নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন : দেশব্যাপী ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী

বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র রুখতে প্রবাসীদের সরব হবার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র রুখতে প্রবাসীদের সরব হবার আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন শামীম চৌধুরী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

নিউইয়র্কে ১০ অগাস্ট সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয় যে, গণতন্ত্র আজ নির্বাসনে, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন, মবক্র্যাসিতে প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ প্রতিবাদি জনতাকে, হত্যামামলার নামে চলছে চাঁদাবাজি, লুটতরাজের উৎসব চলছে সারা বাংলাদেশে। এহেন পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টির বিকল্প নেই বলে অভিমত পোষণ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শামীম চৌধুরী। শুরুতে প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাগণের অন্যতম ড. প্রদীপ করের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন বিজ্ঞানী-বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নূরুন্নবী, সাংবাদিক-অ্যাক্টিভিস্ট দস্তগীর জাহাঙ্গির, সংগঠক-লেখক-কলামিস্ট শিতাংশু গুহ, লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মহসিন আলী, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন বাকের।

মঞ্চে আরো উপবেশন করেন ডা. মাসুদুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। শুরুতে গোপালগঞ্জে গণহত্যাসহ বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার লংঘনের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতির অবতারণা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থি আচরণের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর-সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তকমা লাগানোর ষড়যন্ত্র রুখতে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ সময়ের প্রয়োজনে আবার সরব হলো। এরসাথে জড়িত প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগের সাথেও সম্পৃক্ত হলেও বাংলাদেশের মানবাধিকার বিপন্ন হওয়ায় সচেতন বিশ্বকে তা যথাযথভাবে অবহিত ও প্রবাসীদেরকে সোচ্চার করার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণকল্পে এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেস, হোয়াইট হাউজ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, জাতিসংঘসহ মানবাধিক সংস্থায় স্মারকলিপি, আবেদন-নিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। এ ধরনের তৎপরতায় বৃটেন, কানাডাসহ ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসীরাও সম্পৃক্ত হয়েছেন। জাগরণ ঘটেছে ইউনূসের অপকর্ম-আর অপশাসনের বিরুদ্ধে-এমন তথ্যও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করার জঘন্য অপচেষ্টা রুখে দিতে দেশপ্রেমিক প্রতিটি প্রবাসীকে সরব হবার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করা হয় এ সময়।

সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, ‘অশান্তির জনক’ মুহম্মদ ইউনূসের মদদে ও পৃষ্টপোষকতায় বাংলাদেশে মানুষের মানবাধিকার লংঘনের ধারাবিবরণী বিশ্ববাসীকে সবিস্তারে অবহিত করা হচ্ছে। একসময় যারা ইউনূসের মিথ্যা বুলিতে আকৃষ্ট ছিলেন তারা ক্রমান্বয়ে তার ভয়ংকর চেহারা অবলোকনের পর তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরায় ইউনুসের লেলিয়ে দেয়া ঘাতকদের অপকর্মের কোন সংবাদই মানুষ জানতে সক্ষম হচ্ছেন না। হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে যে কয়েকজন বিবেকসম্পন্ন মানুষ টিভির টক শো-তে ইউনূস ও তার জঙ্গিদের স্বরূপ উদঘাটনের চেষ্টা করেন তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরকে শাসানো হচ্ছে চুপ থাকতে। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয় বাংলাদেশকে রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হবার জন্যে। মার্কিন বন্ধুদেরকেও ইউনূসের ‘ঘাতক-চেহারা’ অবহিত করতে প্রবাসীরা যেন সরব হন-সে আহবানও উচ্চারিত হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে জানানো হয়, বৈষম্য-বিরোধী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার টোপ দিয়ে ক্ষমতা দখলকারি ইউনূস ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা রাষ্ট্র-সমাজ-পরিবার ও ব্যক্তি পর্যায়ে যে ধরনের বৈষম্য তৈরী করেছে গত ১২ মাসে তা সকলকে হতবাক করেছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত একজন মানুষ কর্তৃক এমন বর্বরতা চলতে পারে-তা ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারেননি বিবেকবানরা-এমন স্পষ্ট উচ্চারণও করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গির। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রঞ্জিত ও দুই লক্ষাধিক মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে যে লাল সবুজের পতাকা বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের জন্ম, তা আজ দেশী-বিদেশী শকুনের থাবায় ক্ষত-বিক্ষত ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হচ্ছে গত বছরের তথাকথিত জুলাই- আগস্ট বিপ্লবের নামে । গত ১৫ বছর ৭ মাসের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে পশ্চিমা পরাশক্তির ‘ডিপ স্টেট’ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্যে ইউএসএইড কর্তৃক ৫০ মিলিয়ন ডলার, জর্জ সরোসের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ফাউন্ডেশনে ১৬২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দেশি কিছু দালাল ও পরজীবী শ্রেণীর এনজিও, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিক, কিশোর গ্যাং, হিজড়া, জঙ্গি জামাত-শিবির, হেফাজত, আইসিস, রোহিঙ্গা, বিহারী, বিএনপি নেতাদের একটি বিশেষ প্রভাবশালী দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সরিয়ে তাদের পছন্দের একজন পুতুল হিসেবে গরিবের রক্তচোষা, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করা, লোভী ও স্বার্থপর ড মুহাম্মদ ইউনূসকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসিয়ে একের পর এক করিডোর, বন্দর, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, ২৫ টি বোয়িং বিমান ক্রয়, উচ্চমূল্যে গম/তুলা/এলএনজি ক্রয়, উচ্চ শুল্ক ২০+১৫=৩৫% নির্ধারণে ‘এনডিএ’ (প্রকাশ করা হবে না এমন চুক্তি) করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছে।’ আরো বলা হয়, দেশে গণতন্ত্র আজ নির্বাসনে, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জেলে, ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিল, শত শত সাংবাদিক চাকুরিচ্যুত, দিবালোকে কূপিয়ে হত্যা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিহত, দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মী জেলে, ঘর বাড়ি ছাড়া, ধর্ষণ, মবসন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, শিক্ষক নিপীড়ন, প্রধান বিচারপতিদের ও অ্যাপিলেট ডিভিশন সহ বিচারপতিদের অপসারণ, গ্রেফতার, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় জুতার মালা পরিয়ে বেইজ্জতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক স্থম্ভ, ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের স্মৃতি বিজড়িত বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গুঁড়িয়ে দেয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কার্যক্রম, সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও ইতিহাস রিসেট বাটন চেপে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে গণশত্রু খুনী ফ্যাসিস্ট ইউনুস ও তার দোসররা।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মী এবং সুধীজনের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়,আজ এটা করো অজানা নয় যে, দখলদার ইউনুস একজন বাটপার, সুদের কারবারী, অর্থ আত্মসাৎকারী, মানিলন্ডারার, উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতিভূ, মবসন্ত্রাসের হোতা, শ্রমিকের অর্থ আত্মসাতের দায়ে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামী, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের পাওনা ৪৩৭ কোটি টাকা, গ্রামীণ কল্যাণ এর ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ, ৫ বছরের জন্যে গ্রামীণ ব্যাংকের কর রহিত, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামীণ জনশক্তি রফতানী, গ্রামীণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, গ্রামীণ ডিজিটাল ওয়ালেট সমাধান, স্টারলিংকের সাথে গ্রামীণের টেলিকম ব্যবসা, গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি শেয়ার কমিয়ে ৬০% থেকে ১০% এ নামিয়ে আনা, নিজের সাজা মওকুফ, শেয়ার বাজার থেকে এক লক্ষ কোটি টাকা লুট, বিদেশী বিনিয়োগ শূন্য, লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার, অর্থনীতি ধ্বংস, শিক্ষাঙ্গন অশান্ত ও দেশব্যাপী ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে । ১৮ কোটি মানুষকে বাঁচাতে আজ সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং এই দুঃশাসন থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে আসুন সকলে রুখে দাঁড়াই । মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল করি।

‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশ্ব গণমাধ্যমকে আহবান জানাচ্ছি, এই ইউনূসের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ নামক ছদ্মবেশে যে বর্বর দমননীতি চালানো হচ্ছে তা সারাবিশ্বের সামনে উম্মোচিত করুন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো জানানো হয় যে, ইউনূসকে হটিয়ে আইনের শাসন পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন কামনায় শীঘ্রই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us