বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটকের সামনে ও আশপাশের এলাকায় পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে আওয়ামী লীগের কর্মীরা
দিন যত যাচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে জুলাই-আগস্টে কথিত জঙ্গি উত্থানের নেপথ্য ঘটনাবলি। কোটা-বিরোধী আন্দোলনের লেবাসে ঘাপটি মেরে থাকা জঙ্গিরা সংগঠিত হয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষ একটি মহলের মদদে ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ে শেখ হাসিনাকে সরাতে। শেখ হাসিনা ওদের টার্গেট ছিলেন না। মূল টার্গেট হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারি দল আওয়ামী লীগ। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাকিরজনককে হত্যা করেও আওয়ামী লীগকে নির্মূল করতে সক্ষম না হওয়ায় একাত্তরের পরাজিত একটি দুষ্টচক্রের দীর্ঘ পৃষ্টপোষকতায় গত বছরের ৫ জুলাই ওরা সফল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই জঙ্গি আন্দোলনে পুলিশ বাহিনীকে তছনছ করার ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হয়েছে। অবাক বিস্ময়ে সচেতন বাঙালিরা অবলোকন করেছেন সেনাবাহিনীর নির্লিপ্ততা। এখনো গ্রাম-গঞ্জ-শহর এবং এমনকি রাজধানী শহরেও আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন সেনাবাহিন দৃষ্টির মধ্যেই, তবুও তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অথচ ম্যাজিস্ট্রেসী পাওয়ার তাদের হাতে। এবং ৫ জুলাই শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাবার পর সেনা প্রধান জাতিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর।
শেখ হাসিনা চলে গেছেন। হঠাৎ করেই সামনে এলেন নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। কথিত আন্দোলনের নেতাদেরকে কথা দিয়েও তিনি ঢাকায় ফিরতে ৩ দিন বিলম্ব করেছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের কট্টর সমর্থকদের হত্যার জন্যে এই ৩দিন সময় নিয়েছিলেন মুহম্মদ ইউনূস। সেই ৭২ ঘন্টায় যা ঘটেছে তা একাত্তরের ২৫ আগস্টের নৃশংসতা-বর্বরতাকেও হার মানায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন। এবং কথিত আন্দোলনকারিদের বর্বরতার শিকারদের দায়মুক্তি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার। যেভাবে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘাতকদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ২০২৯ সাল পর্যন্ত গ্রামীণকে ট্যাক্স-বহির্ভূত রাখা হয়েছে। তাহলে মুহম্মদ ইউনূস কী ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ফন্দি করেছেন-এমন প্রশ্ন সচেতন বাঙালিদের।
তবে এখোন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। মুহম্মদ ইউনূসকে যারা ক্ষমতায় বসিয়ে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছে তারা আর বিশ্ব মোড়লের ভ’মিকায় নেই। তাদেরও সূচনীয় পতন ঘটেছে। বিএনপি এখোন টের হাচ্ছে কত ধানে কত চাল। কারণ তাদের নেতৃ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানকেও ভিসা দেয়নি আমেরিকা। এটা শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের কান্ড নয়। মুহম্মদ ইউনূস করেছেন। তিনি ২০০৭ সাল থেকেই মাইনাস টু ফর্মুলায় ছিলেন। সময়ের ব্যবধানে তা মাইনাস ফাইভে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়া, শেখ রেহানা, সজিব ওয়াজেদ জয় এবং তারেক রহমান। সকলকে দেশান্তরির নীল নক্শা বাস্তবায়িত হয়েছে ১৭ বছরের ব্যবধানে। উত্থান ঘটানো হয়েছে পরাজিত শক্তিকে। এবং এখনো চলছে একই খেলা।
বিএনপি মহাসচিব এবং যুগ্ম মহাসচিবেরা কখনো কখনো চেষ্টা করছেন ক্ষমতাকে দীর্ঘতর করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে। কিন্তু তা স্থায়ী হতে পারছে না তৃণমূলের কারণে। ৫ আগস্টেও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দখল আর চাদাবাজিতে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ১৫ বছরের সংকটকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছন। এক্ষেত্রে জামাত-শিবিরও কিছুটা ভাগ পাচ্ছে। শত-সহস্র হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা এবং নাম কেটে দেয়ার সহজ ধান্দায় তারা মোটা অংকের টাকা পাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ৬ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখোন পর্যন্ত পুলিশ-প্রশাসন স্থির হতে পারেননি। অর্থাৎ মগের মুল্লুক চলছে। এভাবে পাকিস্তান অথবা আফগানিস্তানের মত একটি জঙ্গি ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনাতেই হাঁটছে মুহম্মদ ইউনূস ও তার সরকার। এক্ষেত্রে তারা বিএনপিকে যতটা বিপজ্জনক মনে করছে তার চেয়ে শতগুণ বেশী আওয়ামী লীগ। আর এরইমধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কিছু কর্মসূচির ঘোষণা দেয়ায় ইউনূস সরকারের গদি চরম হুমকিতে নিপতিত হয়েছে বলেই তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা জঙ্গিদের মদদে স্বৈরাচারকে হার মানানোর বুলি আওড়াচ্ছেন। তারা বলছেন আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে দেবেন না। কেন এত ভয়? তাহলে আপনারাই তো বড় স্বৈরাচার। আপনারাইতো গণতন্ত্রে উত্তরণের চরম প্রতিবন্ধক। ভুলেই গেলেন বাঙালিরা একবার ক্ষেপে উঠলে বন্দুক-কামান আর অদৃশ্য অস্ত্র ঠেকাতে পারে না। সাথে সাধারণ মানুষও অতীষ্ঠ আপনাাদের আচরণে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের বাইরে। দিন মজুরের উপার্জনে এক বেলা খাবারও জুটছে না। নিরাপত্তা নেই ঘরের বাইরে। কর্মক্ষেত্রে চাঁদাবাজির আতংক। ব্যাংক-বীমায় ক্যাশ নেই। নিজ একাউন্টের টাকা উঠাতেও আগাম নোটিশ দিতে হচ্ছে ব্যাংক ম্যানেজারকে।ৎ
মুহম্মদ ইউনূস দম্ভ করেছেন যে, বাংলাদেশের মিডিয়া নাকি এখোন সবচেয়ে বেশী স্বাধীনতা ভোগ করছে। কতটা নির্জলা মিথ্যাচার-তা প্রতিটি মিডিয়ার কর্মীরা উপলব্ধি করছেন। রাজাকারের দোসর একদল মিডিয়া কর্মীর দস্যুতার কাছে জিম্মি গোটা মিডিয়া। রাতারাতি যারা সুর পাল্টিয়েছে তারাও স্বস্তিতে নেই। শেখ হাসিনার আমলে ডিজিডিএফআই অফিস থেকে কখনো কখনো ফোন করা হতো, অনুরোধের পর নির্দেশনা আসতো। আর এখোন টোকাইরা একেকজন একেক রকমের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। অর্থাৎ প্রাণের ভয়ে কেউই সঠিক সংবাদটি প্রকাশ/প্রচারে সাহস পাচ্ছে না। এভাবে গণতন্ত্রের প্রত্যাশী বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে-এ প্রশ্ন প্রবাসের সচেতন মহলের।
Posted ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর