নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১:০১ অপরাহ্ণ
মসজিদ, মন্দির, চার্চ, সিনেগজের মত স্পর্শকাতর ভবনে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের অবাধ প্রবেশাধিকারের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিলেন ম্যারিল্যান্ডের ফেডারেল জজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার-অভিযানে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও অনুমতি ছাড়াই আইস-সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে অবাধ প্রবেশাধিকার দেয়া হয়েছে। এই আদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করে ম্যারিল্যান্ডের ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছিলো ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসেচুৃসেট্স, পেনসিলভেনিয়া, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ভার্জিনিয়া স্টেটের পক্ষে একটি সংগঠন। তারা সারা আমেরিকার মসজিদ-মন্দির-চার্চে আইসের প্রবেশাধিকারকে নিষিদ্ধের আবেদন জানালেও মাননীয় জজ থিউডোর চ্যাং তা মঞ্জুর করেননি। শুধুমাত্র উল্লেখিত স্টেটসমূহের জন্যে এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে উল্লেখ কর হয়েছে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটলস্থ ফেডারেল কোর্টে খ্রিস্টান ও জুইশ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারি দুই ডজনেরও অধিক সংগঠনের পক্ থেকে পৃথক একটি আবেদনে সারা আমেরিকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আইসের গ্রেফতার-অভিযানের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। সেই আবেদনের শুনানী এখনো হয়নি। আরো উল্লেখ্য, নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী অবৈধভাবে বসবাসরতদেওর মধ্যে যারা গুরুতর অপরাধী তাদেরকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম চলাবস্থায় গত ২৭ জানুয়ারি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট অতিরিক্ত এক নির্দেশে স্কুল-হাসপাতাল-উপাসনালয়েও আইসের প্রবেশাধিকার দেয়। তা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, বহু বছর ধরেই ধর্মীয়-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের মত সুরক্ষিত এবং স্পর্শকাতর এলাকায় কখনোই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রবেশাধিকার নেই। বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রেফতার/তল্লাশী অভিযানের প্রয়োজন হলে সে সব প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজারের অনুমতি নিতে হতো। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ এই আদেশে সবকিছুকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে।
আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, অভিবাসনের স্ট্যাটাসহীন লোকজনকে গেফতারের অভিযান পরিচালনার পর থেকেই অনেক মানুষ উপাসনালয়ে আসছেন না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও উপস্থিতি উদ্বেগজনকহারে কমেছে। হাসপাতালে রোগীর আগমনেও ভাটা পড়েছে। যদিও স্কুল এবং হাসপাতালের ব্যাপারে এখোন পর্যন্ত কেউই আদালতে যায়নি। জানা গেছে, নিউইয়র্ক থেকে লসএঞ্জেলেস, শিকাগো এব ডেনভারের মত স্কুল ডিস্ট্রিক্টে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিদারুনভাবে কমেছে। আইসের অবাধ অভিযানে ভীতির সঞ্চার ঘটেছে এবং তার প্রভাব শ্রেণীকক্ষে পড়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রতিটি শিশুর জন্যেই পাবলিক স্কুলে বিনা খরচে লেখাপড়ার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে। অভিবাসনের মর্যাদা এক্ষেত্রে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে সংবিধানে। সাংবিধানিক এই রীতিম লংঘন করে প্রতিনিয়ত আইসের এজেন্ট ঢুকছে শ্রেণীকক্ষে, শিশু-কিশোরদের সামনে গ্রেফতার করছে অভিভাবককে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, বাস ও রেল স্টেশনেও অভিযান চালানো হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে।
Posted ১:০১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর