নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম ‘ব্যারি গোল্ডওয়াটার স্কলারশিপ’ পেলেন একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’ত আমেরিকান শিক্ষার্থী আলভি খান (২৬)।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (স্টেম) এর গবেষণা কেরিয়ার তৈরীর ক্ষেত্রে অসামান্য নৈপুন্য প্রদর্শনকারি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কারের ধারাক্রমে ‘বারুক কলেজ’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষার্থীর এই লোভনীয়-মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার লাভকারি সৌভাগ্যবান-মেধাবি শিক্ষার্থী আলভি খান পাবনার সন্তান মো. আলিম খান আকাশ এবং নুরুন্নাহার নিশা দম্পতির জ্যেষ্ঠ পুত্র । আলভি খানের এই পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে গোটা কম্যুনিটি উৎফুল্ল-আনন্দিত। নিউইয়র্ক তথা গোটা আমেরিকায় খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বারুক কলেজ চলতি বছরের জন্যে এই পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করেছে একমাস আগে অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল। তবে তা আলভি খানের অভিভাবকের মাধ্যমে এ সংবাদদাতা জানতে পেরেছেন ১৫ মে বুধবার। এর আগে ব্যাপারটিকে জনসমক্ষে প্রকাশে সম্মত ছিলেন না আলভি খান। কারণ তিনি আরো অনেক দূর এগুতে চান নিজেকে প্রকাশের আগে।
সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক তথা কিউনির বারুক কলেজের ওয়াইসম্যান স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সে বায়ো ফিজিক্সে ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্যে অধ্যয়নরত আলভি খান ছিলেন সারা আমেরিকার ৫ সহস্রাধিক কলেজ-শিক্ষার্থীর একজন-যারা এই স্কলারশিপের আবেদন করেছিলেন। এরমধ্য থেকে বাছাই করা হয়েছিল ৪৪১ জনকে। ইউএস সিনেটর ব্যারি গোল্ডওয়াটার’র কর্মজীবনের ঐতিহ্য লালনের অভিপ্রায়ে এই পুরস্কারের প্রবর্তন করেছে ‘দ্য অ্যাক্সিলেন্স ইন এডুকেশন ফাউন্ডেশন’। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে মেধার ক্ষেত্রে সেরা শিক্ষার্থীর মধ্যে এই পুরস্কার/বৃত্তি প্রদান করা হয়। গ্র্যাজুয়েশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বার্ষিক সাড়ে ৭ হাজার ডলার করে এই বৃত্তির অর্থ টিউশন, ফি, বই ক্রয় এবং আবাসনের মতো ব্যয় নির্বাহের জন্যে প্রদান করা হবে।
বিশেষ সম্মানের এই স্কলারশিপ প্রাপ্তির ই-মেল দেখে আলভি খান আনন্দের আতিশয্যে অভিভ’ত হয়ে পড়েছিলেন, ‘গবেষণার অভিজ্ঞতা ও গভীরতায় নিবদ্ধ থাকা সত্বেও আমি যখোন ই-মেলটি ওপেন করেছি তখোন বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আমি তা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। কারণ, ঐ ৪৪১ জনের মধ্যে অনেকেই ছিলেন হার্ভার্ড এবং ক্যালটেকের মতো স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার অবকাঠামো এবং সুযোগ অনেক বেশী বলে তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় আমি জিতে যাবো তা ভাবতেও পারিনি’। আলভি খানের সরল স্বীকারোক্তি, ‘একটি সুবিধাবঞ্চিত পটভ’মি থেকে আসা সত্ত্বেও আমি অনুধাবনে সক্ষম হচ্ছিলাম যে, আমার অধ্যাবসায়, দক্ষতা ও আন্তরিকতা আমাকে এগিয়ে নেবেই। এবং সে আত্মবিশ্বাসেই আমি এওয়ার্ড/স্কলারশিপ অর্জনে সক্ষম হয়েছি।’
হোয়াইট হাউজ পরিভ্রমণে মা-বাবা-বোনের সাথে আলভি খান। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
