নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
জীবন বাজি রেখে হারলেম নদী থেকে আত্মহত্যায় প্রবৃত্ত তরুনীকে রক্ষাকারি তিন পুলিশ অফিসার (বাম থেকে) শুয়াইবুল আমিন, উইলমার গুয়েরেরো এবং অঙ্কিত গুপ্ত। ছবি-সংগ্রহ।
নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে হারলেম নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে যাওয়া ১৬ বছরের এক তরুনীকে ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার ভর দুপুরে রক্ষা করলেন নিউইয়র্ক পুলিশে এক বাংলাদেশী অফিসারসহ চৌকষ তিন অফিসার। এর ঠিক ৯ বছর এক মাস আগে ম্যানহাটানের ডাউন টাউনে ব্যাটারি পার্ক সংলগ্ন হাডসন নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যায় উদ্যত্ত ৪৯ বছর বয়েসি এক ব্যক্তির প্রাণ বাঁচিয়ে অসম সাহস ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাংলাদেশী পুলিশ অফিসার নোয়াখালীর রাজুব ভৌমিক। আর এবারের সাহসি তিন অফিসারের অন্যতম হলেন ফরিদপুরের সন্তান শুয়াইবুল আমিন (২৭)। অপর দুজন হলেন ভারতীয় অঙ্কিত গুপ্ত (২৭) এবং হিসপ্যানিক উইলমার গুয়েরেরো (৩২)।
পুলিশ সূত্র এবং অকুস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীগণের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্কের ডেইলি নিউজ ১৩ নভেম্বর ‘কপস সেইভ সুইসাইডাল গার্ল, ১৬, হো জাম্পড ইন ফ্রিজিং হারলেম রিভার’(Cops save suicidal girl, 16, who jumped in freezing Harlem River) শিরোনামে তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় তরুণীর প্রাণ বাঁচানোর তথ্য প্রকাশ করেছে। সংবাদে বলা হয়েছে যে, টহল পুলিশের দলটি তরুনীকে হারলেম নদীর ওপর নির্মিত ব্রীজের কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠতে দেখেন। সেখানে সুস্থ কোন মানুষের উঠার কথা নয়। তাই ঐ তিন অফিসার স্বপ্রণোদিত হয়েই তরুনীর নিকটে যান। তাকে সেখান থেকে নেমে আসার অনুরোধ জানিয়েও সাড়া না পেয়ে শুয়াইবুল আমিন তরুনীর হাত ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু সক্ষম হননি। তরুনীটি নদীর হিমজলে লাফ দেন। এবং আর্তচিৎকার করতে থাকেন বাঁচানোর জন্যে। উল্লেখ করেন যে তিনি সাঁতার জানেন না। এভাবে কিনারা থেকে ২০ থেকে ৩০ ফুট ভেতরে গভীর পানিতে ডুবতে দেখে অফিসার উইলমার গুয়েরেরো চোখের নিমেষে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও রিভলবার বেধে রাখার বেল্ট খুলেই লাফিয়ে পড়েন এবং বরফের পর্যায়ে উপনীত হওয়া পানি সাঁতরে তরুনীকে উদ্ধার করেন। নদীর কিনারে আসার পর শুয়াইবুল আমিন ও অঙ্কিত গুপ্ত তরুনীকে টেনে উঠান। ততক্ষণে সংবাদ পেয়ে আরো পুলিশ অফিসার সেখানে জড়ো হন এবং এ্যাম্বুলেন্সে তরুনীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়া হয়। শুয়াইবুল বলেন, সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া আদায় করছি যে, সঠিক সময়ে আমরা সেখানে ছিলাম। আশা করছি এখোন থেকে তরুনীটি প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা পাবেন সুস্থ জীবন-যাপনে। আমি তার সুন্দর জীবন কামনা করছি। অঙ্গিত গুপ্তও একই ভাষায় তরুনীটির সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করেছেন। আমি আশা করছি তিনি এখোন অনুধাবনে সক্ষম হবেন যে আত্মহত্যার পথে যাওয়া সমীচিন হয়নি। কারণ, তিনি একা নন, আমরা সকলে রয়েছি তার সাথে। তার মানসিক-অর্থনৈতিক কষ্টবোধ দূর করতে আরো অনেক মানুষ রয়েছেন এই সমাজে। উইলমার গুয়েরেরো বলেন,পানিতে ঝাপিয়ে পড়ার পর টের পেয়েছি কতঠান্ডা, জীবনের মায়া ত্যাগ করে তরুনীকে বাঁচানোই ছিল সে সময়ের একমাত্র প্রার্থনা। এতকিছুর মধ্যেও আমি সন্তুষ্ট যে, তরুনীটি দ্বিতীয় জীবন পেলেন সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার। উইলমার গুয়েরেরোর ঝাঁপ দেয়ার একটি ছবিও প্রকাশ করেছে ডেইলি নিউজ।
Posted ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর