বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
শুক্রবার, ০৯ মে ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
২০৪৫ সালের মধ্যে বিল গেটস ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কর্মকান্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত জানালেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আর্ত-মানবতার সেবারত সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের বিল গেটস। ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল ৮ মে এবং সেদিনই মাইক্রো-সফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস নিজের ব্লগে পোস্ট করেছেন যে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে নিজের সম্পদের মোট ৯৯% তথা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার দাতব্য সংস্থাটির মাধ্যমে দান করবেন এবং এভাবেই গেটস ফাউন্ডেশনের বিলুপ্তি ঘটবে। ৬৯ বছর বয়েসী বিল গেটসের প্রত্যাশা পরলোকগমনের সময়ে তিনি ধনকুৃবের হিসেবে থাকতে চান না। অর্জিত সমস্ত অর্থ বিলিয়ে যেতে চান। বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবন বাঁচাতে ও তাদের জীবনমানের আরো উন্নতি ঘটাতে তার পুরো সম্পদই ব্যয় করবেন।
২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার মাধ্যমে এ যাবত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। উল্লেখ্য, শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী দরিদ্র জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রাণঘাতি রোগ সংক্রমণ রোধে অপরিসীম অবদান রেখে আসছে গেটস ফাউন্ডেশন। এ যাবত ৮২ মিলিয়ন তথা ৮ কোটি ২০ লক্ষাধিক মানুষকে টিকাদান, চিকিৎসাসেবা দেয়া ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ নানাবিধ সেবা দিয়েছে এই সংস্থা। বিল গেটসের দানকৃত অর্থ বিশ্বব্যাপি দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য সেবার এ পরিধি আরো বিস্তৃত করবে বলে অনেকের ধারণা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালেই গেটস ফাউন্ডেশনের বিলুপ্তির কথা বলেছিলেন বিল গেটস। ৩ বছর পর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি নিজের অর্জিত অর্থের পুরোটাই আর্ত-মানবতার সেবায় ব্যয়ের কথাও জানালেন ফাউন্ডেশনের সমাপ্তির নয়া সীমারেখা ঘোষণার মধ্যদিয়ে। এক্ষেত্রে খ্যাতনামা দানশীল অ্যান্ড্রোর কার্নেগির কাছে থেকে উদ্দীপনা পাবার কথাও জানান বিল গেটস।
সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে সাথে নিয়ে ২০০০ সালে বিশ্বের গরিবের চেয়েও গরিব জনগোষ্ঠির উন্নত জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গিকারে নিজের অর্জিত সম্পদ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।’ এতে বিশ্বের আরেক ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটও যুক্ত হন। ২০২১ সালে গেটসের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হবার পর ২০২৪ সালের মে মাসে ফাউন্ডেশন থেকে সরে যান মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ, এরপরই নয়া নাম হয় ‘গেটস ফাউন্ডেশন’। এবং একক চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন বিল গেটস। মৃত্যুর পরও যুগের পর যুগ এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন বিল গেটস। কিন্তু এখোন তার ধারণা, ‘আমরা সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই অর্জনে সক্ষম হবো যদি সেবামূলক প্রকল্পে অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দেই।’
বিল গেটসের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখোন ডোনাল্ড ট্রাম্প বহির্বিশ্বে সেবামূলক কর্মকান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মত ধনী দেশ যদি আর্ত-মানবতার সেবা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় তাহলে ব্যক্তি বিশেষের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা সম্ভব হলেও লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Posted ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ মে ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর