অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
ছবি সংগৃহীত
গত মার্চ মাস থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় হামলা শুরুর পর থেকে ক্রমাগত নিজেদের দখলদারিত্ব বাড়িয়ে চলেছে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত গাজার ৫০ শতাংশ এলাকা দখল করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। ফলে, নিজ ভূমিতে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছেন ফিলিস্তিনিরা।
ইসরায়েলি সেনা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, গাজা সীমান্তের আশপাশে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বড় এলাকা জুড়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এসব এলাকা এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই সামরিক বাফার জোনের পরিধি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল গাজার ভূমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করছে। হামাসের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও, ইসরায়েলি বাহিনী হামলার পাশাপাশি গাজার ভূমির নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতে চাচ্ছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠী ও গাজা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইসরায়েলের দখলে থাকা গাজার উত্তর-দক্ষিণ ভূমি বিভক্ত করতে এই করিডোরটি দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। সম্প্রতি, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, হামাস পরাজিত হলে গাজায় ইসরায়েল নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে বিতাড়িত করবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং ভেটেরান্স গ্রুপ ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর গাজার সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরিয়ে এনে একটি বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে। এই এলাকার অনেক স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, এবং এসব অঞ্চল এখন সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য।
গাজায় ইসরায়েলি সেনারা ‘নেতজারিম করিডোর’ নামে পরিচিত বিশাল একটি ভূমি দখল করেছে, যা গাজার উত্তরাঞ্চলকে উপকূলীয় উপত্যকার অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। সম্প্রতি, গাজার বাফার জোনের আকার আরও বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু জায়গায় এটি গাজার অভ্যন্তরে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনারা গাজায় প্রবেশের চেষ্টা করা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা এ কাজ করছেন, যদিও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স দাবি করেছে যে ইসরায়েলি সেনারা এই অঞ্চলটিকে একটি বিশাল পতিত ভূমিতে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে।
এই সংকটের মধ্যে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গত এক বছরে অন্তত ৫০ হাজার ৬৯৫ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া, পোলিও টিকার অভাবে গাজার প্রায় ৬ লাখ ২ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
এ পরিস্থিতি বিশ্বে ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন দাবি করছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার গোষ্ঠী ও জাতিসংঘ।
Posted ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর