নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
মো. কাদের মিয়া নিজ হাতে রান্না করছেন অতিথিগণের জন্যে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
কর্মজীবী-শ্রমজীবীগণের সমন্বয়ে ‘লেবার ডে উইকেন্ডে’ (শ্রমিক দিবসের ছুটিতে) প্রবাসীদের বাড়িতেও বারবিকিউ পার্টির জমজমাট আয়োজন হয়েছিল। শতশত প্রবাসী জড়ো হন রকমারি আইটেমের খাবার গ্রহণের পাশাপাশি প্রাণ উজার করা আড্ডায়। ছোট্টমণিরাও মেতে ছিল সহপাঠি অথবা সমবয়েসীদের কাছে পেয়ে। ৩০ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর এই তিনদিন ছিল লেবার ডে’র ছুটি। সারা আমেরিকায় এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেয়া হয় পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা জাতীয় আবহে। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। প্রবাসীরাও ছিলেন সরব। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক মানুষই বাইরে বেড়াতে যাননি। প্লেনে উড়া দূরের কথা নিজ গাড়ি চালিয়েও দূরবর্তী স্থানে আন্দদ-ভ্রমনে আগ্রহি ছিলেন না সিংহভাগ অভিবাসীই। সেজন্যেই এবার বাসা-বাড়ির আঙ্গিনা অথবা বনজঙ্গলে কিংবা লেকের ধারে, নিদেনপক্ষে রেস্টুরেন্ট-হোটেল-মোটেলের আশে-পাশে গরু-খাশী-মুরগী-গলদা চিংড়ি আগুনে পুড়িয়ে (বারবিকিউ) গ্রহণের পাশাপাশি হটডগের আমেজও পরিলক্ষিত হয়েছে। তরতাজা মাংস পুড়িয়ে ভক্ষণের আমেজে কেউ কেউ কাচ্চি বিরিয়ানি, রোস্ট-পোলাও, ব্রেডের পাশাপাশি নানা পদে ভর্তা-ভাতের মধ্যেও ডুুবেছিলেন। নানা রকমের মিস্টি, দই, ফিরনির আয়োজনও ছিল কোন কোন বাসায়।
মঞ্জুরুল নেছা মিশু নিজ হাতে রান্না করছেন অতিথিগণের জন্যে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
নিউইয়র্কে খ্যাতনামা নির্মাণ ব্যবসায়ী ও সমাজ-হিতৈষি মো. কাদের মিয়ার ব্রুকলীনের বাড়ির সুপরিসর আঙ্গিনায় ৩১ আগস্ট রোববার এ উপলক্ষে দলমত নির্বিশেষে সাড়ে তিন শতাধিক প্রবাসীর সমাগম ঘটেছিল। সন্দ্বীপের সন্তান মো. কাদের মিয়া এবং তার সহধর্মীনি মঞ্জুরুল নেছা মিশু প্রবাসীদের সাদর সম্ভাষণ জানানোর পাশাপাশি নিজ হাতে উত্তপ্ত চ’লায় বারবিকিউ করেন এবং সকলের মধ্যে পরিবেশনে ব্যস্ত ছিলেন। এই দম্পতির ঘনিষ্ঠজনেরাও ছিলেন রান্না ও পরিবেশনের সহযোগী। অর্থাৎ প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে সম্প্রীতির এক অমোঘ বন্ধনে সকলে দিনভর ভিন্ন এক আমেজে ২০/২২ রকমের খাবার গ্রহণ করেছেন। ছোট্টমণিরা ছিল খেলাধূলা নিয়ে। আঙ্গিনাতেই স্থাপিত স্যুইমিং পোলেও দেখা যায় ছোট্টমণিদেরকে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, আব্দুল কাদের মিয়া তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কষ্টার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ সারাবছরই সন্দ্বীপের আর্ত-পীড়িতদের জন্যে ব্যয় করেন। মানবিকতার এ দায়িত্বটি যথাযথভাবে সম্পাদনে কয়েকবছর আগে গঠন করেছেন ‘আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন’।
অতিথিগণের মাঝে গরম-গরম খাবার পরিবেশনের ফাঁকে ছবিতে পোজ দেন কাদের মিয়াসহ সতীর্থরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
এ প্রসঙ্গে কাদের মিয়া এ সংবাদদাতাকে জানান, লাল-সবুজের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়লেও প্রিয়-পরিচিত প্রতিবেশীগণের কথা এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলতে পারি না। যোগাযোগ রয়েছে সার্বক্ষণিকভাবে। তাই যখোনই কারো সংকট-সমস্যার সংবাদ পাই তখোনই সর্বাত্মকভাবে পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা করি না। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন, দিচ্ছেন, সেখান থেকে একটি অংশ মানবতার কল্যাণে ব্যয়ে আমি এবং আমার স্ত্রী-সন্তানের কোনই আপত্তি নেই।
অতিথিগণের মাঝে গরম-গরম খাবার পরিবেশনে ব্যস্ত নাজমুলের আঙ্গিনায়। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
লং আইল্যান্ডে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পরিবেশে এ উপলক্ষে মিলিত হয়েছিলেন ‘নর্থ আমেরিকা-৮৩’ (১৯৮৩ সালে এসএসসি পাশ করা প্রবাসীদের সোস্যাল নেটওয়ার্ক) এর বন্ধুরা। আতিথেয়তায় ছিলেন জামান ও এ্যানি। এ সময় বারবিকিউ পার্টির আনন্দে মেতে নানা রসালো আইটেম গ্রহণের সময়েই কম্যুনিটির সামগ্রিক কল্যাণে কী করা যায়, কী করা উচিত ফেলে আসা প্রিয় স্বদেশের বিরাজিত পরিস্থিতিতে-সে সব নিয়েও কথা বলেন অংশগ্রহণকারিরা। অংশগ্রগণকারিগণের মধ্যে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার বাদল, সাংবাদিক আনিসুর রহমান, জহির, শফিক, টুটুল, আতিক, শাহীন, পাপ্পু, রাহুল, জিন্নাহ, কৌশিক, স্বপন, কামাল, লাভলু, মায়া, নাজ প্রমুখ।
নর্থ আমেরিকা-৮৩ এর বারবিকিউ পার্টিতে অংশগ্রহণকারিগণের কয়েকজন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, শ্রমিক দিবসের এই ছুটিতে প্রতি বছরই কম্যুনিটিতে নানা আয়োজন হয়ে আসছে। আর এরমধ্যদিয়েই সকলে সংকল্পবদ্ধ হন সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রবাসের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরস্পরের সহযোগী হয়ে থাকার।
লং আইল্যান্ডের ডিক্সহিল এলাকায় নজমুল ইসলামের বাসার আঙ্গিনাতেও ছিল বারবিকিউ পার্টি। প্রিয়-পরিচিতজনেরা জড়ো হয়ে রান্নার আমেজে মেতেছিলেন প্রাণখোলা আড্ডায়। নারায়নগঞ্জের সন্তান নাজমুলের আতিথেয়তায় সকলে অভিভ’ত-আপ্লুত।
Posted ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর