নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কমলা হ্যারিস।
কমলা হ্যারিস (৬০) আবারো প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চান ২০২৮ সালের নির্বাচনে। বুধবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এমন আভাস দিয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজেই। সোস্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ প্রদত্ত বিবৃতিতে কমলা উল্লেখ করেছেন, গত ৬ মাস ধরেই আমি আমাদের জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছিলাম, একইসাথে আমেরিকানদের অধিকার সুসংহত করার মাধ্যমে সামগ্রিক কল্যাণে কীভাবে আমি কাজ করে যেতে পারি সেটিও ছিল আমার ভাবনা-চিন্তায়। আমি যে মূল্যবোধ আর আদর্শ লালন করছি তার মধ্যদিয়েই জনসাধারণের কল্যাণে, আমেরিকার উন্নতিতে অবদান রাখতে পারবো-সেটিও ভাবছিলাম। কারণ, জীবনের শুরু থেকেই আমি মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি এবং আমি মনে করছি যে, জনসেবার সেই মনোভাবকে পোষণ করেই সুন্দর ভবিষ্যত রচনায় সামনের দিনগুলোতেও সরব থাকবো, মানুষের অধিকারের জন্যে লড়াই চালাবো। আইনজীবী, প্রসিকিউটর, স্টেটের এটর্নী জেনারেল, ইউএস সিনেটর এবং সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারগুলোকে আমার সৌভাগ্য ছিল বলেই ভাবছি। কমলা আরো উল্লেখ করেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা আমাকে তাদের গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেবেন কিনা তাও ছিল ভাবনার অন্যতম বিষয়। কারণ, এটা হচ্ছে আমার নিজ এলাকা। তবে অনেক ভাবনা-বিশ্লেষণ-পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে সামনের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট গভর্ণর পদে লড়বো না। কমলা তার বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেছেন, জনসাধারণের প্রত্যাশার পরিপূরক হওয়া দরকার রাষ্ট্র ক্ষমতা। এবং আমরা, জনসাধারণকে অবশ্যই সেই ক্ষমতা ব্যবহার করা উচিত সকলের স্বাধীনতা, সুযোগ, ন্যায়-নিষ্ঠ্যতা, মর্যাদা সুরক্ষায় নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যেতে। আমি সেই লড়াইয়ে অবতীর্ণ থাকতে চাই।
কমলা হ্যারিসের এই বিবৃতিতে সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক পরিবহন মন্ত্রী পিটে বাটিগ্যাগ, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্ণর গ্যাভিন নিউসোম, পেনসিলভেনিয়ার গভর্ণর যোশ শ্যাপিরো এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সিান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো-করটেজের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন কমলা। এছাড়া, প্রার্থী হিসেবে তহবিল সংগ্রহেরও বিশেষ একটি সক্ষমতা রয়েছে কমলার। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় খুব বেশী সময় পাননি কমলা। এজন্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা পরিস্থিতিতে জো বাইডেনের বলিষ্ঠ ভ’মিকা না থাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল কমলার ওপর। বিশেষ করে ইসরায়েলির আগ্রাসন বন্ধে এবং মিছিল করে হাজার হাজার বিদেশীর প্রতিদিন সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেয়ার খেসারত হিসেবে কমলার বিজয়ের প্রত্যাশা ধুলিসাৎ হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর আমেরিকানদের প্রত্যাশা ক্রমান্বয়ে হতাশায় নিপতিত হচ্ছে। অনেকের বোধোদয় ঘটেছে যে, তারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে সঠিক দায়িত্বটি পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের গণবিরোধী বহু পদক্ষেপে মানুষ অতীষ্ঠ, আন্তর্জাতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্র আবারো নেতৃত্ব হারানোর পথে। দিন যত যাচ্ছে ততোই ট্রাম্পের গোয়ার্তুমি-নেতৃত্ব বিবেকসম্পন্ন আমেরিকানদের বিতশ্রদ্ধ করছে। প্রতিশোধ পরায়নতার পরিপ্রেক্ষিতে বৃদ্ধি করা আমদানী শুল্কের দায় বর্তাচ্ছে সাধারণ আমেরিকানদের ওপর। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ছাড়াও গৃহ-নির্মাণ সামগ্রির দামও বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। সাধারণ খেটে খাওয়া আমেরিকানদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে সবকিছু। এমন নাজুক আর টালমাটাল অবস্থায় কমলা হ্যারিসের মতো ডেমক্র্যাটদের প্রতি আমেরিকানদের প্রত্যাশা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মত কোন রিপাবলিকান তাদের প্রত্যাশিত নয়-জনমত জরিপে সেটিও উদ্ভাসিত হচ্ছে। তেমন প্রত্যাশার পরিপূরক হিসেবে কমলা মাঠে নামতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও কমলা তার বিবৃতিতে ব্যাপারটি খোলাশা করেননি। তবে স্টেট গভর্ণর পদে প্রার্থী না হবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করায় সাধারণ আমেরিকানদের ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে কমলা আবারো প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন। কমলার ঘনিষ্ঠজনেরাও এমন প্রত্যাশাকে উড়িয়ে দিতে চাননি। অনেকে বলেছেন, সময়েই জানান দেবে কী ঘটবে সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে।
Posted ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর