নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
ছবি সংগৃহীত
গাজায় বর্বরতা অব্যাহত রাখার জন্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির জের হিসেবে হ্যাগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে স্যাঙ্কশন আরোপের বিল পাশ হলো মার্কিন কংগ্রেসে। যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত থাকার দায়ে এই আদালত সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সে কারণে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরো ক্ষিপ্র হয়ে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, হামাস যদি অপহৃত আমেরিকানদের অবিলম্বে মুক্তি না দেয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যকে গুড়িয়ে দেয়া হবে। এমনি একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ৯ জানুয়ারি রিপাবলিকান শাসিত মার্কিন কংগ্রেসে ২৪৩-১৪০ ভোটে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকসহ সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্যাঙ্কশন আরোপের বিলটি পাশ হলো। এটি আইনে পরিণত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন ঐ আদালতের সহায়-সম্পদক, বিচারকসহ সকল কর্মকর্তার সহায়-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তাদের ভিসা বাতিল/নাকচের। এমনকি যারা ঐ আদালত পরিচালনায় সহায়তা করছে, অর্থ দিচ্ছে তাদের ভিসাও বাতিল/নাকচের আহবান জানানো হয়েছে এই বিলে। ক’টনীতিকরা মনে করছেন, এই বিলের মধ্যদিয়ে সরাসরি জাতিসংঘের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের প্রথম আমলে নানাবিধ কারণে জাতিসংঘের সাথে বিরোধ তৈরী হয়েছিল হোয়াইট হাউজের। সে বিরোধে মার্কিন কংগ্রেস সরাসরি জড়িত হয়নি। এবার ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের আগেই রণধ্বনি শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাইডেন প্রশাসন সরাসরি সহযোগিতা দিচ্ছে। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার আগ মুহূর্তেও জো বাইডেন চেষ্টা করেননি গাজায় বর্বরতা বন্ধে ন্যূনতম উদ্যোগের। অধিকন্তু ইসরায়েলকে অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদান অব্যাহত রেখেছেন আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা ও আপত্তি সত্বেও।
গত নভেম্বরের নির্বাচিনে ডেমক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সূচনীয় পরাজয়কে অনেকেই বাইডেন-কমলার ইসরায়েল নীতিকে দায়ী করছেন। এতদসত্বেও এই বিলে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ৪৫ কংগ্রেসম্যান রিপাবলিকানদের সাথে ভোট দিয়েছেন। ক্যাপিটল হিলে এই বিল উত্থাপন এবং সমর্থনজ্ঞাপণকারিরা ক্ষুব্ধচিত্তে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে ইসরায়েল। সেই দেশটির শীর্ষ নেতাদেরকে ‘যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত’ থাকার অভিযোগে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার সকল শালিনতা মাড়িয়ে গেছে। এর খেসারত তাদেরকে দিতেই হবে। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান (রিপাবলিকান-ফ্লোরিডা) ব্রায়ান মাস্ট বলেন, আমেরিকানরা এই বিল পাশে বাধ্য হলো কারণ, একটি ক্যাঙ্গারো কোর্ট আমাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করতে চাচ্ছে। এহেন পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপকে নিধনে ইসরায়েলের প্রয়াসকে ব্যর্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে এই আদালত। একইসাথে জঙ্গি সংগঠন হামাস কর্তৃক অপহৃতদের মুক্ত করার ইসায়েলের আন্তরিক উদ্যোগেও বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে।
ব্রায়ান মাস্ট বলেন, এই বিলটি সারাবিশ্বের প্রতি স্পস্ট একটি বার্তা দিতে চাচ্ছে, আমাদের লোকজনকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে আমেরিকা অথবা আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরকে কেউ বাধা দিলে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। তোমরা কোনভাবেই ছাড় পাবে না, এবং আবারো বলতে চাচ্ছি যে, তোমরা কখনোই আমেরিকায় ঢুকতে পারবে না।
উল্লেখ্য, গত বছর এমন একটি বিল রিপাবলিকানদের চেষ্টায় কংগ্রেসে পাশ হলেও সিনেটে ডেমক্র্যাটরা সাঁয় দেননি বলে তা নাকচ হয়ে গেছে। এবার কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং হোয়াইট হাউজেও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট অধিষ্ঠিত হবার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে সায়েস্তার ক্ষেত্রে (এই বিল আইনে পরিণত হলে) কোন বাধা থাকবে না বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
Posted ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর