নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শনিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ফাইল ছবি
২০ হাজারের অধিক বাংলাদেশীসহ ১৫ লক্ষাধিক অভিবাসীর জন্যে চরম এক দু:সংবাদ দিলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিল কোর্ট’। ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিচারপতি কীথ ই হানসাকার প্রদত্ত রুলিংয়ে মেক্সিকো হয়ে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা এসাইলাম প্রার্থনা করে ‘প্যারল’-এ মুক্ত ছিলেন, তাদের সে অধিকার নেই বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ গত ৮ জুলাই আইসের (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টোড এম লিয়ন্স সকল ফিল্ড অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোন ধরনের ইন্সপেকশন ছাড়া অর্থাৎ বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীরা এসাইলামের প্রার্থনা করলেও প্যারলে মুক্তি পাবে না।
সাইলামের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ডিটেনশন সেন্টারে থাকতে হবে এবং এ বিষয়টি নির্দ্ধারণ করবেন এসাইলাম অফিসার। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন জোনাথন জেভিয়ার ইয়াজুরে হুরটাদো নামক ভেনিজুয়েলার একজন নাগরিক, যিনি ২০২২ সালে চোরাই পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। গত বছর প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত ভেনিজুয়েলারের নাগরিকদের জন্যে ‘টিপিএস’ (টেম্পরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস)’র নির্দেশ দিয়েছিলেন যার মেয়াদ শেষ হয়েছে এ বছরের ২ এপ্রিল। এরপরই তাকে আইস এজেন্টরা গ্রেফতার করে। এরপর তিনি ইমিগ্রেশন কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাননীয় জজ তা নাকচ করলে ‘বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিল’ কোর্টে গিয়েছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কীথ ই হানসাকার প্রদত্ত রুলিংয়ে বলেছেন যে, এসাইলামের আবেদনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাকে ডিটেনশন সেন্টারেই থাকতে হবে। সংবাদটি টলটলায়মান কম্যুনিটিকে আরো নাজুক অবস্থায় নিপতিত করলো। কারণ, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাইডেন ক্ষমতা গ্রহনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মেক্সিকো হয়ে ২২ লাখের অধিক বিদেশী জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে। এর প্রায় সকলেই ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ চেয়ে প্যারলে মুক্ত ছিলেন। এরা মাননীয় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বন্ড প্রদান করে মুক্ত ছিলেন। ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে কাজ-কর্মও করছেন প্রায় সকলেই। এমনি অবস্থায় ইমিগ্রেশন ইস্যুতে নির্বাহী বিভাগের সর্বোচ্চ আইনী ব্যবস্থা ‘বোর্ড অব আপিল’ এমন সিদ্ধান্ত দেয়ায় আরেক দফা ভীতিকর পরিস্থিতিতে নিপতিত হলো অভিবাসীরা। ইমিগ্রেশন এটর্নী এবং কম্যুনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে দালালকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ২০ হাজারের অধিক বাংলাদেশীও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেক্সিকোর দুর্গম সীমান্ত পাড়ি দিয়ে টেক্সাস/ক্যালিফোর্নিয়া/আরিজোনা/ওয়াশিংটন স্টেটে ঢুকেই সীমান্ত রক্ষীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এবং বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী বন্ড প্রদান করে প্যারলে মুক্ত রয়েছেন। তারা সকলেই চরম এক দুরাবস্থার ভিকটিম হলেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তারা এখোন মাননীয় আদালতে অথবা এসাইলাম অফিসারের নিকট হাজিরা দিতে গেলেই গ্রেফতারের শংকায় পড়লেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে অবৈধ অভিবাসী দমনে চলমান অভিযানে ক্ষত-বিক্ষত কম্যুনিটির ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর বিরুপ প্রভাব পড়বে। কারণ, প্যারলে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রায় সকলেই জীবিকার তাগিদে কোন না কোন কাজ করছিলেন। এখোন তারা আত্মগোপনে গেলেও কাজ পাবেন না। কিংবা কোন রেস্টুরেন্ট/দোকানদার/হোটেল-মোটেল কাজ দিলেও ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবেন না। কারণ, অবৈধদের কাজ প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
===========
Posted ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর