জুয়েল রাজ
প্রিন্ট
বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ারে ইউনূস-বিরোধী সমাবেশে প্রবাসীরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
লন্ডনের ঐতিহাসিক ট্রাফালগার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হলো ১৫ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে কথিত সরকারের দু:শাসন, মব সন্ত্রাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস, খুন-হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার সংকল্প ব্যক্ত করার পাশাপাশি ইউনূস সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে কয়েক হাজার মানুষ এসেছিলেন। তিন/চারশত মাইল দূরের শহর থেকেও বাস ভর্তি হয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ এসেছিলেন সমাবেশে। পোর্স্টমাউথ থেকে এসেছিলেন সত্তরের অধিক বয়েসী দুজন, তাঁদের একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই বয়সে এত দূর থেকে কেন এসেছেন। তাদের একজন পোর্স্টমাউথ আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাব আলী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে নয়, বর্তমানে বাংলাদেশে যে অবস্থা এই ইউনূস সরকার শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না জানিয়ে মানুষ হিসাবে ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। তাই এই প্রতিবাদে এসেছি। লন্ডনের বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল যখন রাস্তা ধরে এগোচ্ছিল, বুঝার ক্ষমতা ছিল না এটা ঢাকার রাজপথ না লন্ডন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে লন্ডনে বাংলাদেশীদের সর্বোচ্চ জনসমাবেশ ছিল এই ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা এই সমাবেশে যোগ দেন। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়া এমপি, মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও এই র্যালীতে অংশ নেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হরমুজ আলী বলেন, বাংলদেশ আজ অস্থিত্বের সংকটে পড়েছে, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ থাকবে , নাকি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির হাতে পাকিস্তানি ভাবধারার বাংলাদেশ হবে। ১৯৭১ সালে এই ট্রাফালগার স্কয়ারে আমাদের পূর্বপুরুষেরা সমবেত হয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতির দাবি নিয়ে,আর ৫৪ বছর পর আমরা সমবেত হয়েছি সেই স্বাধীন দেশের অস্থিত্ব রক্ষার দাবিতে।
লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ারে ইউনূস-বিরোধী সমাবেশে প্রবাসীরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, আজকের এই সমাবেশ আওয়ামী লীগ আহবান করলেও হাজার হাজার প্রবাসী এসে তার ডাকে সমেবত হয়েছেন । বাংলাদেশে আজ মানবাধিকার বলতে কোন কিছু নেই। বাকস্বাধীনতা বলতে কিছু নেই, মবের নামে দিন দুপুরে মানুষ হত্যার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পুরো বাংলাদেশ একটি অঘোষিত জেলখানায় পরিণত করেছে এই সরকার । আমরা যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আজ এখানে সমবেত হয়েছি। যুক্তরাজ্য সহ বিশ্বকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির বার্তা দিতে এখানে সমবেত হয়েছি। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বীকৃতির দাবীতে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সমাবেশ “রিকোগনাইজ বাংলাদেশ র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছিল । সেদিনও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে শতশত নারী পুরুষ এসে সেখানে যোগ দিয়েছিল এবং যুক্তরাজ্যের মূলধারার গণমাধ্যম সহ বিশ্বের নানা গণমাধ্যমে সেই সমাবেশ প্রচার-প্রচারণা পেয়েছিল-যা বিশ্বজনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই ট্রাফালগার স্কয়ার যুক্তরাজ্যের আন্দোলন সংগ্রাম বা সমাবেশের জন্য ঐতিহাসিক একটি স্থান হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
Posted ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর