আনিসুর রহমান
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
নিউইয়র্কে সাংবাদিকগণের সাথে মতবিনিময় সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান। পাশে ড. নাকিবুর রহমান। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
জাতীয় স্বার্থে সকল প্রবাসীকে একযোগে কাজের উদাত্ত আহবান জানালেন জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম দিন ২২ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীগণের সাথে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় কালে ডা. শফিকুর রহমান একাত্তরের ভ’মিকার জন্যেই শুধু নয়, সাতচল্লিশ থেকে আজ পর্যন্ত যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলে তার জন্যে সকলের কাছে ক্ষমা চাই। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আজকের দিন পর্যন্ত আমরা কোন ভুল করিনি এটা বলবো কীভাবে? কারণ আমরা মানুষ। আমাদের সংগঠন হচ্ছে মানুষের সংগঠন। আমাদের একশটির মধ্যে ৯৯টি সঠিক, একটি তো ভুল হতে পারে। সেই বেঠিক একটি সিদ্ধান্তের জন্যে জাতির ক্ষতি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে আমার কোন বিষয়ে জাতির ক্ষতি হলে সেজন্যে মাফ চাইতে অসুবিধা কোথায়? এখোন মাফ চাওয়ার পর কেউ কেউ বলেছেন, এইভাবে চাইলে হবে না, ঐভাবে চাইতে হবে। বিনা শর্তে মাফ চাইলাম, কোন শর্ত দিলাম না, তারপরেও বাকি থাকলো কোথায় এটা তো বুঝি না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ আবার প্রকাশ্যে বলে গেলাম সাতচিল্লশ থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর (রাত ৮টা ১১ মিনিট) পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যে যেখানে কষ্ট পেয়েছেন, আমরা বিনাশর্তে যারা কষ্ট পেয়েছেন তাদের কাছে মাফ চাই। এটা গোটা জাতি হলেও চাই, ব্যক্তি হলেও চাই। কোন অসুবিধা নাই।
ডা. শফিকুর বলেন, আমি একথা জীবনে বলিনাই আমার কোন সহকর্মী বলেন নাই, আমার সিনিয়র যারা ছিলেন তারা বলেন নাই যে আমরা সকল ভুলের উর্দ্ধে। কোন দল যদি দাবি করে যে তারা সকল ভুলের উর্দ্ধে-অবশ্যই জাতি এটা মানবে না। আমাদেরটা মানবে কেন? তাই আমাদের জানা-অজানা যত ভুল হয়েছে, এই ভুলগুলো যারা শোধরে দিয়েছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আর এই ভুলের দ্বারা যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোন, আমরা তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
‘কোয়ালিশন অব বাংলাদেশী আমেরিকান এসোসিয়েশন’ (কোবা) আয়োজিত এ মতবিনিময় সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামের আমেরিকাস্থ সমন্বয়কারি ডা. নাকিবুর রহমান। কুইন্সের ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনা পার্টি হলের এ সমাবেশে শুরুতেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং ডা. শফিকুর তার জবাব দেন। সবশেষে নিজের কথা বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম তার সফরের ঘটনাবলিও বিবৃত করেন। ডা. শফিকুর বলেন, বাংলাদেশ কখনো আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান অথবা ইরান হবে না, আমরা যদি জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারি তবে এটা বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ। এটা অন্য কোন দেশ হবে না। আমাদের দেশের কৃষ্টি, কালচার, সভ্যতা, যুগের পর যুগ মিলে-মিশে চলার যে সংস্কৃতি আমরা তৈরী করেছি, তার মধ্যে যে দু’চারটি কাল দাগ পড়েছে, ওগুলোকেও আমরা ওপড়ে ফেলবো ইনশাআল্লাহ। যাতে এখানে দল-ধর্মের ব্যবধানের কারণে আর বিভক্ত না হই। আমরা এখোন মেজরিটি-মাইনোরিটিও স্বীকার করি না। আমরা বলি ‘উই নীড ইউনিটি’। আপনি যখোনই মেজরিটি-মাইনোরিটি বলবেন, তখোনই একটি দেশকে দুভাগে ভাগ করে ফেললেন। এবং একদল আরেক দলের মুখোমুখী হয়ে যাবে। তেমন কান্ড-কারখানাই তো আমরা ৫৪ বছর দেখেছি। ওটা আর আমরা দেখতে চাই না।