নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
ছবিটি প্রকাশ করেছে এফবিআই।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে আমেরিকান তরুণ সমাজকে উজ্জীবিত করতে অবিস্মরণীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ চার্লি কার্ক(৩১)কে প্রকাশ্য সমাবেশে নিশানা করে একটি মাত্র বুলেটে হত্যাকারি দুর্বৃত্তকে ঘটনার ৪০ ঘন্টা পরও (শুক্রবার সকাল ৭টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত) গ্রেফতার দূরের কথা হত্যার মোটিভসহ ঘাতককে শনাক্তেও সক্ষম হয়নি মার্কিন প্রশাসন। ১০ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বক্তব্যকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হওয়া চার্লি কার্কের হত্যাকারী সম্পর্কে কোনও তথ্য দিলে বা তাকে ধরিয়ে দিলে ১ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এর আগে এফবিআই সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে। বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ছবি প্রকাশ করে এফবিআই-এর সল্ট লেক সিটি শাখা। সন্দেহজনক ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সাহায্য চায় তারা। কারো কাছে তথ্য থাকলে তাকে ফোন নাম্বারের মাধ্যমে যোগাযোগ করা এবং অনলাইনে ছবি ও ভিডিও দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই। যুক্তির আলোকে রিপাবলিকান পার্টির কার্যক্রমকে তরুণ প্রজন্মে জনপ্রিয় করতে নিরন্তরভাবে কর্মরত চার্লি কার্ক গত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপুল বিজয়ে অবদান রেখেছেন বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অকপটে স্বীকার করেছেন চার্লির মৃত্যুর পর প্রদত্ত বিবৃতিতে। তারা উল্লেখ করেছেন, ম্যাগা তথা মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’র প্রচারণায় চার্লির অভাব কখনো পূরণ হবে না। উল্লেখ্য, কলোরাডো থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সফর করার পরিকল্পনা করেছিলেন নিহত এই রক্ষণশীল নেতা। নাম দিয়েছিলেন, ‘দ্য আমেরিকান কামব্যাক ট্যুর’। সেই ট্যুরেই ঝরলো তার প্রাণ। আর এমন নৃশংসতাকে মার্কিন সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে ‘মুক্ত চিন্তার ওপর জঘন্য বর্বরতা’ হিসেবে অভিহিত করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ধমক দেয়ার সামিল বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে যে, এর চেয়ে আরো ভয়ংকর কিছু ঘটতে পারে চরমপন্থিদের দমাতে না পারলে। অনেকে এহেন আচরণকে ‘বাক-ব্যক্তির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবেও মন্তব্য করেছেন। হত্যার উদ্দেশ্য কি ছিল তা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় নানা বিতর্ক চলছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। এক সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ বলেছে, আততায়ী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে ছাদে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবং এফবিআই প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে তা দৃশ্যমান হয়েছে। চার্লি কার্ককে হত্যায় ব্যবহৃত বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল এফবিআই এরই মধ্যে উদ্ধার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, আততায়ী পাশের একটি ছাদে উঠে গুলি চালায়। হামলার পরপরই আততায়ী ছাদ থেকে নেমে মানুষের মধ্যে মিশে যায়। তবে এফবিআই বলেছে, তারা আতাতয়ীর অতি ক্ষমতাসম্পন্ন রাইফেল খুঁজে পেয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তির পায়ের ছাপ ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখেছে।
ইউটার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তিনি। তেমনি অবস্থায় হঠাৎই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন চার্লি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়। কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন কার্ক। ছাত্র সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন জোগাড়ে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২৪ বছর পূর্তির ঠিক আগেরদিন প্রকাশ্য সমাবেশের মধ্যমণিকে বক্তব্য প্রদানকালে গুলি করে হত্যার ঘটনাকেও অনেকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে মনে করছেন। এবং রিপাবলিকানরা চেষ্টা করছেন এই হামলায় জড়িত দুর্বৃত্তকে বামপন্থি চিন্তা-চেতনার অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করতে। যদিও মার্কিন কংগ্রেসের ডেমক্র্যাটরাও হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তিকে সামাজিক দুশমন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এহেন আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘাতককে অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Posted ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর