নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
‘বৈশাখী আবাহনে মানবের জয়গান’ স্লোগানে নিউইয়র্কে ৩ মে বাংলা নতুন বছর-১৪৩২কে বরণের বর্ণাঢ্য এক সমাবেশ হলো বাংলাদেশের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগে। মূল আয়োজক ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব আমেরিকা (জাবি এলামনাই) এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই । কুইন্সে ইয়র্ক কলেজ প্রাঙ্গনে বৈশাখী শোভাযাত্রায় বাঙালি পোশাকে সাবেক শিক্ষার্থীগনের সাথে ছিল তাদের সন্তানেরাও। বৈশাখ বরণের এই শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন জাবি এলামনাইয়ের সভাপতি শামিমআরা বেগম। সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রবাসে নিরব সমাজকর্মী হিসেবে ইতিমধ্যেই খ্যাতি অর্জনকারি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক। জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম পরিবেশের অন্যতম অবলম্বন কৃষ্ণচূড়া ফুলকে বৈশাখ মাস তথা গ্রীষ্মকালের ফুল হিসেবে পরিচিত করা, কৃষ্ণচূড়া ব্লসমকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এবারের থিম ছিল ‘কৃষ্ণচূড়া ফুল।’ পুরো আয়োজনকে ষোলকলায় পরিপূর্ণ করতে জাবি এলামনাই আখতার আহমেদ রাশার পরিকল্পনা ও অঙ্কনে ১০০ ফিট লম্বা চটের উপর আলপনা, যা ছোট বড় সবার নজর কেড়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে । বাংলাদেশ থেকে কৃত্রিম কৃষ্ণচূড়া ফুল আনা হয়েছিল ছবি তোলার প্রপস হিসেবে । আরও ছিলো কৃষ্ণচূড়া ফুল ও গাছের বিশাল ক্যানভাস । তা এই বৈশাখী সাজ-সজ্জাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এট্রিয়ামের ভিতরে রংধনুর সাতটি রঙের কাপড়ে আলপনা এঁকে সাজানো হয়-যা আগত সকলকে মুগ্ধ করেছে বৈশাখী আমেজে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রবাস প্রজন্মের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ। বাংলা আর বাঙালি সংস্কৃতির আবহে এই প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে বহুজাতিক সমাজে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির জয়গান গীত হয়েছে। সমন্বয় করেছেন শামিমআরা বেগম, আখতার আহমেদ রাশা, তামান্না শবনম, এম এস আলম, রুহুল আমিন সরকার, সাবিনা নিহার এবং মীর কাদের রাসেল।
বৈশাখ বরণের জনপ্রিয় সব সঙ্গীতের সাথে হারানো দিনের বাংলা গানগুলো উপস্থিত সকলকে অভিভ’ত করেছে। প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে একাকার হওয়া এ পর্বের সমন্বয়কারিগণের মধ্যে ছিলেন মেরীস্টেলা আহমেদ শ্যামলী, শারমিন আকতার রেক্সোনা, মেঘনা পাল, তাঞ্জিল মাহমুদ, দূরওে মাককুন নবনী, গোলাম মোস্তফা, নুপুর চৌধুরী এবং অনুপ দাস।
ভরদুপুরে সকলের মধ্যে হরেক রকমের বাঙালি খাদ্য পরিবেশন করা হয়। আর সে সময়েই ইয়র্ক কলেজের পুরো চত্বর উদ্ভাসিত হয় বাঙালি অবয়বে। আর এভাবেই ‘বৈশাখী আবাহনে মানবের জয়গান’ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সাবেক শিক্ষার্থীগণের মধ্যে ধ্বনিত হতে থাকে। সকলেই দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন সুদূর এই প্রবাসেও বাঙালি সংস্কৃতি লালন ও বিকাশে নিরন্তরভাবে সচেষ্ট থাকার।
Posted ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর