গ্রেফতারের আতংকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন ঢালিউড এওয়ার্ডের আলমগীর খান আলম

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
রবিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

গ্রেফতারের আতংকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন ঢালিউড এওয়ার্ডের আলমগীর খান আলম

অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার অভিযানে সন্ত্রস্ত কম্যুনিটির প্রিয়মুখ আলমগীর খান আলম ৮ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেলেন। উত্তর আমেরিকায় জনপ্রিয় ‘ঢালিউড এওয়ার্ড’র উদ্যোক্তা এবং টানা ২৪ বছর যাবত ভারত ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী এনে বিনোদন পিপাসুদের তৃপ্ত করার মধ্যদিয়েই বহুজাতিক এ সমাজে বাঙালি কালচারের বিশেষ দূতে পরিণত হয়েছিলেন শো-টাইম মিউজিকের মালিক আলমগীর খান আলম। ঢালিউড এওয়ার্ডের সর্বশেষ অর্থাৎ ২৪তম বার্ষিক এওয়ার্ড বিতরণের জমজমাট অনুষ্ঠানটি নিউইয়র্কে হয় গত ১৮ জানুয়ারি। চাঁদপুরের সন্তান ৩০ বছর আগে এসে বসতি গড়েছিলেন নিউইয়র্কে। গ্রীণকার্ড পাননি বলে অনেক আগে থেকেই এক ধরনের বিষন্নতায় আক্রান্ত ছিলেন আলমগীর খান আলম (৫৫)। এজন্যে বিয়ে বন্ধনেও আবদ্ধ হতে পারেননি। তবুও ভেঙ্গে পড়েননি কখনো। বিনোদন জগতে সদা সরব থেকে নিজের মধ্যেকার কষ্টবোধকে দূরে রাখার চেষ্টা করেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপে ভীত-সন্ত্রস্ত আরো অনেকের মতো আলমগীর খান আলমও গ্রেফতারের আগেই বাংলাদেশে ফিরে গেলেন। তার এই চলে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সোসাইটির কালচারাল সেক্রেটারি অনিক রাজ। কারণ, দীর্ঘদিনের প্রিয়-পরিচিত অসংখ্য বন্ধুর কাউকেই তিনি বলে যাননি কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেননি। স্মরণ করা যেতে পারে অভিবাসনের মর্যাদার জন্যে নানাভাবে চেষ্টা করেও সক্ষম হননি আলম। এর ফলে তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছে বহিষ্কারের আদেশ বেশ কয়েক বছর আগে। এছাড়া, ১৫/১৬ বছর আগে এত তরুনীর নিতম্বে হাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হরেছিলেন আলম। সেই মামলায় দোষ স্বীকার করে কারাজীবনের সমাপ্তি ঘটাতে সক্ষম হলেও অবৈধ অভিবাসীর পাশাপাশি যৌন-নির্যাতনের দায় স্বীকারের ঘটনাটি আলমের জন্যে কাল হয়ে পড়েছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এটর্নী এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন।

এদিকে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট (আইস)এর পক্ষ থকে কংগ্রেসের কাছে ৫৭৫ মিলিয়ন ডলারের মঞ্জুরি চাওয়া হয়েছে গত বৃহস্প্রতিবার। এ অর্থে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরো এক লাখ বেডের ব্যবস্থা করা হবে। কারণ, ৪২ হাজার বেডের একটিও খালি নেই অবৈধ অভিবাসীদের রাখার জন্যে। ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউজের অনুরোধে কিউবার সন্নিকটে মার্কিন সমুদ্র-দ্বীপ এলাকা গুয়ান্টামো ব্যা-তে অবস্থিত গুরুতর অপরাধীদের কারাগারে ৩০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধদের গ্রেফতার অভিযান জোরদার করায় লসএঞ্জেলেস, মায়ামি, আটলান্টা, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সিও ফেডারেল কারাগারসমূহেও বহিষ্কারের আগে রাখা হবে অবৈধ অভিবাসীদেরকে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গিকারের শতভাগ পূরণ হয়ে যাবে সামনের বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই-এমন অভিমত পোষণ করেছেন রিপাবলিকান পার্টির নীতি-নির্দ্ধারকেরা। এদিকে, ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পরই জারিকৃত নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ হাজারের অধিক অবৈধকে আটক এবং ১০ হাজারের মত বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক, প্যাটরসন, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, মায়ামী ডেট্রয়েট, শিকাগো, বস্টন, ডালাস, হিউস্টন, সানফ্রান্সিসকো, ফিনিক্স প্রভৃতি স্থানে আইসের গ্রেফতার অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় ও ফেডারেল পুলিশ। কারণ, এই অভিযানে সহায়তা না করলে সংশ্ষ্টি সিটিসমূহে ফেডারেল বাজেট কর্তনের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এদিকে, কম্যুনিটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আইসের অভিযানে অন্তত: ২০ প্রবাসী আটক হয়েছে। গ্রেফতারের আতংকে সহস্রাধিক প্রবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

Facebook Comments Box

Posted ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us