আলভি এ পুরস্কারের জন্যে আবেদনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন কলেজের ন্যাচারাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক জ্যাচারি কালামারি, রামজি খুরি এবং পাবলো পিয়েক্সোটোর আগ্রহে। এ প্রসঙ্গে আলভি বলেন, ‘আমার সকল মেন্টর আমাকে নানাভাবে উৎসাহিত করেছেন, অবাধে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছেন, যা আমাকে উদিয়মান বিজ্ঞানী হিসেবে গড়ে উঠার পথ সুগম করে। আর এক্ষেত্রে ম্যানহাটানস্থ মাউন্ট শিনাই হাসপাতালের আইকাহন স্কুল অব মেডিসিনে নিউরোসায়েন্স ডিপার্টমেন্টের হারবার্ট উউ ল্যাবরেটরিতে স্বেচ্ছাসেবী-গবেষক হিসেবে কাজের সুযোগটিও অপরিসীম ভূমিকা রেখেছে। উল্লেখ্য, আলভি খান লাইফ সায়েন্সের গবেষণায় বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্যে এই স্কলারশিপ পেয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি স্নায়ু-বিজ্ঞান কেন্দ্রিক (নিউরোসায়েন্স ফোকাস প্রজেক্ট) ৩টি গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মাউন্ট শিনাইতে তিনি ইঁদুরের বুদ্ধিমত্তা কীভাবে অন্যকে প্রভাবিত করে তা নিয়ে গবেষণা করছেন। একইসাথে শিংযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্নায়ু বিকাশে জিনসমূহের প্রভাব নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছেন আলভি খান। ‘গোল্ডওয়াটার স্কলারশিপ’ তার এ গবেষণাকেও সাপোর্ট দিচ্ছে। আর এ গবেষণায় স্থানিক-নেভিগেশনের কম্প্যুটার মডেলে মাইটোকন্ড্রিয়্যাল গতিশীলতা অন্বেষন করে বলে জানালেন আলভি খান। মৃদুভাষী আলভি বললেন, স্নাতক স্কুলে নিউরোসায়েন্সে অধিকতর অধ্যয়নের সাথে গবেষণা কর্মে আরো বেশী মনোযোগী হবো সামনের দিনগুলোতে। আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো চিকিৎসা-বিজ্ঞানী হবার, যা রোগীর উত্তম চিকিৎসায় উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি একটি গবেষণাগার পরিচালনারও ইচ্ছা আছে। আলভি উল্লেখ করলেন, আনবিক ভিত্তিতে গবেষণার মাধ্যমে নিউরোসাইকিয়াট্রি ডিজঅর্ডার যেমন অটিজম, সিজোফ্রেনিয়া এবং আলঝেইমারের মত জটিল রোগের চিকিৎসায় নিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি এমন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হতে চাই। খান আরো জানালেন, এতদিন যা ভাবতেও পারিনি, তেমন একটি দিগন্ত আমার সামনে উম্মোচিত হলো এই গোল্ডওয়াটার স্কলারশিপের মাধ্যমে। অর্থাৎ অন্যান্য বৃত্তি, ফেলোশিপের মতো আমাকে আমার ক্লিনিক্যাল এবং বৈজ্ঞানিক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবার পথ সুগম করলো এই স্কলারশিপ/এওয়ার্ড।
বাবার সাথে পবিত্র মক্কায় ওমরাহ হজ্ব পালনরত আলভি খান। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
জাতীয় পুরস্কার লাভে বারুক কলেজ কীভাবে শিক্ষার্থীদেরকে উপযোগী করে সে প্রসঙ্গে কলেজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোল্ডওয়াটার স্কলারশিপ, ফুলব্রাইট এওয়ার্ড, গিলম্যান ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ, জিনেট কে ওয়াটসন ফেলোশিপ, ফ্রিম্যান-এশিয়া স্কলারশিপ, সোয়ার্জম্যান স্কলারশিপ লাভের যাবতীয় প্রক্রিয়ায় বিস্তারিতভাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিবেদিত থাকেন।
নিউইয়র্ক অঞ্চলের সেরা স্কুলের অন্যতম ‘স্টাইভ্যাসেন্ট হাই স্কুল’ থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে গ্র্যাজুয়েশনের পর বারুক কলেজে অধ্যয়নরত আলভি খানের ছোট বোন স্নেহা খানও ব্রুকলীন টেকের মতো আরেক সেরা হাই স্কুলে পড়ছেন। মানবিক গুণে গুনান্বিত হয়ে সন্তানের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের দোয়া চেয়েছেন এলমহার্স্টে বসবাসরত আলভির মা-বাবা বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির এমডি ও সিইও মো. আলিম খান আকাশ এবং নুরুন্নাহার নিশা।
Posted ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর