জেনোসাইড’৭১ ফাউন্ডেশনের সংবাদ সম্মেলন

ইউনূসের সন্ত্রাস রুখে দিতে চাই প্রবাসীদের দুর্বার ঐক্য

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

ইউনূসের সন্ত্রাস রুখে দিতে চাই প্রবাসীদের দুর্বার ঐক্য

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বাংলাদেশকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করার মধ্যদিয়ে আবারো একটি ভিক্ষুকের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার গভীর নীল নক্শার অংশ হিসেবে গতবছর জুলাই-আগস্টের কথিত অভ্যুত্থানের পর জোর করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান উচ্চারিত হলো নিউইয়র্কে ‘জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন’র সংবাদ সম্মেলন থেকে। ১৯৭৩ সালের আইসিটি অ্যাক্ট’ পরিবর্তন করে শেখ হাসিনাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিতদের বিচারের নামে ফাঁসিতে ঝুলানোর ষড়যন্ত্রের যে নাটক বাংলাদেশে মঞ্চস্থ হচ্ছে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বন্ধুদেরকে অবহিত করতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান উচ্চারিত হয় এ সংবাদ সম্মেলন থেকে। দস্যুতার স্টাইলে গদিনসীন মুহাম্মদ ইউনূসের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়া এবং রাজপথে সোচ্চার ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার এ সময় বলেছেন, আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করার কথা। কিন্তু এখোন যা করা হচ্ছে তা বিচারের নামে প্রহসন এবং এধরনের অপকর্মকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনে রুখে দেয়া হবে। কারণ, ইউনূসের জঙ্গি সরকারের আইসিটি অ্যাক্ট’র কোন অনুমোদন নেই বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে। নিঝুম মজুমদার বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভল্কার তুর্ক’র নেতৃত্বে জুলাই-আগস্ট কথিত অভ্যুত্থানের ওপর যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে সেটি মুহাম্মদ ইউনূসের দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের একটি অংশ এবং সেজন্যেই আমরা সরেজমিনে দায়িত্ব পালনকারি শতশত কর্মকর্তার বক্তব্য জেনে সে আলোকে ২ শতাধিক পৃষ্টার একটি রিপোর্ট তৈরী করেছি। এটি জেনিভা, ব্রাসেলস, লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। এর কপি বিতরণ করা হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন কংগ্রেসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থায়। ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার আরো জানান যে, মুহাম্মদ ইউনূসের এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বে জনমত সোচ্চার করতে সম্ভবত: এটাই প্রথম একটি আয়োজন। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
আর এ কাজে মার্কিন প্রবাসীদেরকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক সংস্থার প্রেসিডেন্ট ড. প্রদীপ কর।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩ হচ্ছে একটি বিশেষায়িত আইন, যা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানের বেআইনীভাবে অধিষ্ঠিত কোর্টের প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যা এই বিশেষ আইনটির প্রকৃত পরিধি ও সাংবিধানিক সীমারেখাকে অগ্রাহ্য করছে। জামাতে ইসলামের এই নেতা তাজুল জাতিকে এমন একটি বিভ্রান্তকর ধারণা দিচ্ছেন যে, বর্তমান সময়ের যে কোন হত্যাকান্ড বা সহিংস ঘটনাকে ‘সিস্টেম্যাটিক এটাক’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ১৯৭৩ সালের আইনের আওতায় বিচার সম্ভব। আর এমন ব্ক্তব্য দেয়া হচ্ছে নিজেদের মতলব চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে।

সোজা কথা বলা যায়, আইসিটি অ্যাক্ট-১৯৭৩ সালকে সংশোধন/পরিবর্তনের এখতিয়ার কেবলমাত্র জাতীয় সংসদের। ড. প্রদীপ কর বলেন, সেই বিধি বিকৃত করে শেখ হাসিসনাসহ আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দমনের ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশে। এতে প্রতিহত করতে যত দ্রুত সম্ভব ইউনূসকে হটাতে হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে একটি পার্টি হলের এ সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এডভোকেট শাহ বখতিয়ার এবং মঞ্চে উপবেশন ও কথা বলেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও মূলধারার রাজনীতিক ড. রবি আলম।

Facebook Comments Box

Posted ৯:২১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us