অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০১ মে ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ফাইল ছবি
মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ মাসেও আগের মতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকালে গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশী হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক কর্মকান্ড তেমন না থাকলেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দুস্কৃতিকারীদের হাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনার পর সাবেক সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ যে কোনো ব্যক্তিকে আন্দোলন বিরোধী বলে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা ও গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মার্চ মাসের ধারায় একইভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা যেমন; আত্মহত্যা, হত্যার ধারাবাহিকতা রয়েই গেছে, শিশু ও নারীদের প্রতি শারীরিক নির্যাতন বেড়েছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হুমকি ও হামলা তথা সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করার মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। এ মাসে কারা- হেফাজতে মৃত্যুর ধারাবাহিকতাও রয়ে গেছে। সনাতন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা বন্ধ হয় নাই। সীমান্তে হতাহতের মতো ঘটনা বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে। নির্যাতনের ঘটনা, বাংলাদেশী নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার অব্যাহত রয়েছে, গণপিটুনির মত আইন হাতে তুলে নেয়ার ঘটনাও বন্ধ করা যায়নি। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
মানবাধিকার লংঘনের এই ঘটনাগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বুধবার মানবাধিকার লংঘন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমমর্যাদা ও নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএসএফ জোর দাবি জানাচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৫ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গুলির একটি ঘটনায় ১জন নিহত ও অপর ১জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় বরিশালের উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সীমান্ত গ্রাম বাহেরঘাটে যৌথ বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে সিয়াম মোল্লা (২২) নামক এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার মামাতো ভাই কিশোর রাকিব মোল্লা পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। স্থানীয়রা জানান, সকালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার লোকজন মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে হাতাহাতি হয়। সন্ধ্যার পর যৌথ বাহিনী ফের অভিযানে গেলে মাদক কারবারিদের হামলার মুখে পড়ে। তখন তাদের ভাষ্যমতে আত্মরক্ষায় গুলি করলে দু’জন গুলিবিদ্ধ হন। এ বিষয়ে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।
এমএসএফ মনে করে, এ ধরনের প্রতিটি মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৫ মাসে থানা হেফাজতে একজনের মৃত্যুর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। থানা কর্তৃপক্ষের মতে ৩১ মার্চ, ২০২৫ দিবাগত রাত ১২.৩০ মিনিটের দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
সংশ্লিষ্ট পুলিশের মতে ঈদের ছুটি কাটাতে আসা ঈদের দিন ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার গার্মেন্টস কর্মী মোহাম্মদ হাসান (২৩) কে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে হাজতে আটকে রাখে। রাতেই হাজতে থাকা জায়নামাজ পেঁচিয়ে বাথরুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন । থানায় দায়িত্বরত সেন্ট্রি তা দেখতে পেয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পরদিন দুপুরে ভোলা সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হাসানের স্ত্রী নুর নাহারের দাবি, মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে মেয়ে পক্ষের লোকজন তার স্বামীকে মারধর করেছে। পুলিশও মিথ্যা মামলায় আসামি করে হাজতে নিয়েছে। হাসানের স্ত্রী নুর নাহার প্রশ্ন তোলেন থানা হাজতের মধ্যে একজন আসামি জায়নামাজ দিয়ে কীভাবে আত্মহত্যা করতে পারেন!
এমএসএফ মনে করে, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোন বন্দির মৃত্যু একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবী রাখে কারণ রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় কারো মৃত্যু জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করে।
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল ২০২৫ মাসে কারা হেফাজতে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ মাসে এর সংখ্যা ছিল ৬। এ মাসে ২ জন কয়েদি ও ৬ জন হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২জন, কিশোরগঞ্জ জেলা কারগোরে ১জন, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ১জন, গাজীপুর জেলা কারাগারে ১জন, সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে ১জন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার ১জন ও চট্রগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১জন বন্দি মারা যায়।
এমএসএফ মনে করে, কারা অভ্যন্তরে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি, বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হেফাজতে মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে তদন্ত করে, প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও মামলার সংখ্যা কমে গেলেও দুস্কৃতিকারি কর্তৃক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ঘটনাসহ রাজনৈতিক দলসমূহের নিজেদের অর্ন্তদ্বন্দ্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএনপি’র দলীয় কর্মীদের অর্ন্তদন্দ্ব লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে। যা জনমনে নিরাপত্তহীনতা ও ভীতির সৃষ্টি করেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল ২০২৫ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৯ টি ঘটনার শিকার হয়েছেন ৩২৯ জন। তাদের মধ্যে ৭ জন নিহত এবং ৩২২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ৬ জন নিহত ও অপর একজন বিএনপি কর্মী আওয়ামী লীগের কর্মী কর্তৃক নিহত হয়েছেন।
সহিংসতার ৪৯টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ৩০টি, বিএনপি-আওয়ামি লীগের সংঘর্ষে ৮ টি, বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষের ৪টি, বিএনপি-বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংঘর্ষের ১টি, বিএনপি-হেফাজত সংঘর্ষের ১টি, বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের ১টি, আওয়ামী-জামাত সংঘর্ষের ২টি, আওয়ামী লীগের অন্তদ্বন্দের সংঘর্ষে ১টি, আওয়ামী-এনসিপি সংঘর্ষের ১ টি ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৭ মার্চ রাজশাহীর তানোরে ইফতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত কৃষকদল নেতা নেকশার আলী (৩৫) ২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
৫ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সশস্ত্র সংঘর্ষে লাভলু মিয়া (৫০) নামে একজন নিহত হয়।
৭ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. সাইজুদ্দিন দেওয়ান (৪৫) নামের এক প্রবাসী নিহত হয়।
১৪ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত জসিম উদ্দিন ব্যাপারী (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি উল্লেখিত ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।
৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ জিহাদের মৃত্যু হয়েছে।
৫ এপ্রিল মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামে মসজিদ কমিটির উত্তোলিত টাকার হিসাব চাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় আহত মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্য মুন্সী মিরান হোসেনের (৪৩) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা জামিরুল ইসলামের নাকোলের সংস্লিষ্ট্যতা রয়েছে।
১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেত আব্দুর রশিদ (৫৫) কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা অমিত হাসানের বিরুদ্ধে।
এ মাসে রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের উপর দুস্কৃতিকারিদের হামলার ১৪ টি ঘটনা ঘটেছে এবং এ সকল ঘটনায় ১০ জন আহত ও ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২ জন রাজনৈতিক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা, ২ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ৩ জনকে পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন বিএনপি এবং ৩ জন আওয়ামি লীগের নেতা ও সমর্থক। দুস্কৃতিকারিদের এ ধরণের অপতৎপরতা রাজনীতিবিদদের জন্য হুমকি স্বরূপ। মুক্ত রাজনীতির জন্য বড় বাধা সৃষ্টি করবে।
চট্রগ্রামের রাউজানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গরিব উল্লাহপাড়া গ্রামের ভান্ডারী কলোনির একটি বাসায় ভাত খাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা যুবদলকর্মী মুহাম্মদ মানিক আবদুল্লাহকে (৩৬) গুলি করে হত্যা করে।
২১ এপ্রিল রাজধানীর হাতিরঝিলে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত যুবদল কর্মী আরিফ শিকদার (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
১৫ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তের হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিপুন সাহা (২৫) মারা গেছেন।
১১ এপ্রিল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বেধড়ক পিটুনির পর যুবলীগ কর্মী আবদুল কাদের ওরফে মিলন (৩৫) মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির লোকজন আবদুর রহিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।
২২ এপ্রিল, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রুবেল মিয়াকে (৩২) ঘরে প্রবেশ করে পিটিয়ে আহত করার তিনদিন পর তিনি মারা গিয়েছেন। নিহত রবেল মিয়ার স্ত্রীর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
১৯ এপ্রিল নাটোরের বড়াইগ্রামে আয়নাল হোসেন (৪৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২৬ এপ্রিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে মীর হোসেন ওরফে সাদ্দাম (৩১) নামের এক সাবেক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২২ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আবুল হাশেম (৪৮) নামে এক বিএনপির কর্মীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
১৫ এপ্রিল রাত আটটার দিকে স্থানীয় দুটি পক্ষের উত্তেজনার জেরে সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী তুষারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় চুরির অপবাদে ডাকা সালিসে না যাওয়ায় বাবা-ছেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন আবদুল গফুর (৫০) ও ছেলে মেহেদী হাসান (১৫)। নিহত আবদুল গফুর আওয়ামী কর্মী এবং অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান বিএনপির সমর্থক। নিহত ব্যক্তির পরিবারের দাবি সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ক্ষোভ ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর মামলা, গ্রেফতার ও অভিযুক্ত
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল ২০২৫ মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় ৩টি মামলা হয়েছে। মার্চ মাসে মামলা ছিল ৯টি। এ মাসে দায়েরকৃত ৩টি মামলার মধ্যে ২টি মামলার আসামি সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৫ আগস্ট ২০২৪ সরকার পতনের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত পটুয়াখালির বাউফলের কিশোর আশিকুর রহমান ওরফে হৃদয় (১৭) ৪ এপ্রিল মারা যান। তিনটি গুলির মধ্যে দুটি বের করা সম্ভব হলেও তার মাথার গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছিল সে। তার পরিবারের দাবি, আর্থিক অনটনের কারণে যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারেননি তাঁরা।
এ মাসে দায়েরকৃত কোটা আন্দোলনে মোট মামলায় আসামির তালিকায় সুনির্দিষ্টভাবে নাম রয়েছে প্রায় ৭১৫ জনের। সেইসঙ্গে ‘অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৭০০ জন।
সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগের ৩৮২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার হয়েছেন ১৭৪ জন এবং অন্যান্য মামলায় ২০৮ জন।
Posted ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ মে ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর