নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ অপরাহ্ণ
বিচারের নামে চলমান প্রহসন রুখতে সকলকে সোচ্চার হবার আহবান জানান সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এ মোমেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
‘আন্তর্জাতিক গণহত্যার শিকারদের স্মরণ ও গণহত্যার মত জঘন্য বর্বরতা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ‘জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন’র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশে চলমান অরাজক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সকল প্রবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, গত ১৫ মাসের বর্বতার পরিপ্রেক্ষিতে আমার ভীষণ ভয় হচ্ছে যে, ওরা আওয়ামী লীগের কারাবন্দি নেতাদেরকেও পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বরের মত শেষ করে দিতে পারে। তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি আরো বেশী সরব-সোচ্চার হবার জন্যে। আওয়ামী লীগ কী দোষ, করেছে, কী ভালো করেছে-সেগুলো বাদ দিয়ে দেশটাকে আমাদের বাঁচাতে হবে। এদেশ আমাদের। একসময় তলানীতে ছিলাম। তারপর শেখ হাসিনা এটাকে সম্ভাবনাময় দেশ, ল্যান্ড অব ভাইব্রেন্ট, ল্যান্ড অব অপচ্যুনিটিতে পরিণত করেছিলেন। এখোন আমরা আবার নীচের দিকে ধাবিতে হয়েছি। তাই এই দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আজকের এই বিশেষ দিনে এবং দেশে যাতে আরেকটি গণহত্যা না হয়, এই যে একটা, বর্তমানের মব কালচার তৈরী হচ্ছে, আমার তাতে ভয় হয়, এই মব কালচার হ্যাভ টু বি রিপ্লেস। বাংলাদেশে এত সুন্দর, ভ্যাল্যুজ প্রিন্সিপল ছিল, একটি প্রগেসিভ কান্ট্রি হিসেবে আমরা দুনিয়াতে মাথা উঁচু করে রেখেছিলা। এখোন একটা মব কালচারারে আমরা জিহাদি দেশে পরিণত হয়েছি। এটা আমাদের সকলের জন্যেই আতংকের।
ড. মোমেন উল্লেখ করেন, কথিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা গ্রহণকারিদের কারণে বাংলাদেশ আবারো তলাবিহীন ঝুরিতে পরিণত হয়েছে। দুই শতাধিক কল-কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৩০ লাখের অধিক শ্রমিক বেকার হয়েছেন-যার ৮০% হলেন নারী। তিনি উল্লেখ করেন যে, শেখ হাসিনার সরকার দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারি মানুষের সংখ্যা কমিয়ে ২২% এ এনেছিলেন। তা এখোন বেড়ে ৩০% এর কাছাকাছি এসেছে। এমন অব্যবস্থাপনা চলতে দিলে বাংলাদেশ আবারো ভিক্ষুকের রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. প্রদীপ করের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু এই সমাবেশে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠনের প্রেক্ষাপট এবং সেই আদালতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক‘ বিচারের নামে যে প্রহসন চলছে’ তা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন ঐ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম অমর। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্যে গঠিত হয় এই আদালত। জাতীয় সংসদের সংশোধন ব্যতিত কারো বিশেষ আদেশে সেই আদালতে একাত্তরের নির্দিষ্ট সময়ের আগে-পরের কোন অপরাধের বিচারের এখতিয়ার এ আদালতের নেই। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সহকারি এটর্নী জেনারেল এডভোকেট রকিবউদ্দিন মন্টু এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, প্রবীন সাংবাদিক এম ফজলুর রহমান, এডভোকেট জাকির হোসেন প্রমুখ। সকলেই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথিত এই আদালতে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তা বিচারের নামে তামাশা। ফরমায়েসি বিচার হিসেবে ইতিমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চিহ্নিত করেছে।
হোস্ট সংগঠনের অন্যতম নেতা এডভোকেট শাহ বখতিয়ারের সঞ্চালনায় শুরুতে একাত্তরে বাংলাদেশে পাক হায়েনা ও তার সহযোগীদের গণহত্যার ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদ, সম্ভ্রম হারানো দু’লক্ষাধিক মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকলে মোমবাতি জ্বালিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
সমাবেশে বিতরণ করা লিখিত বক্তব্যে ড. প্রদীপ কর উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক আলোচনায় যে আইনটিকে প্রায়শই “প্রহসন” হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে তা হল ২০২৫ সালে সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল)আইন, ১৯৭৩। ১৯৭৩ সালের আইন (সংশোধিত) এবং এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ট্রাইব্যুনালগুলিকে প্রায়শই প্রহসন হিসাবে চিহ্নিত করার কারণগুলি রাজনৈতিক কারসাজি, পক্ষপাত এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাবের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ এই আইনটি মূলত ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং বিরোধী দলগুলি সহ সমালোচকরা বেশ কয়েকটি মূল উদ্বেগের কারণে ট্রাইব্যুনাল এবং তাদের কার্যক্রমকে “প্রহসন” হিসাবে চিহ্নিত করেছেন: ১) আইনটি পর্যাপ্ত জনসাধারণের পরামর্শ বা সচেতনতা ছাড়াই বাস্তবায়িত হয়েছিল।২) এতে মূল শব্দগুলির স্পষ্ট সংজ্ঞার অভাব রয়েছে, যার ফলে অস্পষ্ট ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আইন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ব্যবহার: মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারী ‘দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ’ জারী করা হয়। একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি, ১ জুন ও ২৯ আগস্ট তারিখে তিন দফা সংশোধনীর পর আইনটি চূড়ান্ত হয়। দালাল আইন জারীর পর ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৩৭ হাজার ৪৭১ দালালকে গ্রেফতার করা হয়। ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এদের বিচার কাজ চললেও ২২ মাসে মাত্র ২ হাজার ৮৪৮টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়। এ-রায়ের মাধ্যমে ৭৫২ জন বিভিন্ন মেয়াদে দন্ডিত হন। ১৯৭৩ এর ৩০ নভেম্বর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ-ঘোষণার মাধ্যমে ২৬ হাজার ব্যক্তি মুক্তি পান। বাকীদের বিচার অব্যাহত থাকে। সাধারণ ক্ষমার প্রেস-নোটে বলা হয়, ‘ধর্ষণ. খুন, খুনের চেষ্টা, ঘর-বাড়ী অথবা জাহাজে অগ্নি সংযোগের দায়ে দন্ডিত ও অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হবে না। ১৯৭৩ সালের দালাল আইনে মতান্তরে প্রায় ৩৪,৬০০ অভিযুক্ত’র ভেতর অনেক ব্যক্তিকে ক্ষমা প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অপরাধগুলোর বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয় “আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর মূল কাঠামো অনুযায়ী, এটি একটি বিশেষ আইন যা প্রযোজ্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধসমূহের বিচারকাজে। সংবিধানের ৪৭(৩) ধারায় এই আইনকে ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা (retrospective effect) দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের আওতাধীন অপরাধ সমূহঃ এই ট্রাইব্যুনাল নিম্নোক্ত অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা দল, সেনাবাহিনী কিংবা তাদের সহযোগী সশস্ত্রবাহিনীর বিচারের ক্ষমতা রাখে। মানবতা বিরোধী অপরাধ (Crimes against Humanity); শান্তি বিরোধী অপরাধ (Crimes against Peace); যুদ্ধাপরাধ (War Crimes); ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন বিরোধী কাজ; আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যে কোন অপরাধ ইত্যাদি।
বিচারের নামে চলমান প্রহসন সম্পর্কে আলোকপাত করেন ড. প্রদীপ কর। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনে ২০০৯ সালে প্রথম সংশোধনী আনা হয়েছিল। ২০০৯ সালের ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কিছু সংশোধনী জাতীয় সংসদে ভোটে পাশ করা হয়। তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সংশোধনী বিলে বিদ্যমান আইনের ২১ ধারার পরিবর্তে নতুন ২১ ধারা প্রতিস্থাপনের বিধান করা হয়েছে। নতুন ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনের ৩ ধারায় উল্লেখিত অপরাধে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক খালাস আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা যাবে। নতুন ২১ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের খালাস আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে সরকার অথবা অভিযোগকারী অথবা তথ্য প্রদানকারী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
ট্রাইবুনাল, আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন: অবশেষে মানবতা বিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আবার ট্রাইবুনাল, আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়।
১৯৭৩ সালের ট্রাইবুনাল আইনে পরিবর্তন আনার এখতিয়ার শুধুমাত্র সংসদের: ১৯৭৩ সালের আইন একটি বিশেষায়িত ও সীমিত প্রসঙ্গ নির্ভর আইন, যা সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত। এই আইনে যেকোনো পরিবর্তন আনা শুধুমাত্র সংসদের এখতিয়ারভুক্ত। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ‘অধ্যাদেশের’ মাধ্যমে এই আইনের কার্যকারিতা সম্প্রসারিত করা হয়, যা একদিকে সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন, অন্যদিকে আইন ও সংসদের প্রতি অবজ্ঞার প্রতিফলন। এই আইন ছিল মূলত ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য। এই আইন কোনও সময়েই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, কিংবা গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের হাতিয়ার ছিল না।
বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে আইন সংশোধনী: তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থান বা দ্বিতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামের সময় সংঘটিত হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য নতুন করে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে সংশোধনী করা হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে ৩টি নতুন ধারা ও ২টি উপধারা যুক্ত করা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ধারাগুলো হলো- ৪এ, ১৩এ ও ২০এ এবং উপধারাগুলো হলো- ৩(৩) ও ১২(২)। এ ছাড়া সংশোধনের প্রস্তাব করা হয় ৩(২)(এ), ৪(২) ও ১৯ ধারায়।
একাত্তরের সকল শহীদ স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিরবতা পালন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
এটি একটি রাষ্ট্রীয় আইনঃ বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়াতে এই আইন সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি রাষ্ট্রীয় আইন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যে নৃশংসতা চালিয়েছিল তার বিচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এই আইন প্রণয়ন করে। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এই আইনই বিশ্বের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রণীত সর্বপ্রথম যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আইন, যা কিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সংক্রান্ত রোম সনদেরও আগে প্রণীত হয়েছিল।
১৯৭৩ সালের এই আইন বাংলাদেশ কোলাবরেটর (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার ১৯৭২-কে প্রতিস্থাপিত করেছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনটির মূল ভিত্তি: ১৯৭৩ সালের এই আইনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
Posted ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর