জনজীবনে অস্বস্তি আরো চরমে উঠবে?

জনপ্রিয়তার তলানীতে ট্রাম্পের শততম দিবস

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

জনপ্রিয়তার তলানীতে ট্রাম্পের শততম দিবস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলতি মেয়াদের শততম দিবস উদযাপিত হচ্ছে ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজ-ইপসোস পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে যে, গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিকট অতীতের দুই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের চেয়েও অনেক কম জনপ্রিয় তিনি। এমনকি, প্রথম মেয়াদের প্রথম ১০০ দিবসের ধারেকাছেও নেই ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন-বিরোধী অভিযান, বৈদেশিক পণ্যে শুল্ক হার বৃদ্ধি, সাশ্রয়ের নামে ফেডারেল দফতরের কাটছাট সহ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ইত্যাদি কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেছে বলে জরিপে উদঘাটিত হয়েছে। আর এহেন অবস্থা তৈরী হয়েছে ২০ জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই। শততম দিবসে ট্রাম্প মিশিগানে একটি সমাবেশে ভাষণ দেয়ার কথা। এ উপলক্ষে রোববার নিজের ‘ট্রুথ সোস্যাল’এ প্রদত্ত এক বক্তব্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, মিশিগানের রিপাবলিকান ডেলিগেশনের সুপ্রিয় বন্ধুসহ কংগ্রেসের রিপাবলিকানদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি-যারা ঐতিহাসিক শততম দিবস উদযাপনের জন্যে আমার সাথে মিশিগানে থাকবেন। সেটি হতে চলছে অন্যরকম একটি শুভদিন। আমি আশা করছি সকলেই সেই অনুষ্ঠানে আমার পাশে থাকবেন। প্রেসিডেন্ট আরো উল্লেখ করেছেন, আমরা অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরো উদ্ভাসিত করবো এবং আমেরিকার স্বর্ণযুগকে ত্বরান্বিত করবো।

যদিও জরিপ ফলাফলের ওপর মন্তব্যকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার জ্যাক স্যুলিভান বলেছেন, শততম দিবসে আমরা যখোন দেখছি যে বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছে আমেরিকার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে পড়েছে, তেমনি সময়ে আমেরিকা স্বর্ণযুগে ধাবিত হবার দাবি কতটা সমীচিন? আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে বিরাজিত অস্বস্তিকে কীভাবে অস্বীকার করবেন? জনমত জরিপের প্রভাব দৃশ্যমান হবে সামনের বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে।

সর্বশেষ এই জরিপ অনুযায়ী, দু’মাস আগের চেয়েও অনেক কমপ্রিয় হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের প্রশাসনিক কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ৩৯% আমেরিকান। আর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৫৫%। ৪৪% একেবারেই অসন্তুষ্ট প্রসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কর্মকান্ডে। গত ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত একইধরনের জরিপে অংশ গ্রহণকারিগণের মধ্যে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্তদের ৪৮% ট্রাম্পের কর্মকান্ডকে ইতিবাচক মনে করেছিলেন। সে সময় পছন্দ করেননি ৫১% আমেরিকান ভোটার। এবারের জরিপে ইতিবাচক মনোভাব পোষণকারি ভোটারের হার হচ্ছে ৪২% এবং নেতিবাচক-৫৫%।

জরিপে আরো দেখা গেছে যে, বিরাটসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পকে জয়ী করতে অসাধারণ ভ’মিকা পালনকারী কলেজ ডিগ্রিহীন শ্বেতাঙ্গ ভোটারের মধ্যেও ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১০% কমেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। এমন ভোটারের মধ্যে যাদের বয়স ৩০ বছরের নীচে, তাদের মধ্যেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে ১৩ পয়েন্ট। আর যারা গত নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেননি তাদের মধ্যেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে ১১ পয়েন্ট।

গত ৮০ বছরের মধ্যে আর কোন প্রেসিডেন্টের প্রথম ১০০ দিবসে এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেখা যায়নি বলে জরিপ পরিচালনাকারীরা মন্তব্য করেছেন। জরিপের এই ফলাফল বিবেচনায় রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে সংযমি করবেন বলে অনেকে মনে করছেন। বিশেষ করে নির্বিচারে ধর-পাকড় এবং বহিস্কার, ফেডারেল দফতরে ছাটাই-বরখাস্ত ও বৈদেশিক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রবণতা থেকে বিরত না হলে সামনের দিনগুলোতে জনজীবনে অস্বস্তি আরো চরমে উঠবে বলে মন্তব্য করছেন সচেতন আমেরিকানরা।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রথম ১০০ দিনে বিশ্বব্যাপী শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছেন, বৈদেশিক সহায়তা কমিয়েছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে নেটো মিত্রদের উপেক্ষা করে রাশিয়ার বয়ানকেই সমর্থন করেছেন। গ্রিনল্যান্ড, পানামা খাল দখল এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্যে পরিণত করার কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্সির প্রথম বিশৃঙ্খল ১০০ দিনে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত ও অস্থিতিশীল কৌশল পরিচালনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা আংশিক উল্টে গেছে। রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরান ও ভেনেজুয়েলা বিষয়ক বিশেষ দূত এলিয়ট আব্রামস বলেন, “ট্রাম্প এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উগ্র। আমি সত্যিই হতবাক। “সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডেনিস রস বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে একটি বিশাল বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। কী হচ্ছে, বা সামনে কী আসতে চলেছে সে বিষয়ে কেউই এখন নিশ্চিত নয়।

Facebook Comments Box

Posted ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us