বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
এখোন সময় হচ্ছে বিপদগ্রস্ত কর্মীগণের পাশে দাঁড়ানোর। এখোন সময় হচ্ছে উদ্ভব বিষোদগার রুখে দিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিং জোরদারের। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, জেনেভাসহ ইউরোপিয় ইউনিয়নে দেন-দরবার শুরু করার মোক্ষম সময়ও অতিবাহিত হচ্ছে। শুধু দিল্লী কিংবা হোয়াইট হাউজের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। তৃণমূলে তৎপরতা শুরু করতে হবে। প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের চেষ্টা চালাতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের ভয়ংকর অবস্থা থেকে ১৮ কোটি মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
কথিত এক আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেয়ার পর ৬ মাস অতিবিাহিত হলো। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনই উন্নতি ঘটেনি। আইনের শাসনের নামে চলছে টোকাইদের শাসন আর জঙ্গিদের দামামা। দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। দিন মজুরেরা অভাব-অনটনে নিপতিত হয়েছেন। বিএনপির রহস্যজনক নিরবতায় জামাত-শিবির আস্কারা পেয়েছে। হালে জঙ্গিদের গুরু হিসেবে পরিচিত মুহম্মদ ইউনূসের লোকজন ‘শয়তান ধরা’র অভিযানের নামে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্ব্চ্ছোসেবক লীগের লোকজনকে গ্রেফতার করছে। অপরদিকে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি লুটের সময় আশে-পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ-সহ নিরাপত্তা রক্ষীরা দুর্বৃত্তদের সহায়তা করেছে। গাজিপুরের মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে লুটেরা হানা দিয়েছিল। সেটি দেখে গ্রামের লোকজন প্রতিহত করেছেন। লুটেরাদের ধরে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। এরপর গোটা জাতি কী দেখলো? লুটেরাদের প্রতিরোধকারিদেরকেই এখোন গ্রেফতার করা হচ্ছে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়ে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূসের হিংস্র আচরণ আর একাত্তরের ঘাতকের চেহারা উদ্ভাসিত হচ্ছে এভাবেই।
সারা বাংলাদেশে ইউনূসের টোকাই বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে ৫০ লাখের অধিক মানুষ আজ দিশেহারা। তারা কেউই বাড়িতে থাকতে পারছেন না। স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে অন্যত্র দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছেন নিরাপত্তাহীনতার কারণে। তৃণমূলের এসব নেতা-কর্মী-সমর্থকের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো একান্তই প্রয়োজন। তা’ না হলে সামনের দিনগুলোতে ইউনূস বাহিনীর অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়তে পারে। এজন্যেই মোটা তহবিল গড়তে হবে প্রতিটি জেলার জন্যে। আর এটি সম্ভব হবে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সরাসরি সুপারভিশনে। অন্য কাউকে দিয়ে হবে না। কারণ, শেখ হাসিনা ভালো করেই জানেন গত ১৫ বছরে ব্যবসা-বাণিজ্য-ব্যাংক-বীমা আর ঠিকাদারির মাধ্যমে কে কে মোটা অর্থ বানিয়েছেন। গণভবনের পিয়ন জাহাঙ্গির ৪০০ কোটি টাকা বানিয়েছেন বলে শেখ হাসিনা নিজেই গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। এভাবে এস আলম গ্রুপ, ম্যাক্স আলমগীর, বেক্সিমকো, নগদ, স্যাটেলাইট প্রকল্প, টাওয়ার শেয়ারিং এবং কুইক রেন্টাল ইত্যাদি প্রকল্পে শত-সহস্র কোটি টাকা বানিয়েছেন যারা তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ভারতে অবস্থান করছেন। তারা যে আওয়ামী শাসনামলের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি ছিলেন তা এখোন মনেই হয় না। অর্থাৎ তারা গা ঢাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ ক্যান্সারে আক্রান্তের অজুহাত দেখাচ্ছেন। আবার কেউ হৃদরোগী বলে সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ডে সরব হচ্ছেন না। যে দু’চারজন সভা-সমাবেশ করছেন তারাও আগের মতই পদ-পদবি নিয়ে বাণিজ্য চালাচ্ছেন। তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলকের লুট-তরাজের মাস্টার মাইন্ড অর্থাৎ ঐ সব আজগুবি প্রকল্পের মূল ব্যক্তিটিও কানাডা হয়ে আমেরিকায় মোটা অর্থ পাচার করেছেন। সে অর্থ এখোন আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিপ্রায়ে ব্যয় করার পরিবর্তে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচারণার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সর্বত্র বলাবলি হচ্ছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও ক্ষুব্ধ। তারা কখনো কখনো উচ্চারণ করছেন যে, লুটেরা নেতৃবৃন্দ যদি দুর্দিনে সক্রিয় না হন তাহলে তাদের সমুচিত শাস্তির পদক্ষেপ নিতে তারা কালক্ষেপণ করবেন না।
Posted ৮:০০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর