বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বিচার বিভাগকে রাজনীতি মুক্ত করতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নিয়োজিত অবশিষ্ঠ এটর্নীগণকেও বরখাস্তের জন্যে বিচার বিভাগের প্রতি আহবান জানানোর সাথে মঙ্গলবার আরেকটি নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ফেডারেল ট্রেড কমিশন, ফেডারেল কম্যুনিকেশন্স কমিশন এবং ন্যাশনাল লেবার রিলেশন্স বোর্ডে হোয়াইট হাউজের একক নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, দেড়শত বছর আগে মার্কিন কংগ্রেস এসব প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউজের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত রাখা তথা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণে পদক্ষেপ গ্রহণের স্বার্থে স্বাধীনভাবে পরিচালনার বিধি তৈরী করেছে এবং এতদিন সেভাবেই চলেছে। যদিও এসব সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের এখতিয়ার কেবলমাত্র প্রেসিডেন্টের। এর বাইরে কোন ধরনের খবরদারির সুযোগ নেই প্রেসিডেন্ট কিংবা হোয়াইট হাউজের। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে শপথ গ্রহণের পর ইলোন মাস্ক-কে সরকারী দফতরসমূহে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অভিপ্রায়ে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করায় ফেডারেল রিজার্ভ, আইআরএস-সহ অনেক দপ্তরের গোপন তথ্য জানতে চাওয়ায় আপত্তি উঠেছে। এমন আপত্তির অধিকার দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। বিশেষ করে নাগরিকদের সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর-সহ আয়-ব্যয়, সঞ্চয়ের ড্যাটা অবাধে পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়ায় বাধ সেধেছে সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। এতে ক্ষেপে গেছেন ইলোন মাস্ক। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে। সে সময় অবশ্য সংস্থাসমূহের বার্ষিক কর্মসূচি ও ব্যয়ের তথ্য হোয়াইট হাউজের বাজেট ও ম্যানেজমেন্ট অফিসকে অবহিত করতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ কংগ্রেসের বেধে দেয়া বিধি লংঘনের মত নির্দেশ দেননি প্রেসিডেন্ট রিগ্যান। কিন্তু ট্রাম্পের এই আদেশ সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে ১৮৮০ সালে কংগ্রেসের ঐ আইনকে। অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকসহ সবকটি সংস্থায় যা করা হবে তার অনুমতি প্রেসিডেন্টের কাছে থেকে নিতে হবে। এমন কোন প্রকল্প/পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে না যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছার পরিপন্থি হয় কিংবা ট্রাম্পের অগ্রাধিকার-প্রকল্পের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। অর্থাৎ স্বাধীনভাবে কিংবা জাতীয় স্বার্থে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কোনভাবেই সম্ভব হবে না। ট্রাম্পের এমন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির লিগ্যাল স্কলার পিটার এম শ্যানে বলেন, এভাবে স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। কংগ্রেসে এসব সংস্থাকে স্বাধীনতা দেয়ার নেপথ্যে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট কর্র্র্তৃক ঐসব সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়োজিত হলেও তাদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বরখাস্তের এখতিয়ার নেই হোয়াইট হাউজের। এমনি অবস্থায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কর্মরত সংস্থাসমূহের উদ্দেশে যে আদেশ জারি করা হয়েছে তা ক্ষমতার অপব্যবহারের সামিল। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রশাসনে ভারসাম্য সুরক্ষার ভীতকেও নড়বড়ে করবে।
মঙ্গলবারই নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোস্যাল’এ ট্রাম্প লিখেছেন, গত চার বছর বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল যা আগে কখনোই দেখা যায়নি। এজন্যেই আমি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি বাইডেন আমলে নিয়োজিত অবশিষ্ট সকল ইউএস এটর্নীকে টার্মিনেশনের জন্যে। আমাদেরকে অবশ্যই অতিশীঘ্র ‘ক্লিন হাউজ’ করতে হবে। এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, আমেরিকার স্বর্ণযুগে অবশ্যই সুষ্ঠু বিচার-ব্যবস্থা থাকতে হবে-যা আজ শুরু হলো’। | (The president posted on Truth Social, “Over the past four years, the Department of Justice has been politicized like never before. Therefore, I have instructed the termination of ALL remaining ‘Biden Era’ U.S. Attorneys. We must ‘clean house’ IMMEDIATELY, and restore confidence. America’s Golden Age must have a fair Justice System – THAT BEGINS TODAY!”)| প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউজে নয়া নেতৃত্ব এলে এর আগেও বিচার বিভাগে নয়া এটনী নিয়োগ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে পুরনোদের পদত্যাগের আহবান জানানো হয়। এবারের মত সরাসরি বরখাস্তের নির্দেশ দেয়া হয়নি। আরো উল্লেখ্য, বাইডেনের আমলে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয় এবং কয়েকটিতে দোষী সাব্যস্তও করা হয়েছিল। সে সময়েই ট্রাম্প বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং পুনরায় প্রেসিডেন্ট হতে পারলে বিচারক, এটর্নীসহ সকলকে কাঠ গড়ায় দাড় করানোর হুমকিও দিয়েছিলেন। তারই পরিপূরক পদক্ষেপ নিচ্ছেন এখোন-যা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার সাথে একেবারেই বেমানান বলে অভিজ্ঞজনেরা মন্তব্য করছেন। ট্রাম্পের এহেন পদক্ষেপের আঁচ পেয়ে সোমবারও বাইডেনের নিয়োজিত বেশ কজন ইউএস এটর্নী পদত্যাগ করেছেন। জানা গেছে, বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী ট্রাম্পের মনোনীত সকল ইউএস এটর্নীর অনুমোদন লাগবে সিনেট থেকে। সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে পর্যাপ্ত ভোট নেই। তাই ডেমক্র্যাটদের হাত করতে হবে অন্যান্য সুযোগ দানের মাধ্যমে।
Posted ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর