নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
স্ন্যাপ তথা ফুডস্ট্যাম্প কার্য।
ফুডস্ট্যাম্পের অর্থ চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ চুরির ঘটনা কর্র্তৃপক্ষকে ডক্যুমেন্টসহ অবহিত করলেও কেউ সে অর্থ ফেরৎ পাচ্ছে না। গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের আগে এমন চুরির ঘটনা ঘটলে অভিযোগ ন্যায়সঙ্গত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সমুদয় অর্থ আবারো পেতেন। এখন আর সে বিধি কার্যকর নেই। কারণ, কংগ্রেসে ফুডস্ট্যাম্পের অর্থ চোরকে শায়েস্তা অথবা চুরিকৃত অর্থ পুনরায় বরাদ্দের বিল এখোন পর্যন্ত পাশ হয়নি। এ বছরের এপ্রিলে টেক্সাসের (ডেমক্র্যাট) কংগ্রেসম্যান আল গ্রীণ ‘স্ন্যাপ সিকিউর এ্যাক্ট অব ২০২৫’ শীর্ষক একটি বিল উত্থপান করেছেন। সেখানে চুরি হওয়া অর্থ পুনরায় বরাদ্দের কথা রয়েছে। কিন্তু বিলটি রিপাবলিকানদের অকুন্ঠ সমর্থনে পাশ না হওয়ায় গরিবের চেয়েও গরিব আমেরিকানদের খাদ্য-শস্য তথা গ্রোসারি ক্রয়ের অর্থ চুরির ঘটনা বেড়েই চলছে। কৃষ্টি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের এপ্রিলের ১ তারিখ পর্যন্ত ৬ মাসের ব্যবধানে ফুডস্ট্যাম্পের অর্থ চুরির ঘটনা ২৪৭০৫১টি বেড়ে মোট ৬৯১৬০৪টি হয়েছে। অর্থাৎ গত অক্টোবরের তুলনায় চুৃরির ঘটনা ৫৫% বেড়েছে-যার পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের মত। কংগ্রেসে বিল পাশ হওয়ায় বেশ কটি স্টেটে একইধরনের বিল পাশের চেষ্টা চলছে-যাতে ফেডারেল তহবিলের বিকল্প হিসেবে চুরি হওয়া অর্থ ফেরৎ দেয়া যায় অভাবী মানুষের কার্ডে। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ‘ইএমভি চিপ’ নামক একটি বিল পাশ হয়েছে। যেটি ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ডকে চুরি ঠেকাতে সুরক্ষা দিচ্ছে। একইভাবে ইবিটি কার্ড-কেও তালাবদ্ধ করার ব্যবস্থা করা যাবে। যা হোক ইতিমধ্যে ‘ইবিটিএ্যাজ’ (ebtEDGE) ডাউনলোড করে অনেকেই ফুডস্ট্যাম্প চুরির পথ বন্ধ করার প্রয়াস নিয়েছেন। হয়তো চোরেরা এ ব্যবস্থাকেও তছনছ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এহেন অবস্থায় ফেডারেল প্রশাসনের উদাসিনতায় জনমনে ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে। কারণ, চোরেরা যে স্টোর থেকে কেনাকাটা করছে সেই স্টোরের একাউন্টে হানা দিলে কিংবা স্টোরসমূহের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলেই দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা সম্ভব, সেপথে এগুচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ গরিবের পেটে লাথি দেয়ার মত নিষ্ঠুর এ আচরণকে অবাধে চলতে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন-এমন অভিযোগ ক্রমান্বয়ে জোরালো হচ্ছে।
গ্রীণহাউজ দেশী সুপার মার্কেট। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রুলিন্স এ প্রসঙ্গে বলেন, টাম্প প্রশাসন কখনোই এহেন অপকর্মকে বরদাশত করবে না। ফেডারেল সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে নাগরিকের কাছে বিতরণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্মকর্তাগণের মধ্যে যারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের ট্যাক্স প্রদানকারি নাগরিকের সাথে যারা প্রতারণা করার চেষ্টা করবে তাদেরকে শক্তহাতে দমনে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়েও আমরা কাজ করছি প্রতারকদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্যে। কংগ্রেসে বিল উত্থাপনকারি কংগ্রেসম্যান আল গ্রীণ এক বিবৃতিতে বলেছেন, সামনের এপ্রিপ্রিয়েশন বিলে ফুডস্ট্যাম্পের চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের ব্যাপারটি যুক্ত করার কথা ভাবছি। যাতে ফুড স্ন্যাপ গ্রহণকারির নিদারুন সংকট ঘুচে যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ কোটি মানুষ ফুডস্ট্যাম্প গ্রহণ করছেন। কঠোর পরিশ্রমী অভিবাসী ছাড়াও কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ান আমেরিকানদের বড় একটি অংশ ফুডস্ট্যাম্পের (বর্তমানে এটি স্ন্যাপ তথা সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন এ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম হিসেবে পরিচিত) সহায়তা নিচ্ছেন পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয়ের ভর্তুকি হিসেবে। এটি খয়রাতি সাহায্য নয়, প্রতিটি স্বল্প আয়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর ফুডস্ট্যাম্প জালিয়াতি অথবা বরাদ্দকৃত অর্থ চুরির ঘটনা অবিশ্বাস্যরকমভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশীরাও এহেন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে তুলনামূলকভাবে কমদামে পণ্য-সামগ্রি বিক্রির জন্যে সমধিক পরিচিত ‘গ্রীণহাউজ দেশী সুপার মার্কেট’র মালিক জাহাঙ্গির আলম ১৫ সেপ্টেম্বর ফুডস্ট্যাম্প’র অর্থ চুরি প্রসঙ্গে এ সংবাদদাতাকে বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষেরাই পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের স্বার্থে ফেডারেল সরকারের বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী ফুডস্ট্যাম্প নিচ্ছেন। অনেক পুরনো এ ব্যবস্থাটির বর্তমানে যে নাজুক অবস্থা তা কখনো দেখিনি। ফুডস্ট্যাম্পে অর্থ বরাদ্দ আসার সাথে সাথে দুর্বৃত্তরা কার্ডের যাবতীয় তথ্য চুরি করে দূরবর্তী কোন স্থানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রোসারি-সামগ্রি ক্রয় করে নিচ্ছে। এমন চুরির অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দফতর সাফ জানিয়ে দিচ্ছে যে, তাদের নাকি কিছুই করার নেই।
এই সুপার মার্কেটের নিয়মিত একজন ক্রেতা এ সংবাদদাতাকে বললেন, তিনি জীবনেও আরকানসাস কিংবা টেক্সাসে যাননি, অথচ সেখানকার দোকানে তার ফুডস্ট্যাম্প-কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ করেছিলেন সমাজসেবা দফতরে। সেখান থেকে নতুন নম্বরের একটি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু চুরিকৃত অর্থ উদ্ধারের কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। কিংবা ফেডারেল প্রশাসন থেকেও ঐ অর্থের বিপরীতে কোন বরাদ্দ করা হয়নি। এভাবে প্রতিমাসেই হাজার হাজার বাংলাদেশী পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮ লাখের অধিক মানুষ ফুডস্ট্যাম্প পাচ্ছেন। এর বড় একটি অংশ জুইশ, আফ্রিকান, চীনা এবং এরপরই প্রবাসীরা। প্রতিমাসে মাথাপিছু দুই শত ডলারের অধিক বরাদ্দ করা হয় এই কার্ডে।
Posted ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর