নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশে জ্বালাও-পোড়াও-গ্রেফতার-নির্যাতন বন্ধে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশে জ্বালাও-পোড়াও-গ্রেফতার-নির্যাতন বন্ধে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা

হোয়াইট হাউজে ১৩ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্নে নরেন্দ্র মোদির সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠকের সময় রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২৬০ মাইল দূর নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে একটি রেজ্যুলেশন (এইচআর ১১) পাশ হয় ৩২৮-৪১ ভোটে। রিপাবলিকান এবং ডেমক্র্যাট-উভয় পার্টির অকুন্ঠ সমর্থনের এই রেজ্যুলেশনে হোয়াইট হাউজ, কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয় অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার ও বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার মত হিংস্র আচরণ বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে। ‘আর্জিং দ্য ইউনাইটেড স্টেটস গভর্ণমেন্ট টু ইনভেস্টিগেট অ্যালিগেশন্স অব এ্যবুজ অব মাইনোরিটিজ, স্পেশালি হিন্দুজ, বুড্ডিস্টস, ক্রিস্টিয়ান্স, অ্যান্ড আদার রিলিজিয়াস মাইনোরিটিজ বাই দ্য ইন্টারিম গভর্ণমেন্টস অব বাংলাদেশ’ ( ঁৎমরহম ঃযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং মড়াবৎহসবহঃ ঃড় রহাবংঃরমধঃব ধষষবমধঃরড়হং ড়ভ ধনঁংব ড়ভ সরহড়ৎরঃরবং, বংঢ়বপরধষষু ঐরহফঁং, ইঁফফযরংঃং, ঈযৎরংঃরধহং, ধহফ ড়ঃযবৎ ৎবষরমরড়ঁং সরহড়ৎরঃরবং নু ঃযব রহঃবৎরস মড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ইধহমষধফবংয) শীর্ষক রেজ্যুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক মৌলবাদিদের উষ্কানীতে তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিধন, ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস, জাতিরজনকের বাড়ি গুড়িয়ে দেয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রথিতযশা সাংবাদিকদের হেনস্থা, গ্রেফতার ও খুন করা, শাহ পরাণ এবং দেওয়ানবাগ, গরিবউল্লাহ শাহ মাজারসহ ৫০টি মাজারে হামলা, অগ্নি সংযোগে ধ্বংস করা, এমনকি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেই খুন হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদেরকে; শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন মন্ত্রী-এমপি, রাজনীতিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি শতশত পুলিশ অফিসারকেও হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো পুলিশের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত রয়েছে গোটা বাংলাদেশে

(—–  that government was overthrown by a so-called student uprising supported by Islamic fundamentalists that is hostile to religious minorities; and Whereas, attacks on places of religious worship and cultural figures, harassment and attacks on Hindu religious centers, have increased resulting in many deaths and injuries; and

Whereas, at least 50 Shrines, including the Shah Paran shrine, the Dewanbagh shrine in

Narayanganj, and the Garibullah Shah shrine in Chittagong, were attacked and set on fire; and

Whereas, Muhammad Yunus, the current leader of Bangladesh, has attempted to erase the

history of Bangabandhu by canceling national holidays such as the father of the nation

Bangabandhu’s birthday and removing plaques and renaming institutions that were placed or

named in his honor; and Whereas, there have been extradjudicial killings of citizens who either have spoken out against the Yunus government or who were members of the previous government, including members Bangladesh Awami League, and including the killing of police officers; and; now, therefore, be it Resolved by the House of Representatives: the United States government is urged investigate

allegations of abuse of minorities, especially Hindus, Buddhists, Christians, and other religious

minorities by the interim government of Bangladesh.

Let it be further resolved that copies of this resolution be sent to the members of the New

Hampshire Congressional delegation, the Secretary of State of the United States, the President of

the United states, and the White House Press Office.)|এই রেজ্যুলেশন উত্থাপন করেছিলেন নিউ হ্যামশায়ার স্টেটের রকিংহাম ডিস্ট্রিক্ট-৩০ এর রিপ্রেজেনটেটিভ (রিপাবলিকান) আবুল বি খান। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার অন্যতম সহ-সভাপতি আবুল বি খানের উত্থাপিত রেজুলেশনটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পাশের পর পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কো-স্পন্সর ডোগ থমাস এবং জোনা হুইলারকে পাশে নিয়ে আবুল বি খান বলেন, মাতৃভ’মি ছেড়ে ৪৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এলেও মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে যাই নাড়ির টানে। কিন্তু গত ৫ আগস্টে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথিত এক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উচ্ছেদের পর বাংলাদেশে এক অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। হত্যা করা হচ্ছে পুলিশ-প্রশাসনের সামনে। এমনকি কদিন আগে বোলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে জাতিরপিতার স্মৃতি বিজড়িত ভবনটিকে। লুট-তরাজের পর আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলা হয় সেনাবাহিনীর সামনে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অথচ তারা কথিত ছাত্র-আন্দোলনকারীদের অপকর্ম বন্ধে ন্যূনতম কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এরফলে সাধারণ মানুষেরাও সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। আবুল খান উল্লেখ করেন, নিজের দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে চরম ব্যর্থতা প্রদর্শনকারি সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে রাখার যৌক্তিকতা আদৌ আছে কিনা তা খতিয়ে দেয়া দরকার। আবুল খান বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ন্যূনতম স্বাধীনতা নেই। হুমকির মুখে সাংবাদিকতার পেশা আজ বিপর্যস্ত। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা না থাকায় অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধের উপক্রম। কথিত আন্দোলনের সমন্বয়কারি ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা মোটা অংকের চাঁদাবাজি করছে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিগনের কাছে। চাঁদা না দিলে মামলা-হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এভাবে গোটা সমাজকে অসহনীয় অবস্থায় নিপতিত করা হয়েছে-যা কখনোই মানবতার পরিপূরক নয়।

নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে রেজ্যুলেশন পাশের পর প্রবাসী নেতৃবৃন্দ। ছবি- এনওয়াইভয়েস২৪।

এদিকে, নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে এই বিল পাশের সময় গ্যালারিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম ফজলুল হক, যুগ্ম সম্পাদক আলিম খান আকাশ, মোহাম্মদ জাফরউল্লাহ, আফসার আলী, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতা বিন্দু সফেদা বসু, টিপু চৌধুরী, প্রিতম বড়ুয়া, আশিষ দে প্রমুখ।

এই রেজ্যুলেশনের পরিপূরক একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে যৌথ প্রেস কনফারেন্সে। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, আমরা জানি বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে বাইডেন প্রশাসনের সময় ডিপস্টেট জড়িত ছিল, সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জুনিয়র সোরেসের (জর্জ সোরেসের ছেলে) বৈঠকেও তা প্রমাণিত। তো বাংলাদেশ নিয়ে আপনি কী বলবেন? জবাবে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, না, আমাদের ডিপ স্টেটের এখানে কোন ভ’মিকা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী (ভারতের) এই বিষয়টা নিয়ে বহুদিন ধরে কাজ করছেন—–। কাজেই বাংলাদেশের বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দেবো’-পাশে বসা নরেন্দ্র মোদির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন মি. ট্রাম্প।

Facebook Comments Box

Posted ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us