এ অভিযান আরো জোরদারের। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া, বস্টন, লসএঞ্জেলেস, ডালাস, হিউস্টন, আটলান্টা, মায়ামী, ফিনিক্স, সিয়াটল, প্যাটারসন, সানফ্রান্সিসকো প্রভৃতি সিটিতে আইসের এজেন্ট বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চলমান গ্রেফতার ও বহিষ্কারে সন্তুষ্ট নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০ জানুয়ারির মধ্যে কমপক্ষে ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতারের পরই বহিষ্কারের টার্গেট পূরণ না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অসন্তুষ্ট বলে সর্বশেষ এ নির্দেশ জারির তথ্য ২৫ অক্টোবর নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us