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নিকট প্রতিবেশী ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ তার নিজের জায়গা পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টাতে পারে না। আমরা আমাদের প্রতিবেশীকে রেসপেক্ট করতে চাই। একইভাবে আমরা আমাদের প্রতিবেশীর কাছে থেকে পাওনা রেসপেক্ট টুকু চাই। এটা হতে হবে মিউচ্যুয়াল রেসপেক্টেও ভিত্তিতে। এখানে আমরা সমতার কথা বলছি না। কারণ, ভারত হচ্ছে বাংলাদেশের চেয়ে ২৬ গুণ বড় একটি দেশ। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী জনসংখ্যার দেশ। তাদের রিসোর্স, ম্যানপাওয়া, ল্যান্ড, হিউজ দ্যান উই পিপুল। আমরা তাদেরকে তাদের জায়গায় সম্মান করতে চাই। কিন্তু আমাদের যে ছোট্ট একটি ল্যান্ড আছে, আর ১১৮ মিলিয়ন পপুলেশন আছে, এটাকেও তাদের রেসপেক্ট করতে হবে। দিস ইজ আওয়ার ডিমান্ড। যদি এটা হয় তাহলে দুই প্রতিবেশী শুধু ভাল থাকবো না, এক প্রতিবেশীর কারণে আরেক প্রতিবেশী বিশ্ব দরবারেও সম্মানীত হবো।
বিএনপির সাথে সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের কারণ জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা দুটি পৃথক দল। জাতীয় প্রয়োজনে আমরা বহুদিন একসাথে ছিলাম। এখোন প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। তারা তাদের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছেন, আমরা আমাদের কর্মসূচি নিয়ে জণগনের কাছে যাচ্ছি। আশা করি লক্ষ করবেন, আমরা কিন্তু কোন দলকেই স্প্যাসিফিক টার্গেট করে কোন কথা বলি না। আমরা কথা বলি নীতিগত। উদাহরনস্বরুপ বলতে পারি, গত বছরের ৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর ৮ তারিখ আমরা কটি বন্ধু সংগঠন নিয়ে বসলাম। বললাম যে, আমরা সবাই মজলুম ছিলাম, দেশবাসী মজলুম ছিল, ১৮ কোটি মানুষই মজলুম ছিল। আল্লাহতা’লা আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন, আসুন সবাই মিলে আমরা একটা দায়িত্বশীল আচরণ করি। কিছু কাজের কথা উল্লেখ করে আমি বললাম, এই এই কাজগুলো আমাদের করা উচিত হবে না। আমরা এটিও বলেছিলাম যে এই কাজগুলো যদি বন্ধ করা যায় তবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে হয়তো আপনারা ক্ষমতায় যেতে পারবেন। আমরা কিন্তু আর কারো সাথে ঐরকম দরবারে বসবো না। আমরা আপনাদের পাশে থেকে বিরোধী দলের আসনে বসে প্রত্যেকটি ভাল কাজের আমরা একশতভাগ, ষোলআনা সহযোগিতা করে যাবো। কিন্তু জাতির ক্ষতি হয় এমন কিছু ধরা পড়লে আমরা আপনাদেরকে প্রথমে কানে কানে বলবো, যদি আপনারা বদলায়ে যান তাহলে আমাদের কাজ শেষ। আর যদি না বদলান তাহলে আমরা রাস্তায় নামবো। এটাই হবে আমাদের পলিসি। তবে আমরা অনুরোধ জানাই যে এগুলো আমরা বন্ধ করি। বন্ধ হয়নি। যা প্রত্যাশা করেছিলাম তা বন্ধ হয়নি। না হওয়ার কারণে আমরা মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু আমরা কারো নাম নেইনি। নাম নিয়ে মুখ খোলাকে যদি আপনি আপনার ওপর টেনে নিয়ে যান তাহলে মনে হবে যে আপনি এটার উপযুক্ত। রাজনীতিতে এটা হবে। এটা মেনে নিতে হবে। অন্যদের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা আমারও থাকতে হবে, আপনারও থাকবে। এটাই বিউটি অব ডেমক্র্যাসী। অপরের মতটাকে রেসপেক্ট করতে হবে। শোনা লাগবে উনি কি বলতে চান।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মার্কিন প্রশাসনের নীতি-নির্দ্ধারকগণের সাথে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সেটি সিক্রেট। তবে ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে প্রবাসীদের এক সমাবেশে তিনি ভাষণ দেবেন বলে ড. নাকিবুর রহমান জানান।
এ মতবিনিময় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামের আদর্শের অনুসারি প্রবাসীরাও ছিলেন।
Posted ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর