নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ভুয়া ভোট বানিয়ে নির্বাচনী ফলাফল ছিনতাইয়ের মামলায় পেনসিলভেনিয়া স্টেটের মিলবোর্ন বরোর আরেক বাংলাদেশী কাউন্সিলম্যান মো. মনসুর আলী (৪৮)কে ২১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হলো। ২৬ জুন ফিলাডেলফিয়াস্থ ফেডারেল কোর্টের বিচারক হার্ভে বার্টেল থার্ড এ রায় প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ জুন একই প্রতারক চক্রের অপর দুই সদস্য মিলবোর্ন বরোর কাউন্সিলম্যান নুরুল হাসান (৪৮)কে ৩ বছরের কারাদন্ড এবং আরেক কাউন্সিলম্যান মো. রফিকুল ইসলামকে এক বছর একদিনের কারাদন্ড-সহ জরিমানা করা হয়। এরা তিনজন পরস্পরের যোগসাজশে মিলবোর্ন বরোর মেয়র পদে বাংলাদেশী প্রার্থী মাহবুবুল আলম তৈয়বকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্রে ভুয়া ভোটের অবতারণা করেছিলেন বলে দীর্ঘ তদন্তে উদঘাটিত হয়। পাবনার সন্তান মনসুর আলীকে ২১ মাস কারাভোগের পর আরো এক বছর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে অতিবাহিত করতে হবে। এছাড়াও তাকে ২৫০০ ডলারের জরিমানা করা হয়েছে। ইউএস এটর্নী ডেভিড মেটকফ এ তথ্য জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে মাহবুবুল আলম তৈয়বের বিরুদ্ধে মেয়র পদে লড়ছিলেন নুরুল হাসান। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে পরাজিত হবার পর চট্টগ্রামের সন্তান নুরুল হাসান ভুয়া ভোট তৈরী এবং জালিয়াতির ফাঁদ পেতেছিলেন মূল নির্বাচনে ‘রাইট ইন প্রার্থী’ হিসেবে বিজয়ের মতলবে। সে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২ নভেম্বর। ১২০ ভোটের ব্যবধানে নুরুল হাসান পরাজিত হয়েছিলেন। একই কম্যুনিটির লোকজনের এহেন প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত করেছে এফবিআই-সহ ডেলওয়ার কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী অফিস। গত ফেব্রুয়ারিতে ৩ জনের বিরুদ্ধেই ডেলওয়ার কাউন্টির সহকারি ইউএস এটর্নী মার্ক বি ডাবনাফ চার্জশিট সাবমিট করেন। এর দু’মাস পর এপ্রিলে অপর দু’জনের ন্যায় মনসুর আলীও অপকর্মে লিপ্ত থাকার সকল অভিযোগ স্বীকার করে দন্ডের পরিমাণ হ্রাসের চেষ্টা করেন।
মিলবোর্ন বরোর ৩ প্রার্থীর উপরোক্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার বিবরণে জানা গেছে, এই বরোর অধিবাসী নন এমন পরিচিতজনদের নাম ও জন্ম তারিখ চুরি করে এখানকার ঠিকানায় ভোটার বানানো হয় এবং নিজেদের ই-মেল দেয়া হয় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হবার সময়। এসব করা হয় বোর্ড অব ইলেকশনের ওয়েবসাইটে। এরপর ডাকযোগে ভোট প্রদানের অনুরোধ জানানো হয় ওয়েবসাইটেই। কথিত ঠিকানায় ব্যালট আসার পর এই তিনজনে তা সংগ্রহ করেন (যেহেতু তারাই দিয়েছেন সেই ঠিকানা) এবং নুরুল হাসানকে মেয়র হিসেবে ভোট প্রদানের পর তা ডাকযোগেই ফেরৎ পাঠানো হয় বোর্ড অব ইলেকশনের অফিসে। এক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষর প্রদান করা হয়। এমনভাবে জাল ভোট প্রদানের পরও নুরুল হাসান ২৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তৈয়বের কাছে। ফিলাডেলফিয়াস্থ এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ওয়াইন এ জ্যাকবসের নেতৃত্বে এই প্রতারণার তদন্ত চালানো হয়। ইউএস এটর্নী মেটকালফ বলেন, মিলবোর্ন বরোর মেয়র কে হবেন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোটারগণের ইচ্ছাকে ছিনতাইয়ের ফাঁদ পেতেছিলেন অভিযুক্তরা। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থার ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যেই আমার অফিস বদ্ধপরিকর সুষ্ঠু বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে। এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ওয়াইন বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া হচ্ছে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। এ অবস্থায় যারা প্রতারণার মাধ্যমে ফলাফল ছিনতাইয়ের পাঁয়তারা করে তারা শুধু বেআইনী কাজেই লিপ্ত হয় না, তারা ভোটারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চালায়। এফবিআই সবসময়ই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ রাখতে সংকল্পবদ্ধ।
Posted ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর