ধর-পাকড়ের আতংকে এ বছর ৫ লক্ষাধিক অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

ধর-পাকড়ের আতংকে এ বছর ৫ লক্ষাধিক অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছে

ফাইল ছবি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নানা পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর ৫ লক্ষাধিক অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন। এটা ট্রাম্পের চলমান গ্রেফতার ও বহিস্কার অভিযানের অতিরিক্ত এবং এর সিংহভাগই অবৈধ অভিবাসী নন। ‘আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট’(এইআই)’র গবেষকরা উদ্বেগজনক এ তথ্য দিয়েছে। এইআই’র মতে অভিবাসন হ্রাস পাবার প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে উৎপাদন সেক্টরে। ‘ম্যাক্রোট্রেন্ডস’ নামক আরেকটি অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গত বছর এভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগকারি অভিবাসীর সংখ্যা নিরূপন করেছিল ১৩ লাখ। আর করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন ৩ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসী। আপাত:দৃষ্টিতে ট্রাম্পের অভিবাসন তাড়ানোর অঙ্গিকারের পরিপূরক বলে মহলবিশেষ তৃপ্তির ঢেকুর তুললেও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণে এর নেতিবাচক প্রভাবের তথ্যই উপস্থাপন করেছে এইআইর গবেষকরা। শুধু স্বেচ্ছায় ফিরে যাবার ঘটনাই নয়, নতুন করে বৈধ/অবৈধভাবে আসার প্রবণতাও কমেছে। এমনকি, ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাবের কারণে বিভিন্ন দেশের কন্স্যুলেট-কর্মীরাও বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী অভিবাসন-ভিসা ইস্যুত গড়িমসি করছেন বলেও উল্লেখন করা হয়েছে গবেষণা-প্রতিবেদনে।

মার্কিন শ্রম দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কল-কারখানা, ক্ষেত-খামার এবং হাট-বাজারের স্টোর-রেস্টুরেন্টসমূহে কর্মরতদের ১৯.২% হলেন অভিবাসী। এসব শ্রমিক-কর্মচারি বেতন-ভাতা বাবদ যে আয় করছেন তার বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। এ অবস্থায় কর্মজীবীরা নানাবিধ চাপে পড়ে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের ফলে অর্থনীতিতেও তার বিরুপ প্রভাব পড়ছে। ডালাসে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক গত সপ্তাহে আরেকটি গবষণা রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, অভিবাসীরা চলে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে তাদের অবদান হ্রাস পেয়েছে ০.৭৫%। ডালাস ফেডারেল রিজার্ভের গবেষণা টিমের অন্যতম সদস্য ম্যাডেলিন জ্যাভডনি গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, শ্রম সেক্টরে অভিবাসীদের অবদান হ্রাস পেতে থাকার জের পড়ছে অর্থনৈতিক সেক্টরে এবং তা ক্রমান্বয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করছে। কারণ, দীর্ঘদিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিশেষ একটি ভ’মিকা রাখছেন অভিবাসীরা। ম্যাডেলিন জ্যাভডনি আরো উল্লেখ করেছেন, এটা খুবই সত্য যে, জন্মহার আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক-অর্থনৈতিক ভারসাম্যে অভিবাসীগণের ভ’মিকা প্রবল। তাই কুটিকতক দুষ্টলোকের কারণে সামগ্রিক অভিবাসনকে টার্গেট করা সমীচিন হচেছ না। যুক্তরাষ্ট্র আজ যে অবস্থানে উন্নীত হয়েছে এবং বিশ্বের মোড়লে পরিণত হয়েছে তার জন্যে অভিবাসীগণের মেধা আর শ্রমকে অস্বীকারের উপায় নেই।

এহেন নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আবিগাইল জ্যাকসন রোববার গণমাধ্যমে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এজেন্ডা হচ্ছে গরুতর অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানো এবং এরমধ্যদিয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুসংহত হচ্ছে। জীবন-যাপনের মান বাড়ছে। আমেরিকানদের ট্যাক্সেও অর্থ বেহাত হচ্ছে না অর্থাৎ সিটিজেনরাতা ভোগের সুযোগ পাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী সিটিজেনরাই সবকিছু ভোগ করবেন এবং এভাবেই আমেরিকা স্বর্নযুগে প্রবেশের পথ সুগম হচ্ছে।

উদ্ভ’ত পরিস্থিতির আলোকে ডেভিসে অবস্থি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক জিয়োভ্যানি পেরি বলেন, নির্মাণ, কৃষি এবং রেস্টুরেন্ট ও ছোট-খাটো অফিস অথবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং এর জের পড়ছে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে। এইআই’র ইকনোমিক পলিসি স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো স্ট্যান ভিউগার মনে করছেন, কৃষি, কন্সট্রাকশন এবং লেইজার সেক্টর সবচেয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার প্রভাব ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি গৃহ-নির্মাণ সেক্টর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকান-রেস্টুরেন্ট ইত্যাদিতে।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অভিবাসীদের বার্ষিক অবদান ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ২৯৯ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করেন অবৈধভাবে বসবাসরতরা। ‘দ্য আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল’র তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে অভিবাসীরা বাসা ভাড়া বাবদ প্রদান করেছেন ১৬৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অভিবাসন তাড়ানোর প্রতিক্রিয়া নানাভাবে দেখা দেবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us